Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘সেনা-শাসন চাই’, সরগরম বাংলাদেশের রাজনীতি

শনিবার থেকে ঢাকা সহ বিভিন্ন বড়ো শহরে সেনা তত্পরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জল্পনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে

‘সেনা-শাসন চাই’, সরগরম বাংলাদেশের রাজনীতি
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: ‘ইউনুসের শাসন চাই না, সেনা শাসন চাই’। ‘বাংলাদেশে সেনা শাসন প্রতিষ্ঠা হোক’— সমাজমাধ্যমে হঠাত্ করেই এই দাবি উঠতে শুরু করায় নতুন করে সরগরম বাংলাদেশের রাজনীতি। পদ্মাপারের দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তার মোকাবিলায় সেনা শাসনই একমাত্র পথ বলে দাবি জানাতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষেরই একাংশ। শনিবার থেকে ঢাকা সহ বিভিন্ন বড়ো শহরে সেনা তত্পরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জল্পনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যেই শুক্রবার দুপুরের পর ঢাকার সেনা ক্যান্টনমেন্টে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করে ইউনুসের সমর্থক ছাত্র ও মৌলবাদীদের একাংশ। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের পদত্যাগের দাবি জানায় তারা। সেনাপ্রধান ভারতের সাহায্য নিয়ে আওয়ামি লিগকে ফের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন বলে দাবি তাদের।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ওইদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, শেখ হাসিনা যদি গত বছরের ৫ আগস্ট দেশত্যাগ না করতেন, তাহলে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিল ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতারা। হাসিনা দেশ না ছাড়লে অস্ত্র তুলে নেওয়ার ঘোষণা করা হত। আরেক ছাত্র নেতা নাহিদ ইসলাম এর জন্য ভিডিও বার্তাও তৈরি রেখেছিলেন বলেও দাবি করেছেন আসিফ। তারপরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সাধারণ পড়ুয়াদের আন্দোলনে অস্ত্র এল কোথা থেকে? তাহলে কি হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরানোর জন্য পড়ুয়াদের সামনে রেখে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হয়েছিল? এর মধ্যেই জামাত সহ মৌলবাদী সংগঠনগুলি দাবি তুলতে শুরু করেছে আওয়ামি লিগকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস ফের জানিয়েছেন, আপাতত আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। বিএনপিও চায় নির্বাচনে লড়ুক আওয়ামি লিগ।

Advertisement

 

হিন্দুদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরএসএসের

বাংলাদেশে ক্রমাগত হিন্দু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। বেঙ্গালুরুতে সঙ্ঘের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা (এবিপিএস)-র তিনদিনের বৈঠক শুরু হয়েছে । শনিবার ছিল সেই বৈঠকের দ্বিতীয় দিন। সেখানে বলা হয়েছে, হিন্দুদের উপর নির্যাতন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়। পদ্মাপারের দেশে রীতিমতো পরিকল্পনা করে হিন্দু ও অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালাচ্ছে মৌলবাদীরা। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে এদিনের বৈঠকে একটি প্রস্তাবও পাশ হয়েছে। এবিপিএসে আরও বলা হয়েছে, ঢাকায় ক্ষমতার হাতবদলের পর একের পর এক মঠ, মন্দির, দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। মূর্তি ভাঙচুর করা হচ্ছে, মহিলাদের অপহরণ করে ধর্ষণ, ধর্মান্তকরণের ঘটনা বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পাশাপাশি যেভাবে বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় যোগকে অস্বীকার করে তাকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে, তা সত্যের অপলাপ। বাংলাদেশের বাসিন্দাদের একাংশ ও বিদেশি শক্তি যেভাবে ক্রমাগত ভারত বিরোধী মতবাদ ছড়াচ্ছে, তা নিয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কে খারাপ প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশের মাটিতে ভারত বিরোধী মনোভাব ও পাকিস্তানের সক্রিয়তা যেভাবে বেড়েছে, তা ফাঁস করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও নেতাদের কাছে আবেদন করেছে আরএসএস নেতৃত্ব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ