তন্ময় সাহা, কলকাতা: সময় নদীর মতো। বহমান। চলতে চলতে সে একদিকে পাড় ভাঙে। অন্যদিকে গড়ে। এ নিয়ম অনন্ত। এ ভাঙা-গড়া নিরন্তর। তেমনই সর্বদা ঘূর্ণায়মান জন্ম ও মৃত্যুর কালচক্রও। এই ধারাবাহিকতার, এই স্রোতের ধারক, বাহক ও নিয়ন্ত্রক একজনই। তিনি মহামায়া। সৃষ্টি থেকে ধ্বংস, ফের সৃষ্টি, এই বয়ে চলা স্রোতমুখের উৎস তিনিই। সময়, নদী ও দেবীর এই আশ্চর্য মেলবন্ধনই এবার থিম উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের। নাম, ‘স্রোতস্বিনী’।
নদী ধরে যেতে হাজার বাঁকপথ। হাজার মোড়। চোরবাগান সে গতিপথ ধরেই হেঁটেছে। মণ্ডপে প্রবেশের পথ সোজা নয়। নদীর মতোই বেঁকে পৌঁছেছে মূল অংশে। দেওয়ালে আদিম যুগের গুহাচিত্র। সে সব ছবি তৈরি হয়েছে। মণ্ডপের অন্দরে
ঢুকলে বিবর্তনের অনুষঙ্গ। তা ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীরা। প্রতিমার পাশে কালচক্রের দ্যোতক হিসেবে রাখা বিশাল ঘড়ি। মণ্ডপের থাকা দেবী মূর্তির হাতে অস্ত্র নেই। আছে কলসি। তা থেকে জীবনরূপ জল দান করছেন তিনি। তার সন্তান সন্ততিরা রয়েছেন নীচে।
নৌকার উপর। থিম ও মূর্তি শিল্পী সুব্রত মৃধা। আলো প্রেমেন্দুবিকাশ চাকীর। এবার চোরবাগানের ৯০ বছর।
জীবনানন্দের কথায়, ‘পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন...’ সেই অসুস্থ অন্ধকার থেকে মুক্তি খুঁজতে আলোর উৎসের দিকে হাঁটা। সেই সন্ধানেই ব্যাপ্ত ওয়েলিংটন নাগরিক কল্যাণ সমিতি। বাঙালির সূর্য হলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত একটি আলো। ফলে তিনি বাঙালির আলোর পথের দিশারিও বটে। রক্তকরবী,
রাজা, অচলায়তন সহ বিভিন্ন সৃষ্টিকর্ম দিয়ে সেজে উঠেছে এখানকার মণ্ডপ। শিল্পী রবীন রায়। তাঁর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা মণ্ডপ নতুন আলোর দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন পুজো উদ্যোক্তারা। শিল্পী সুরজিত পাল তৈরি করেছেন প্রতিমা।