


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংবিধান সঙ্কটে এবং কাস্ট সেন্সাস চাই। এই দুই দাবির ঝড়ে লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে বেসামাল হয়ে গিয়েছিল বিজেপি। মুখ থুবড়ে পড়েছিল যোগী আদিত্যনাথ ও নরেন্দ্র মোদির ডাবল ইঞ্জিন ম্যাজিক। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল এই পরাজয়ের কারণ কী? দলিত মুসলিম জোট কি ইন্ডিয়া জোটকে বিপুলভাবে উত্তরপ্রদেশে জিতিয়ে দিল? এমতাবস্থায় উত্তরপ্রদেশ বিজেপির উচ্চবর্ণ অংশ সরব হয়েছে দলের কাছেই। অখিল ভারতীয় ব্রাহ্মণ মহাসভার সভাপতি এবং বিজেপি নেতা কে সি পান্ডে দাবি করেছেন, অবিলম্বে রাজ্যে এবং কেন্দ্রে উচ্চবর্ণ উন্নয়ন কমিশন গঠন করা হোক। অনগ্রসর কমিশন আছে। অনগ্রসরদের সংরক্ষণ আছে। সবদিক থেকে উচ্চবর্ণ ক্রমেই সরকারি নজর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই একইসঙ্গে কমিশন এবং উচ্চবর্ণদের জন্য একটি ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠন করা দরকার। তাঁয়র বক্তব্য, কাস্ট সেন্সাস যেমন হচ্ছে, সেটা স্বাগত জানাই। কিন্তু উচ্চবর্ণ কী দোষ করল? উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে এই মর্মে আবেদনও করা হয়েছে ব্রাহ্মণ মহাসভার পক্ষ থেকে। মহাসভার আরও দাবি, আম্বেদকর জয়ন্তীতে যেমন সরকারি ছুটি হয়ে থাকে, তেমনই পরশুরাম জয়ন্তীতেও ছুটি ঘোষণা করা হোক। এই মহাসভার দাবি যে, বিচ্ছিন্ন এক ঘটনা এমন নয়। কারণ বিজেপির উত্তরপ্রদেশের সহ সভাপতি দীনেশ কুমার শর্মা এই দাবিকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার রাজ্যে এই কমিশন গঠন করুক। কেন্দ্রকেও বলা হোক, জাতীয় স্তরে এই কমিশন ও ওয়েলফেয়ার বোর্ড তৈরি করতে। তিনি বলেছেন দেশে নানাবিধ জাতি ও সম্প্রদায়ের জন্য কমিশন আছে। উচ্চবর্ণরাই একঘরে। তাদের জন্য কোনও উন্নয়ন কর্মসূচি নেই।
এভাবে উচ্চবর্ণদের মধ্যে থেকেই এই দাবি ওঠায় বিজেপি চিন্তিত। কারণ অনগ্রসরদের জন্য মোদি সরকার বারংবার কল্যাণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সভা সমাবেশে প্রচারে ওই সম্প্রদায়কে ইতিবাচক বার্তাও দেওয়া হয়। কিন্তু উচ্চবর্ণরাই বিজেপির চিরকালীন নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক। এখন তারাও নিজেদের অবহেলিত মনে করলে সেটা বিজেপির পক্ষে যথেষ্ট উদ্বেগের।