ঢাকা: ‘ইউনুসের শাসন চাই না, সেনা শাসন চাই’। ‘বাংলাদেশে সেনা শাসন প্রতিষ্ঠা হোক’— সমাজমাধ্যমে হঠাত্ করেই এই দাবি উঠতে শুরু করায় নতুন করে সরগরম বাংলাদেশের রাজনীতি। পদ্মাপারের দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তার মোকাবিলায় সেনা শাসনই একমাত্র পথ বলে দাবি জানাতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষেরই একাংশ। শনিবার থেকে ঢাকা সহ বিভিন্ন বড়ো শহরে সেনা তত্পরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জল্পনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যেই শুক্রবার দুপুরের পর ঢাকার সেনা ক্যান্টনমেন্টে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করে ইউনুসের সমর্থক ছাত্র ও মৌলবাদীদের একাংশ। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের পদত্যাগের দাবি জানায় তারা। সেনাপ্রধান ভারতের সাহায্য নিয়ে আওয়ামি লিগকে ফের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন বলে দাবি তাদের।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ওইদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, শেখ হাসিনা যদি গত বছরের ৫ আগস্ট দেশত্যাগ না করতেন, তাহলে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিল ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতারা। হাসিনা দেশ না ছাড়লে অস্ত্র তুলে নেওয়ার ঘোষণা করা হত। আরেক ছাত্র নেতা নাহিদ ইসলাম এর জন্য ভিডিও বার্তাও তৈরি রেখেছিলেন বলেও দাবি করেছেন আসিফ। তারপরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সাধারণ পড়ুয়াদের আন্দোলনে অস্ত্র এল কোথা থেকে? তাহলে কি হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরানোর জন্য পড়ুয়াদের সামনে রেখে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হয়েছিল? এর মধ্যেই জামাত সহ মৌলবাদী সংগঠনগুলি দাবি তুলতে শুরু করেছে আওয়ামি লিগকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস ফের জানিয়েছেন, আপাতত আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। বিএনপিও চায় নির্বাচনে লড়ুক আওয়ামি লিগ।



