Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

গোল্ড লোনের দাপটে ব্যক্তিগত ঋণের  বাজার খানিকটা চাপে, ইঙ্গিত রিপোর্টে

গোল্ড লোনের কারণে ব্যক্তিগত ঋণের বাজারে চাপের ইঙ্গিত দিয়েছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট। বিস্তারিত জানুন কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ।

গোল্ড লোনের দাপটে ব্যক্তিগত ঋণের  বাজার খানিকটা চাপে, ইঙ্গিত রিপোর্টে
  • ৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত কয়েক বছরে লাফিয়ে বেড়েছে সোনার দাম। এদিকে সময়ের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে জনপ্রিয় হয়েছে সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও। গোল্ড লোন কি চিরাচরিত পার্সোনাল লোন বা ব্যক্তিগত ঋণের বাজারকে তেমনভাবে বাড়তে দিচ্ছে না? সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি সেই রিপোর্ট জানাচ্ছে, ক্রেডিট কার্ড থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি বা সমগোত্রীয় সামগ্রী কেনার জন্য ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে গত একবছরে।

Advertisement

ক্রেডিট ইনফরমেশন সংস্থা এক্সপেরিয়ান-এর দেওয়া একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার গত একবছরে সামান্যই। অথচ লাফিয়ে বেড়েছে গোল্ড লোন নেওয়ার প্রবণতা। সংস্থাটির হিসেব, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দেশে পার্সোনাল লোন দেওয়া হয়েছিল ৮০ হাজার কোটি টাকার। সেই সময় গোল্ড লোন দেওয়া হয় ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার। গত অক্টোবরে যখন এক লক্ষ কোটি টাকা ছিল মোট পার্সোনাল লোনের অঙ্ক, তখন গোল্ড লোনের অঙ্ক পৌঁছে যায় ২ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোল্ড লোন প্রদানের অঙ্ক ছিল ২ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা। ওই মাসে পার্সোনাল লোন দেওয়া হয় ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকার। গত মার্চে ব্যক্তিগত ঋণ প্রদানের অঙ্কের হেরফের খুব একটা না-হলেও, সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার অঙ্ক ফেব্রুয়ারির তুলনায় একটু কমে হয়েছে ২ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা। ক্রেডিট ইনফেরমেশন সংস্থাটির দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ তিনমাসে গ্রাহকদের মাথাপিছু পার্সোনাল লোন নেওয়ার গড় অঙ্ক ছিল ৭০ হাজার টাকা। ওই একই সময়ের নিরিখে গোল্ড লোন নেওয়ার অঙ্ক ছিল মাথাপিছু গড়ে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। 
কী পরিস্থিতি ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে? রিপোর্টটি জানাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষ তিনমাসে মাথা পিছু গড়ে ক্রেডিট কার্ডে খরচের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তা একবছর পর গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে তা বেড়ে হয় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। অন্যদিকে বৈদ্যুতিন বা ঘরের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে রিপোর্টটি। তারা বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে সাধারণ মানুষ এই ধরনের জিনিস কিনতে ঋণ নিয়ে, গড়ে ১৯ হাজার টাকা পেমেন্ট করেছিলেন। তা একবছরে বেড়ে ২২ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। তবে দু-চাকা গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা প্রায় একই ছিল বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে। গত একবছরে গড়ে ৯৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন বাইক বা স্কুটারের ক্রেতারা। চার-চাকা গাড়ির ক্ষেত্রে একবছরে সেই অঙ্ক ৮.৬ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ৮.৯ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ