নয়াদিল্লি ও ঢাকা: সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি (সেভেন সিস্টার্স) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতের সেভেন সিস্টার্স পুরোপুরি স্থলবেষ্টিত অঞ্চল। তাই সমুদ্রপথে এই অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগে বাংলাদেশই একমাত্র ভরসা। সেকথা মাথায় রেখে চীন তাদের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সাজাতে পারে। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইউনিসের ওই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত। কিন্তু সেই বিতর্কের রেশ কাটার আগেই ফের ইউনিসের নজরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। এবার নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যকে নিয়ে যৌথ অর্থনৈতিক কৌশল তৈরির পক্ষে সওয়াল করলেন তিনি। সেজন্য মূলত জলবিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সড়ক যোগাযোগকে পাখির চোখ করার কথা বললেন ইউনুস। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার কথায়, ‘বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও সেভেন সিস্টার্সকে নিয়ে সংযুক্ত আর্থিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। বিভাজিত নয়, একত্রিত হলেই বরং আমাদের লাভ।’ পাকিস্তানের সঙ্গে নয়াদিল্লির চলতি উত্তেজনার আবহেই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা যেভাবে ফের ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে টার্গেট করলেন, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। তবে এবিষয়ে রাত পর্যন্ত ভারতের কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন নেপালের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেপুটি স্পিকার ইন্দিরা রানা। ঢাকার নেপাল দূতাবাস আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানেই বক্তব্য রাখতে গিয়েই ফের ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রসঙ্গ তুলেছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস। অনুষ্ঠানে বিশেষ ভাবে উঠে আসে আঞ্চলিকভাবে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসঙ্গ। বিশেষ করে কথা হয় জলবিদ্যুৎ ক্ষেত্র প্রসঙ্গে। ইউনুস ও রানার আলোচনায় উঠে আসে গত বছর অক্টোবরে বাংলাদেশ-ভারত-নেপালের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তির প্রসঙ্গও। সেই চুক্তি মোতাবেক ভারতের ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশ নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে । ইউনুস ও রানা দু’জনেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিসর বৃদ্ধির পক্ষে সহমত হন। কিন্তু নেপালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মঞ্চে ইউনুস যেভাবে ফের ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করলেন, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।



