মেয়েরা তো বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির নিয়মে চলে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো আমার শ্বশুরবাড়িতে হয় না। কালীপুজোর দিন লক্ষ্মীপুজো হয়। কিন্তু কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন বাড়িতে পুজো করতে আমার মাকে দেখেছি। মা, কাকিমার হাতে হাতে কাজ করতাম। সকলে খুব আনন্দ করতাম। সেসব বিয়ের পর মিস করতাম। হঠাৎই একবার শাশুড়ি মাকে বললাম, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করব। উনি বলেছিলেন, ইচ্ছে করেছে যখন অবশ্যই মায়ের পুজো করবে। সেবছর লক্ষ্মীপুজোর দিন ঠিক করেছিলাম পুজো করব। খুব তাড়াহুড়ো করে আয়োজন করতে হয়েছিল। আমার স্বামী ছোট লক্ষ্মীপ্রতিমা নিয়ে এসছিলেন। যে জায়গায় পুজো করি সেই জায়গাটা বড়। ওই মঞ্চে ছোট লক্ষ্মী প্রতিমা দেখে আমার মন ভরেনি। মনে হয়েছিল, একটু বড় প্রতিমা হলে ভালো হয়। তখন থেকে জোড়া লক্ষ্মী পুজো হয় আমাদের বাড়িতে। দুটো লক্ষ্মী ঠাকুরের মধ্যে একটি বড়। পাশে একটি ছোট লক্ষ্মী প্রতিমার পুজোও হয়। বড় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। ছোট প্রতিমা আমাদের ঘরের আসনে থেকে যায়।
লক্ষ্মী মেয়ে বলতে আসলে যা মনে হয়, নিজেকে সেটা বলতে পারি। সকলকে ভালো রাখার চেষ্টা করি। আমার কন্যা রাজনন্দিনী পুজোর সব কাজ করতে পারে। ওকে কিন্তু ছোট থেকে কোনও কিছু নিয়ে আমি চাপ দিইনি। ও সবটা দেখে শিখেছে। ওকে কোনও কিছু বলতে হয় না। আমাদের বাড়ির পুজোয় রাজনন্দিনীর এক বন্ধু খুব সুন্দর আলপনা দেয়। পুজোর সময় যেসব শাড়ি হয়, তার মধ্যে থেকেই লক্ষ্মীপুজোতে পরব বলে একটা বেছে রাখি প্রতি বছর। আটপৌরে করেই শাড়ি পরি। সঙ্গে সোনার গয়না। মা লক্ষ্মীর কৃপায় এভাবেই সবাইকে যেন আনন্দে রাখতে পারি, সেই আশীর্বাদ চাইব।



