নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাস্তা থেকে হেঁশেল। পেট্রল-ডিজেল হোক বা রান্নার গ্যাস। মোদি সরকারের মূল্যবৃদ্ধির জাঁতাকলে নাভিশ্বাস উঠছে আম জনতার। এরপরও কেন্দ্রের সাফাই, বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় ভারতে জ্বালানির দাম অনেক কম। সরবরাহও যথেষ্ট। নজরকাড়া বিষয় হল, কেন্দ্রের এমন দাবির পরই দেশের বাজারে জ্বালানি মহার্ঘ হয়ে ওঠে। এটা গত এক মাসের ট্রেন্ড। তাই আশঙ্কা বাড়ছে। আগামী দিনে পেট্রল-ডিজেল বা এলপিজির দাম ফের বাড়বে না তো? মে থেকে জুলাই মাস—এই পর্বে পেট্রল-ডিজেলের দাম ১৪ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির ইঙ্গিত আগেই সরকারের অন্দরমহলে পাওয়া গিয়েছে। তার উপর এখনও চলছে ‘ঘাটতি’র সাফাই। তাতেই আতঙ্ক দানা বাঁধছে সাধারণের মধ্যে।
গত কয়েক দিনে পেট্রল-ডিজেলের দাম চারবার বেড়েছে। পেট্রল বেড়েছে ৭ টাকা ৩৮ পয়সা। ডিজেল ৭ টাকা ৫৩ পয়সা। একইভাবে রান্নার গ্যাস। গত ৭ মার্চ বেড়েছিল ৬০ টাকা। শনিবার ফের ২৯ টাকা। সব মিলিয়ে তিন মাসে ৮৯ টাকা। দাম বাড়ানোর অজুহাত হিসাবে সরকার পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ‘শিখণ্ডী’ করছে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের মন্তব্য, পশ্চিম-এশিয়ার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। তবুও ভারতে এখনও বিশ্বের অন্যতম কম দামে মিলছে রান্নার গ্যাস। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ফলে একটি গৃহস্থের এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে এখন ১,৬০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। কিন্তু সরকার সামাল দিচ্ছে বলেই দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, ‘সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস হিসাবে নির্ধারিত হয় আমদানির খরচ। ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল এলপিজিতে টন প্রতি প্রায় ৫৪৩ মার্কিন ডলার। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে জুন মাসে তা বেড়ে হয়েছে ৭৯০ ডলার। এরপরও ভারতীয় গ্রাহকরা অনেক কম দামে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত তিন তেল কোম্পানির দিনে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে।’ এই খতিয়ানই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে মধ্যবিত্তের।
এই মূল্যবৃদ্ধির আগুনেও অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফের বিদেশ যাচ্ছেন। আগামী ১৫ জুন ফ্রান্স। ১৫-১৭ জুন জি-৭ বৈঠকে যোগ দেবেন মোদি। তারপর স্লোভাকিয়া। এর আগে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকালীন এই দেশে যাননি। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের তোপ, ‘সংসদে তো মোদীজি বলেছিলেন, পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধের কারণে ভারত ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে। তারপরও কেন দাম বাড়ছে? ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে উজ্জ্বলা যোজনায় ৩.৩০ কোটি পরিবার বছরে একবারও সিলিন্ডার রিফিল করায়নি। এই তথ্য পশ্চিম-এশিয়া সংকটের আগের। তাহলে?’