Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশে ফেরার পথে বাদুড়িয়ায় ধৃত ১১ রোহিঙ্গা, আটক আরও ১১ কিশোর

বাংলাদেশ সীমান্তের বাদুড়িয়ায় রোহিঙ্গা আতঙ্ক। চোরাপথে তাঁরা দেশে ঢুকে আশ্রয় নিয়েছিলেন হায়দরাবাদে। পরে, বাংলাদেশে যাওয়ার পথে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিসের হাতে ধরা পড়েন তাঁরা।

বাংলাদেশে ফেরার পথে বাদুড়িয়ায় ধৃত  ১১ রোহিঙ্গা, আটক আরও ১১ কিশোর
  • ১৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাংলাদেশ সীমান্তের বাদুড়িয়ায় রোহিঙ্গা আতঙ্ক। চোরাপথে তাঁরা দেশে ঢুকে আশ্রয় নিয়েছিলেন হায়দরাবাদে। পরে, বাংলাদেশে যাওয়ার পথে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিসের হাতে ধরা পড়েন তাঁরা। এ নিয়ে শোরগোল পড়েছে এলাকায়। বাদুড়িয়া সীমান্তে আটক হওয়া ২২ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বাকিরা নাবালক। তাদের আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁরা বাদুড়িয়ার লবঙ্গ গ্রামে একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে লুকিয়েছিলেন। শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই তা নজরে আসে গ্রামবাসীদের। প্রাথমিকভাবে পুলিস জানতে পেরেছে, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। তার মধ্যে চারজন মহিলা রয়েছেন। পরে, তাঁদের থানায় নিয়ে জেরা করে পুলিস।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে লবঙ্গ গ্রামের দূরত্ব মেরেকেটে চার কিলোমিটার হবে। ফলে, একসঙ্গে এত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী সীমান্তবর্তী গ্রামে জড়ো হওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা। দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিশেষ করে বিএসএফের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছে স্থানীয়দের একাংশ। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আদপে তাঁরা সকলেই মায়ানমারের বাসিন্দা। সেখান থেকে প্রথমে বাংলাদেশে ঢুকে রোহিঙ্গা ক‍্যাম্পে থাকতে শুরু করেন। সেখানে কিছুদিন থাকার পর চোরাপথে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসে হায়দরাবাদে থাকতে শুরু করেন। সেখানেই কাজ জুটিয়ে নেন। কেউ কেউ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ছিলেন সেখানে। অনেকেই থাকতেন সপরিবারে। বিশেষ সূত্রের খবর, বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করতে দেশজুড়ে ধরপাকড় শুরু হতেই হায়দরাবাদ থেকে এই ২২ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী পালিয়ে আসেন। এ রাজ্যে এসে তাঁরা বসিরহাটের একটি গোপন ডেরায় আশ্রয় নেন। পরে, বিপদ বুঝে সেখান থেকে সরে যান। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনটি অটোয় করে এসে তাঁরা আশ্রয় নেন বাদুড়িয়ার লবঙ্গ গ্রামের একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে। মহিলাদের মধ্যে দু’জন গর্ভবতী। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় পুলিস।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা অন্তু খান বলেন, তাঁরা মায়ানমারের বাসিন্দা। দালাল ধরে চোরাপথে বাংলাদেশে ফেরার ছক ছিল। তাঁরা কেউই বাংলা কথা বলতে পারেন না। বার্মিজ ও হিন্দি বলতে পারেন। তাঁদের পরিচয় জানার পর আমরা শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। আমরা চাই, বিএসএফ ও পুলিস এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। 
ধৃত মহম্মদ আলম বলেন, আমরা সকলেই মায়ানমারের লোক। হায়দরাবাদ থেকে এখানে এসেছি। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে যাচ্ছিলাম। রাতে এই ফাঁকা বাড়িতে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। কতদিন আগে ভারতে আসা হয়েছে? উত্তরে আলম বলে, ১০ বছর আগে ভারতে এসেছি। হায়দরাবাদে কাগজ ও ভাঙা প্লাস্টিক কুড়ানোর কাজ করতাম। বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, তাঁদের কাছে বৈধ কাগজপত্র নেই। ধৃতদের জেরা করে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ