ইসলামাবাদ, ১৪ আগস্ট: বিশ্ব প্রবাহেই গা ভাসাবে পাকিস্তান। যখন গোটা বিশ্ব চাঁদ নিয়ে গবেষণায় নানান অভিযান চালাচ্ছে, এবার সেই ইঁদুর দৌড়ে সামিল পাকিস্তানও। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের চন্দ্র অভিযানের ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার চাঁদের মাটিতে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তান।
চীনের সহায়তায় ২০২৯ সালে প্রথম চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’ চাঁদে পাঠাবে পাকিস্তান। চীনের চ্যাং-ই মিশনের অংশ হিসাবে রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অবতরণ করবে। সেখান থেকেই নানান বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে এটি। ইসলামাবাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন এমনটাই জানিয়েছে। তাঁরা আরো জানান, এই চন্দ্রযানের নামকরণ নিয়ে একটি প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে প্রায় ৪০০০টিরও বেশি প্রস্তাব জমা পড়েছিল। এর মধ্যে সাতজন প্রতিযোগী এই ‘জিন্নাহ-১’ নামটি প্রস্তাব করেন। পরে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। এই নাম প্রস্তাব করে বাহাওয়ালনগরের ১৭ বছরের এক তরুণ বিজয়ী হন।
এই মিশনে ‘জিন্নাহ-১’ চাঁদের পৃষ্ঠের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাঁদ নিয়ে গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও চালাবে। এই মিশনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে। যেখানে দুর্গম ও অসমতল ভূখণ্ডের পাশাপাশি বরফের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা করবে এই চন্দ্রযান।
২০২৯ সালের এই পরিকল্পিত অভিযান সফল হলে ‘জিন্নাহ-১’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নেবে। চীনের চন্দ্র অভিযানের সহযোগী হিসেবে এই মিশন পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজস্ব চন্দ্র ও গভীর মহাকাশ গবেষণার পথও প্রশস্ত করতে পারে এমনটাই মনে করছে বিশেজ্ঞদের একাংশ।