মা লক্ষ্মীকে আমি প্রতিবছর নিজের হাতে সাজাই। কোনওবারই আগে থেকে ঠিক করা হয় না। মা যেমনটা সাজতে চান, তেমনটা সাজেন। কোনওবার রাজস্থানি ঘাগরা পরাই। কোনওবার লালপেড়ে সাদা শাড়ির বাঙালি সাজ। এটা আমার শ্বশুরবাড়ির পুজো। শাশুড়ি মা শুরু করেছিলেন। আমার মাও কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করতেন। নিজেই করে নিতেন। আমাদের বাড়িতে কুললক্ষ্মী আছেন। বছরে তিনবার মায়ের সেবা হয়। লক্ষ্মীপুজোর দিন আলাদা করে পুজো হয় না। বাপের বাড়িতে কুনকের লক্ষ্মী। উনি বছরে তিনবার বেরন। তিনবার পুজো হয়।
লক্ষ্মীপুজোর সাজ একেবারে সাবেকি। লাল পাড় সাদা শাড়ি। অথবা লাল শাড়ি পরব। সঙ্গে সোনার গয়না। মায়ের কাছে সব সময় যা চাই, সেটাই চাইব পুজোর দিনও। সব মানুষ যাতে ভালো থাকে, শান্তিতে থাকে। অল্পে মানুষ সুখী হলে শান্তি আসবে। সমাজ এখনও লক্ষ্মী মেয়ে বলতে ভাবে যে কোনও কিছুতেই প্রতিবাদ করতে পারে না। চুপ করে থাকে। মেয়েদের তো এটাই ছোট থেকে শেখানো হয়। লক্ষ্মী হলেন সমৃদ্ধির দেবী। নিজের ভিতরের অসুরকে বধ করতে না পারলে সমৃদ্ধ হব কী করে? সামাজিক, পারিপার্শ্বিক শত্রুকে বধ করতে না পারলে আমি কীসের সমৃদ্ধ হলাম? মা সকলকে আগলে রাখুন, শান্তিতে রাখুন— এটাই একমাত্র প্রার্থনা।