Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

কাকে ভোট দিলে লাভ? নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় বাংলাদেশের হিন্দুরা

আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শেষবেলায় জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে বিএনপি, জামাত, এনসিপির মতো দলগুলি।

কাকে ভোট দিলে লাভ? নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় বাংলাদেশের হিন্দুরা
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শেষবেলায় জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে বিএনপি, জামাত, এনসিপির মতো দলগুলি। প্রতিশ্রুতির খামতি রাখতে রাজি নয় কেউই। শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বড়ো অংশ, বিশেষত হিন্দুরা সাধারণভাবে আওয়ামি লিগকে ভোট দিয়ে এসেছে। তাই আওয়ামি লিগ না থাকায় সেই সেই সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই এখন চর্চা চলছে। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর চরম অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। হিন্দুদের আশঙ্কা, নির্বাচনের পরেও পরিস্থিতি বদলানোর কোনো সম্ভবনা নেই। বরং চরমপন্থী জামাত যদি ক্ষমতায় চলে আসে, তাহলে অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। 

Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তরুণ সরকার। পড়ুয়াদের হাসিনা-বিরোধী আন্দোলন সামনে থেকে দেখেছেন। তাঁর মতে, গত ১৮ মাস বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জন্য কঠিন সময় গিয়েছে। সাধারণ মানুষ হয়ত নির্বাচন নিয়ে উত্সাহী। কিন্তু হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীরা ভয় নিয়েই ভোট দেবেন। তরুণ জানান, আওয়ামি লিগও ক্ষমতায় থাকার সময় কট্টরপন্থীদের উত্থান ঠেকাতে পারেনি। তবে, সেই সময় হিন্দুরা সরকারি চাকরি পেতেন। এখন সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাঁর। তপতী অধিকারী নামে এক তরুণীর দাবি, হাসিনা চাইলেই কট্টরপন্থীদের দমন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি বিএনপিকে শেষ করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। তবে, এরপরেও বাংলাদেশি হিন্দুদের মধ্যে আওয়ামি লিগের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে। যেমন ঢাকার বাসিন্দা ৭১ বছরের সৌরভ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ‘হাসিনা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। মানুষের পেটে ভাত ছিল, কাজ ছিল। হাসিনা যাওয়ার পর দেখুন, কী অবস্থা হয়েছে।’ আওয়ামি লিগকে 
ভোটে নিষিদ্ধ করা নিয়েও ক্ষুব্ধ সৌরভবাবু। তাঁর মতে, এখনও হাসিনার দল ৪০ শতাংশ ভোট পাওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ভয় পাচ্ছে।
কাকে ভোট দেবেন? বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য রঞ্জন কর্মকারের বক্তব্য, ‘আমরা নির্বাচন বয়কট করতে চাইছি। অনেক হিন্দুই তা করবে। তাঁরা টার্গেট না হওয়ার জন্য বুথে যাওয়ার ভান করবেন, কিন্তু ভোট না দিয়েই ফিরে আসবেন।’ রঞ্জনের দাবি, ‘আমরা সবসময়ই ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ চেয়ে এসেছি। কিন্তু সেই দাবি পূরণের জন্য এবারের নির্বাচনে কোনো দল নেই।’ বর্তমানে বাংলাদেশে ৮ শতাংশ হিন্দু ভোট রয়েছে। যা অন্তত ১০০টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তরুণ মনে করছেন, জামাতকে আটকাতে হিন্দুরা বিএনপিকে ঢেলে ভোট দেবে। তবে, তাতে আদৌ লাভ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাঁর। ওই ছাত্রের বক্তব্য, ‘যদি খুন বন্ধও হয়, হিন্দুদের অর্থনৈতিকভাবে পিষে মারার চেষ্টা হবে। তাঁদের চাকরিও দেওয়া হবে না।’ হিন্দুদের এই মনোভাব বুঝতে পেরে উদ্যোগী হয়েছে বিএনপি। তারা হিন্দুদের মন পেতে বার্তা দিয়ে প্রচার শুরু করেছে, দেওয়া হচ্ছে প্রতিশ্রুতিও। বাংলাভাষী নয়, এমন সংখ্যালঘুদেরও পাশে পেতে চাইছে তারেক রহমানের দল। 
সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই সংবিধান সংস্কার নিয়ে বাংলাদেশে গণভোটের আয়োজনও করা হয়েছে। মূলত সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে বাদ দেওয়ার জন্যই এই গণভোট। অন্তর্বর্তী সরকার খোলাখুলিই সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য প্রচার চালাচ্ছে। গণভোট নিয়েও উভয় সংকটে বাংলাদেশের হিন্দুরা। রঞ্জনের বক্তব্য, ‘সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দেওয়ার অর্থ নিজের গলা নিজে কাটা। আর যদি বিপক্ষে ভোট দিই, তাহলে আমাদের দেশবিরোধী তকমা দিয়ে হামলা করা হবে। তাই কী করব এখনও জানি না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ