বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী ও অলকাভ নিয়োগী: কলকাতা ও বিধাননগর: হলুদ পোস্টকার্ড এখন বন্ধ ঘরে ‘ধুলোর স্মৃতি’। টিনের পুরানো ডাকবাক্সে মরচে ধরেছে। ভালোবাসার চিঠিও আর লেখে না কেউ। ডাকে আসা চিঠির জন্য তাই প্রতীক্ষাও নেই। তবু বছরভর প্রেমের মরশুম! আর প্রেমের সাক্ষী তো বরাবরই চকোলেট। অধুনা ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র দৌলতে ফেব্রুয়ারি নাকি প্রেমের মাস! তবে ততদিন অপেক্ষা করতে হবে না। এই ঘামঝরানো আর্দ্র জুনেই মিলবে চকোলেটের স্বাদ! এনে দেবেন পোস্টম্যান। তাও আবার যে সে চকোলেট নয়, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপহার—‘মেলোডি’। দুই প্রধানমন্ত্রীর সেই মিষ্টি ও বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাই মোদি-মেলোনির রসায়নে ভরপুর ওই মেলোডি চকোলেট কাছের মানুষের দরজায় পৌঁছে দেবে ডাকবিভাগ।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুয়ারে পৌঁছে যাবে ডাক। এই প্রতিশ্রুতিতে ভর করে ইন্ডিয়া পোস্ট চালু করেছে ‘২৪ স্পিড পোস্ট’। সেই পরিষেবার বিপণন কৌশলের অঙ্গ হিসাবেই মেলোডি চকোলেটকে সামনে আনছে ডাকবিভাগ। স্পিড পোস্টের মাধ্যমে প্রিয় মানুষের কাছে চকোলেট পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভালোবাসার বার্তা দিচ্ছে তারা। অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে ডাকবিভাগ বলছে, ‘মেলোডি এতো চকোলেটি কেন? এই চিরপরিচিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যদি হঠাৎ জিভে জল আসে, তবে আর অপেক্ষা কীসের? ২৪ স্পিড পোস্টের সুপারফাস্ট সার্ভিসের মাধ্যমে আপনার প্রিয় চকোলেট এখন সোজা পৌঁছে যাবে আপনার বা আপনার প্রিয়জনের দোরগোড়ায়, গ্যারান্টি সহকারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে!’ সেখানে মেলোডি চকোলেটের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘ভালোবাসার মানুষটিকে এবার মেলোডি পাঠিয়ে দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই!’ প্রচারের জন্য কেন এই অভিনব কৌশল? যাঁরা বিশ্বসংসারের খবর রাখেন, যাঁরা আধুনিক, তাঁদের সঙ্গে ডাকবিভাগের পরিষেবাকে আরও নিবিড় করতেই এই উদ্যোগ, দাবি ডাক বিভাগের কর্তাদের। পোস্টমাস্টার জেনারেল (সাউথ বেঙ্গল) এবং মেইল ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের দায়িত্বে থাকা ঋজু গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা বুকিংয়ের পর ২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি দেওয়ার যে প্রকল্প চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি, এটি তারই প্রচারের অংশ। নয়া প্রকল্পে বর্তমানে দিনে প্রায় সাড়ে চার হাজার বুকিং হচ্ছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া তা দৈনিক ১০ হাজারে নিয়ে যেতে বলেছেন। আমরা তা সফল করতে সবরকম চেষ্টা করছি। আমরা জনপ্রিয় ই-কমার্স সংস্থাগুলির সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছি, যাতে তারা পণ্য ডেলিভারির জন্য আমাদের ২৪ ঘণ্টায় পণ্য পোঁছে দেওয়ার প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে। একটি আন্তর্জাতিক ও প্রবল জনপ্রিয় ই-কমার্স সংস্থা যাতে তাদের প্রাইম গ্রাহকদের পণ্য অতি দ্রুত পোঁছে দিতে পারে, তা নিয়েও কথাবার্তা এগিয়েছে।’ ঋজুবাবুর কথায়, ‘ডাক বিভাগের সবচেয়ে বড়ো সম্পদ আমাদের ডেলিভারি কর্মীরা। বিশেষত নতুন প্রজন্মের গ্রাহকদের অনলাইনে কেনা পণ্য তাঁরা যদি পৌঁছে দেন, তাহলে এই প্রজন্মের আরও বেশি আস্থা পাবে ডাকবিভাগ। আমাদের কর্মীরা গ্রাহকের দুয়ারে পৌঁছে গিয়ে চটজলদি পরিষেবা দিতে পারলে ডাকবিভাগেরই সুনাম বাড়বে। ব্র্যান্ডিংও হবে।’ দপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, এই মুহূর্তে কলকাতা সহ ছ’টি মেট্রো শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডাক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ আছে। এর ব্যাপ্তি আরও বাড়ানো হবে। কলকাতার সঙ্গে হাওড়াকেও এই পরিষেবার আওতায় আনার তোড়জোড় চলছে। কলকাতা-শিলিগুড়ি এবং কলকাতা-গুয়াহাটির মধ্যে যাতে পরিষেবাটি চালু করা যায়, তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণও শুরু হয়েছে।