নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাকরি টিকিয়ে রাখতে এসএসসি’র নিয়োগ পরীক্ষায় বসার পরদিনই আবার উচ্চ মাধ্যমিকের পরিদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে কয়েক হাজার শিক্ষককে। এঁদের অনেকেই আবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা টানা পরিচালনা করে একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় বসবেন। একনজরে দেখলে শিক্ষক এবং পরীক্ষার্থীর ভূমিকা গুলিয়ে যেতে পারে। তবে, এই আবর্তে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি কার্যত শিকেয় উঠেছে এমন শিক্ষকদের।
৭ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর রয়েছে এসএসসি’র পরীক্ষা। প্রথম পরীক্ষা নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য। আর ১৪ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের জন্য। অনেকে অবশ্য দু’টি পরীক্ষাতেই বসছেন। এদিকে, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পার্ট ওয়ান (তৃতীয় সেমেস্টার) পরীক্ষা। যে শিক্ষকরা নবম-দশম স্তরের নিয়োগ পরীক্ষা দেবেন, তাঁরা তার পরদিন থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের পরিদর্শকের ভূমিকা পালন করবেন। তবে, আসল সমস্যা একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষায় বসতে চলা শিক্ষক পদপ্রার্থীদের। উচ্চ মাধ্যমিকে টানা পরিদর্শকের ভূমিকা পালন করার পরে তাঁরা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের পরীক্ষায় বসবেন। ১৩ সেপ্টেম্বর উচ্চ মাধ্যমিকের গণিত, ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, মনোবিদ্যা এবং কৃষিবিদ্যার পরীক্ষা রয়েছে। আর ১৪ সেপ্টেম্বরই রয়েছে একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা।
দুর্গাপুরের এক শিক্ষক সুনীলকুমার ঘোষ যেমন এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কাউন্সিল নমিনির দায়িত্বে। তিনি ২০১৬ সালে নতুন স্কুলে চাকরি পেলেও বহু বছর থেকেই তিনি স্কুলশিক্ষক। চাইলে তিনি আগের চাকরিতে তিনি ফিরে যেতে পারেন। তবে বেতন কমে যাওয়া, কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ না পেয়ে দূরের স্কুলে যেতে বাধ্য হওয়ার সম্ভাবনা এড়াতে তিনিও পরীক্ষায় বসছেন। সুনীলবাবু বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে স্কুলে থাকতে হবে। প্রশ্নপত্র স্কুলে আসা থেকে শুরু করে উত্তরপত্র পাঠিয়ে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় আমাকে বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রস্তুতি নেব কখন? সরকার নতুন নিয়োগের আগে কর্মরতদের কাউন্সেলিং করে স্কুল দিয়ে দিলে পরীক্ষায় বসতাম না। এরকম কোনও উদ্যোগ তো সরকার নিচ্ছে না।’
চাকরিহারাদের আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ে আগাগোড়া জড়িয়ে ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষিকা স্মার্তি রায়। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট আর সুপ্রিম কোর্টে ছোটাছুটি করেই সময় এবং এনার্জি শেষ হয়ে গেল। তার আগে আন্দোলন তো ছিলই। দু’সপ্তাহও সময় পাচ্ছি না প্রস্তুতি নেওয়ার। খুবই দমে গিয়েছি কোর্টের রায়ের পরে। পরীক্ষা যে দিতেই হবে, সেটা বিশ্বাস করতেই সময় লেগে গিয়েছে। এদিকে, উচ্চ মাধ্যমিকের দায়িত্ব না থাকলেও একাদশের পরীক্ষায় গার্ড দিতে হবে।’ যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের নেতা চিন্ময় মণ্ডল, মেহবুব মণ্ডলদেরও একই অবস্থা। চিন্ময় বলেন, ‘দ্বাদশের কেন্দ্র হয়েছে এমন স্কুলে যোগ্য চাকরিহারাদের পরিদর্শক হতেই হচ্ছে। আর আমাদের তো আন্দোলনে আর পুলিশের কাছে হাজিরায় সময় কেটে গিয়েছে। প্রস্তুতির সুযোগই পাইনি। পরীক্ষায় আমরা নতুনদের কাছে দশ গোল খাব। যেসব যোগ্য শিক্ষক পরীক্ষায় বসেও উত্তীর্ণ হতে পারবেন না, তাঁদের জন্য কী ব্যবস্থা নেবে সরকার?’