


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: দেশের মানুষের ব্যক্তিগত সঞ্চয় কমছে। টান পড়ছে স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে জমা আমানতে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার। কিষান বিকাশ পত্র, পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ, ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট, রেকারিং ডিপোজিট, মান্থলি ইনকাম স্কিম বা টার্ম ডিপোজিটের মতো স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির জন্য সাধারণ মানুষ, বিশেষত গ্রামীণ এলাকার লোকজন ডাকঘরের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এগুলি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কতটা সজাগ, ডাকঘরগুলিতে তাঁরা পরিষেবাই বা কেমন পান, তা জানার উপায় নেই। এবার সেই সংক্রান্ত তথ্য জানতে দেশজুড়ে সমীক্ষা চালাচ্ছে মোদি সরকার। পরিষেবা নিয়ে এক থেকে পাঁচের মধ্যে রেটিং দেবেন সাধারণ মানুষ।
ভারতীয় ডাক বিভাগের দাবি, দেশের ৪ লক্ষ ৮০ হাজার গ্রামে এই সমীক্ষাপর্ব চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক। এত বড় পদক্ষেপ এর আগে কখনও নেওয়া হয়নি। মোট ২৮ লক্ষ ৬৩ হাজার পরিবারে এই সমীক্ষা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সাত হাজারেরও বেশি গ্রামে মোট ১ লক্ষ ৪৩ হাজার পরিবারে সেই প্রক্রিয়া চলবে। সিংহভাগ কাজই শেষের পথে, জানিয়েছেন দপ্তরের কর্তারা। তবে শুধু সঞ্চয় প্রকল্পই নয়, পার্সেল বা স্পিড পোস্ট এর মত অন্যান্য পরিষেবা গ্রামীণ এলাকায় কতটা পাওয়া যায়, সেই ব্যাপারেও সমীক্ষা চলছে।
গ্রামাঞ্চলের শাখা পোস্ট অফিসগুলিতে পরিষেবা দেন গ্রামীণ ডাক সেবকরা। তাঁরাই গ্রাম পিছু কুড়িটি পরিবারে দুয়ারে হাজির হয়ে সাধারণ মানুষের মতামত লিপিবদ্ধ করছেন। নাম, ঠিকানা, পেশা, বয়সের মতো সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি গ্রামবাসীদের জানাতে হচ্ছে পরিবারের বার্ষিক আয় কত! এছাড়া ডাকঘরের কাউন্টার থেকে বিক্রি হওয়া স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কতটা সচেতন, তাঁরা কোনও স্কিম কিনেছেন কি না, পরিবারের অন্য কোন সদস্য এর আগে বা বর্তমানে কোনও প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন কি না, ডাকঘরের যে নিজস্ব পোস্টাল লাইফ ইনস্যুরেন্স রয়েছে কিংবা ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্কের পরিষেবাগুলি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কতটা ওয়াকিবহাল—সব প্রশ্নেরই উত্তর জানতে চাইছেন ডাক সেবকরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিষেবা বা ডোরস্টেপ ব্যাঙ্কিং, হরেক রকমের বিমা, অনলাইন বিল পেমেন্ট, মানি ট্রান্সফার, মোবাইল ব্যাঙ্কিং সম্পর্কেও মতামত নেওয়া হচ্ছে। মোট ১০ দফায় বিভিন্ন পরিষেবা নিয়ে রেটিং করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। আরও ভালো পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষ পোস্ট অফিস থেকে কী কী চান, সেই সম্পর্কে বিশদে জানানোর সুযোগও রয়েছে সমীক্ষায়।
দেশজুড়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া আগে একটি পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছিল। তাতে অবশ্য মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেনি ডাকবিভাগ। তারা পরীক্ষা করে দেখেছে, সমীক্ষাটি ভুলে ভরা। কোথাও সাধারণ মানুষের মোবাইল নম্বর ঠিক নেই, তো কোথাও স্বল্প সঞ্চয় সংক্রান্ত তথ্যে ভুল রয়েছে। কোথাও আবার নিজের সুবিধা মতো পরপর বাড়ি ধরে সমীক্ষা চালিয়েছেন গ্রামীণ ডাক সেবক। রেটিংয়ের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ পরিষেবাই ‘এক্সিলেন্ট’ বা ‘দারুন’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ খোদ ডাক বিভাগের কর্তাদের। কারণ তাঁরা জানেন, এটা হতেই পারে না। পোস্ট অফিসের পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নন সিংহভাগ গ্রাহক। তাই নতুন করে দেশজোড়া সমীক্ষার পর সেই তথ্য ফের যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটি নামজাদা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাকে। তারপরও যুবকল্যাণ মন্ত্রকের কর্মীদের দিয়ে ‘স্যাম্পেল চেক’ করানো হবে। দপ্তরের কর্তারা জানিয়েছেন, সমীক্ষা শেষে ডাকঘরের পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও বিশেষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে মোদি সরকার।