


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নজিরবিহীন নির্দেশ। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের নথি যাচাইয়ের কাজে বিচার ব্যবস্থাকে নিযুক্ত করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। আগামী কাল, অর্থাৎ মঙ্গলবারই সেই কাজ শুরু করতে চলেছেন বিচারক এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা। প্রথম পর্যায়ে অন্তত ২৫০ জন বিচারক প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন বলেও জানা গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শনিবারই রাজ্য এবং কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। এরপর রবিবারও কমিশন এবং রাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন প্রধান বিচারপতি। সেখানে একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। কীভাবে নথি যাচাইয়ের কাজ হয়, সেই সংক্রান্ত কমিশনের যে গাইডলাইন রয়েছে তা বৈঠকে তুলে ধরেছেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। ঠিক হয়েছে, যে বিচারক এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা যাচাই করবেন, তাঁদের এই কাজের খুঁটিনাটি প্রশিক্ষণ আকারে তুলে ধরবেন কমিশনের ‘ল’ সেলের আধিকারিকরা। সোমবারই ২৫০ বিচারককে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। আর মঙ্গলবার থেকে নথি যাচাই। তবে এই ২৫০ জন থাকছেন প্রথম পর্যায়ে। তাঁদের মধ্যে এনডিপিএস এবং পকসো আদালতের ১০০ জন বিচারক রয়েছেন। এদিনই বিচারকদের নামের তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কমিশনে। পরবর্তীতে প্রতি বিধানসভার জন্য একজন বিচারক বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নিয়োগের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে হাইকোর্ট সূত্রে খবর। কারণ মনে করা হচ্ছে, ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ নথি যাচাই করতে হতে পারে বিচারকদের। এই কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে করা যায়, সেজন্য প্রতি জেলায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। কমিটিতে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য বিচারক, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপাররা।
রাজ্যের সিইও দপ্তর সূত্রে খবর, বিচারকদের যে নামের তালিকা পাওয়া গিয়েছে, সেই অনুযায়ী প্রথমে তাঁদের লগ ইন আইডি তৈরি হবে। তারপর ওটিপি দিয়ে সেই আইডিতে লগ ইন করবেন বিচারকরা। পোর্টালে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট বিচারক কোন বিধানসভায় কাজ করছেন, তাঁকে তা সিলেক্ট করতে হবে। সেখানে বুথভিত্তিক পার্ট নম্বর থাকবে। সেটি সিলেক্ট করলে, নিষ্পত্তির জন্য সিরিয়াল নম্বর-সহ ভোটারদের নামের তালিকা দেখা যাবে। প্রত্যেক ভোটারের নামের পাশে দু’টি অপশন থাকবে। একটায় ক্লিক করলে দেখা যাবে ইনিউমারেশন ফর্ম এবং সংশ্লিষ্ট ভোটার শুনানিতে কোন নথি জমা দিয়েছেন। এবং অন্যটিতে থাকবে ইআরও, এইআরও, মাইক্রো অবজার্ভার এবং বিএলওর মতো আধিকারিকদের তথ্য। স্ক্রুটিনিতে ভোটার সম্পর্কে কোন তথ্য আধিকারিকরা উল্লেখ করেছেন, সেটিও জানানো থাকবে। সবটা যাচাই করে বিচারক সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নেবেন। সেখানে দু’টি অপশন থাকবে, একটি ‘রিজেক্ট’ ও একটি ‘অ্যাকসেপ্টেড’। সেইসঙ্গে বিচারকের জন্য থাকবে একটি ‘কমেন্ট’ অপশনও। সেখানে তিনি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজের মতামত উল্লেখ করতে পারবেন।
এসআইআরের কাজের জন্য বিচারকরা নিয়োগ হলে তাঁদের এজলাসে থাকা মামলাগুলির বিচার প্রক্রিয়া যাতে থমকে না যায়, সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছিল শীর্ষ আদালত। সেইমতো বিষয়টি দেখভালের জন্য বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। এব্যাপারে এই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।