এআই নয়, ইরানের স্কুলে হামলার সিদ্ধান্ত মানুষেরই! মন্তব্য প্রাক্তন সিআইএ প্রধানের
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের মিনাব শহরের স্কুলে হামলা চালায় আমেরিকা। মার্কিন সেনার ইরান অভিযানের প্রথম দিনেই ওই হামলায় প্রাণ যায় অন্তত ১২৩ জন খুদে স্কুলপড়ুয়া সহ দেড়শোর বেশি মানুষের। এত শিশুর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। আমেরিকার তরফে পালটা দাবি করা হয়, ইচ্ছাকৃতভাবে ওই স্কুলটিকে টার্গেট করা হয়নি। মার্কিন সেনা যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সিস্টেম ব্যবহার করে, তার সাহায্যেই মিনাবের স্কুলে হামলা চালানো হয়। এতে মানুষের কোনো হাত নেই। এবার সেই যুক্তির সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রাক্তন ডিরেক্টর ডেভিড পেট্রেয়াস। তাঁর মতে, এটা ঠিক যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই স্কুলে হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল একজন মানুষই। অর্থাত্, মার্কিন সেনা চাইলেই একশোর বেশি শিশুর প্রাণ বাঁচানো যেত। কিন্তু তারা তা করেনি। একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় সিআইএ’র প্রাক্তন প্রধান বলেন, ‘মানুষই ট্রিগার টেনেছে। যন্ত্র শুধু সাহায্য করেছে। আসলে ওই ঘটনা ছিল মানুষের নেওয়া সিদ্ধান্ত। আমার মনে হয়, মেশিন নিজে থেকে হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এক্ষেত্রে একাধিক ভুল হয়েছে। শুধুমাত্র পশ্চিম এশিয়া নয়, ইউক্রেনেও এমন ঘটনা ঘটেছে, আমি নিশ্চিত।’ পেট্রেয়াসের মতে, এমন যন্ত্র তৈরি করা উচিত যা মানুষের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও নির্দেশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরানে হামলার আগে মার্কিন সেনাকে টার্গেট চিহ্নিত করতে বলা হয়। যাতে তেহরান পালটা হামলা চালাতে না পারে। প্রায় এক দশক আগে তৈরি মিনাবের স্কুলটির জমিতে আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌ-ঘাঁটি ছিল। কিন্তু পরে যে সেখানে স্কুল তৈরি হয়েছে, সেই তথ্য আর সেনার এআই সিস্টেমে ‘আপডেট’ করা হয়নি।

Advertisement