Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব অটুট আস্থার হাজার বছর (১০২৬-২০২৬)

সোমনাথ... এই নাম আমাদের হৃদয়ে গর্বের সঞ্চার করে। ভারতের অন্তরাত্মার এক শাশ্বত আহ্বান। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ স্তোত্রে ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের উল্লেখ রয়েছে। স্তোত্রটি শুরু হয়েছে ‘সৌরাষ্ট্রে সোমনাথং চ...’  দিয়ে। যা প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে গুজরাতের প্রভাস পাটানের সোমনাথ মন্দিরের ঐতিহ্যগত ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বের প্রতীক।

সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব অটুট আস্থার হাজার বছর (১০২৬-২০২৬)
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নরেন্দ্র মোদি (প্রধানমন্ত্রী): সোমনাথ... এই নাম আমাদের হৃদয়ে গর্বের সঞ্চার করে। ভারতের অন্তরাত্মার এক শাশ্বত আহ্বান। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ স্তোত্রে ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের উল্লেখ রয়েছে। স্তোত্রটি শুরু হয়েছে ‘সৌরাষ্ট্রে সোমনাথং চ...’  দিয়ে। যা প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে গুজরাতের প্রভাস পাটানের সোমনাথ মন্দিরের ঐতিহ্যগত ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বের প্রতীক। এখানে শিবলিঙ্গ দর্শনে পুণ্যার্থীরা সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়ে যান। মনস্কামনা পূর্ণ হয়। দুঃখের বিষয় হল, লক্ষ লক্ষ মানুষের এই সাধনক্ষেত্র বারবার বিদেশি হামলার শিকার হয়েছে। মন্দির রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছিলেন সাহসীরা। গর্বের বিষয় হল, এই মাটিতেই অহল্যাবাঈ হোলকারের মতো মহিয়সীদের জন্ম হয়েছে। সোমনাথ মন্দিরে যাতে সাধারণ মানুষ প্রার্থনা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন তিনি। ১৮৯০-এর দিকে স্বামী বিবেকানন্দও সোমনাথ মন্দির পরিদর্শন করেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর মনকে ছুঁয়ে গিয়েছিল। ১৮৯৭ সালে চেন্নাইতে এক বক্তব্যেও সেকথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ২০২৬ সাল সোমনাথ মন্দিরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ঠিক হাজার বছর আগে এই তীর্থস্থান প্রথমবার বিদেশি শক্তির হানার মুখে পড়ে। ১০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে গজনির মামুদ এখানে হামলা চালিয়েছিলেন। সংস্কারের পর ১৯৫১ সালের ১১ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডাঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের উপস্থিতিতে মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। এই ২০২৬ সালেই সেই উদ্যোগের ৭৫ বছর সম্পন্ন হচ্ছে। 

Advertisement

স্বাধীনতার পর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের উদ্যোগে মন্দির পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু মন্দিরের সংস্কারে একেবারেই আগ্রহী ছিলেন না। তিনি চেয়েছিলেন, এই ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি বা অন্য কোনও মন্ত্রী যেন যুক্ত না হন। বহু প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এই মন্দির আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে। এই একই প্রাণশক্তি আমাদের জাতির মধ্যেও দৃশ্যমান। যার জেরে গোটা বিশ্ব এখন আমাদের উদ্ভাবনী যুব সম্প্রদায়ের উপর বিনিয়োগ করতে চাইছে। অতীতের হামলাকারীরা আজ হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, সোমনাথ এখনও উজ্জ্বল। ঘৃণা ও ধর্মান্ধতা কিছু মুহূর্তকে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু, দৈব শক্তির প্রতি আস্থার মধ্যে সবকিছু নতুনভাবে সৃষ্টির ক্ষমতা রয়েছে। সোমনাথ মন্দির যদি বারবার উঠে দাঁড়াতে পারে, তাহলে আমরা অবশ্যই অতীত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারব। জয় সোমনাথ! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ