কাঠমাণ্ডু: লিপুলেখ, কালাপানি, লিম্পিয়াধুরা নিয়ে ফের ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে জড়িয়েছে নেপাল। তাদের দাবি, জোর করে এই অঞ্চল দখল করেছে নয়াদিল্লি। যাবতীয় বিতর্কের মূলে রয়েছে ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি। অথচ সেই চুক্তির মূল নথি নাকি খুঁজেই পাচ্ছে না কাঠমাণ্ডু! সম্প্রতি সংসদে একথা জানিয়েছে নেপাল সরকার। সংসদীয় পর্যায়ে তদন্ত চালিয়েও লাভ হয়নি। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, আসল নথি না মিললে নিজেদের দাবি প্রমাণ করতে পারবে না কাঠমাণ্ডু। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো চাপে রয়েছে বালেন্দ্র শাহ প্রশাসন।
১৮১৫ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ ভারত ও নেপালের মধ্যে সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরের বছরের মার্চে তা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে নেপালের সীমান্ত নির্ধারণ করার অন্যতম মাধ্যম এই চুক্তি। সূত্রের খবর, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা মেটানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ। সেখানে লেখা রয়েছে, কালী নদী নেপালের পশ্চিম সীমান্ত। যদিও নদীর উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দু’পক্ষই। নেপালের দাবি, কালী নদীর উৎস লিম্পিয়াধুরায়। সেক্ষেত্রে নদীর পূর্বদিকে থাকা লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখ খাঠমাণ্ডুর অংশ। ভারত অবশ্য এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, লিপুলেখের নীচে
থাকা প্রস্রবণই কালী নদীর উৎস। সেক্ষেত্রে কালাপানি অবিভক্ত উত্তরপ্রদেশের পিথোরাগড় জেলার অংশ। এই দাবির স্বপক্ষে একাধিক প্রশাসনিক ও রাজস্ব সংক্রান্ত নথিও পেশ করেছে ভারত।
২০২০ সালের মে মাসে একটি রাস্তা উদ্বোধন করে নয়াদিল্লি। ৮০ কিমির এই রাস্তা উত্তরাখণ্ডকে লিপুলেখের সঙ্গে সংযুক্ত করে। তবে কৈলাশ মানসরোবর যাওয়ার এই রাস্তার প্রতিবাদে সরব হয় নেপাল। কাঠমাণ্ডু দাবি করে এই রাস্তা তাদের অঞ্চলের ভিতর দিয়ে গিয়েছে। এরপরেই একটি নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র তৈরি করে তৎকালীন ওলি সরকার। সেখানে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানিকে নেপালের অংশ হিসাবেই দেখানো হয়। দেশের সংবিধানে এই মানচিত্রটি যুক্ত করে প্রশাসন। জাতীয় প্রতীকেও বদল আনা হয়। এরইমধ্যে সম্প্রতি আরও একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি জানান, নেপাল ও ভারত একে অপরের অঞ্চল দখল করেছে। এদিকে লিপুলেখ দিয়ে ফের বাণিজ্য চালু করার কথা ঘোষণা করেছে ভারত-চীন। এই অবস্থায় ফের সুগৌলি চুক্তির খোঁজ শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত আসল নথি সরকারের হাতে আসেনি বলে জানা গিয়েছে। সংসদে এবিষয়ে বক্তব্য রাখেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। তিনি বলেন, ‘চুক্তির সরকারি নথি আমাদের কাছে আছে কি না তা স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল আর্কাইভে বেশ কিছু চুক্তি সংক্রান্ত নথি রয়েছে। সেগুলি আসল নথি কি না জানা নেই। তবে ১৮১৬ সুগৌলি চুক্তি ও ১৯৫০ সালে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত নথি নেপালের কাছে আছে।’