


ঢাকা: শরিফ ওসমান হাদি—আদ্যন্ত ‘ভারত-বিরোধী’ বলে পরিচিত এই নেতার খুনকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। তাঁর মৃত্যুর পর ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরে তাণ্ডব চালিয়েছে মৌলবাদীরা। আগুনে পুড়েছে সংবাদপত্রের অফিস, ছায়ানট-উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এত কিছু পরেও হাদির খুনিকে গ্রেফতার করতে পারেনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এই পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন নিহত ওসমানের দাদা শরিফ ওমর হাদি। মঙ্গলবার ঢাকার শাহবাগে এক সভায় দাঁড়িয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি করলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকে খুন করেছে মহম্মদ ইউনুসের সরকারই। সাধারণ নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে ওমর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন, আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন! তা আমরা কখনই হতে দেব না।’ এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তিনি। বলেছেন, ‘একটা জিনিস মনে রাখবেন, বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের আগে যাঁরা ক্ষমতাধর ছিলেন, যাঁরা রাষ্ট্রকে নিজেদের মনে করতেন, তাঁরা কিন্তু আজকে কেউ এই বাংলাদেশে নেই। তাঁরা পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ওসমান হাদির বিচার যদি না হয়, আপনারাও একদিন বাংলাদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হবেন।’ বুধবার এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই হইচই শুরু হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার ভরা রাস্তায় হাদির মাথায় গুলি করে দুষ্কৃতীরা। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মারা যান তিনি। এরপর থেকেই খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা তত্ত্ব উঠে আসতে শুরু করে। কারা গুলি চালাল? উদ্দেশ্যই বা কী? এরকম বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তার মধ্যেই ইউনুস সরকারের একাংশ দাবি করতে শুরু করে, ভারত বিরোধিতার জন্য হাদিকে খুন হতে হয়েছে। এর পিছনে দিল্লিরই হাত রয়েছে। আরও সন্দেহজনক বিষয় হল, অভিযুক্তদের নিয়ে বারবার বয়ান বদলেছে বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলিও। হাদিকে কবর দেওয়ার পর খুনিদের ধরার জন্য প্রশাসনকে সময় বেঁধে দিয়েছিল তাঁর সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। এবার খোদ হাদির দাদা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলায় ইউনুস সরকারের উপর চাপ আরও বাড়ল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মঙ্গলবার ঢাকার শাহবাগে ‘শহিদি শপথ’ নামে একটি কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ইনকিলাব মঞ্চ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাদির দাদা। সেখানে তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদি বলেছিল, ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্বাচন হতে হবে। সেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মাঠেও নেমেছিল। কিন্তু তাকে হত্যা করে নির্বাচনকেই বানচাল করার চেষ্টা হচ্ছে।’ অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ওমর বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার দায় আপনারা এড়াতে পারবেন না। আপনারা যদি মনে করেন, আর দু’মাস পরে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, বিদেশে চলে যাবেন। মনে রাখবেন, এই দেশের জনতা আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেই। আপনাদেরও বিচার হবে। আজ হোক, দশ বছর পরে হোক, বিচারের কাঠগড়ায় আপনাদের দাঁড়াতেই হবে। তাই সরকারকে অনুরোধ করব, দ্রুত খুনিদের আমাদের সামনে নিয়ে আসুন। নির্বাচনের পরিবেশ যাতে বিঘ্ন না হয়, তার জন্য খুনির বিচার করুন।’