নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পার্টির কেউ কেউ আমায় তাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দিলীপ ঘোষ নিজে কখনও দলত্যাগের কথা বলেননি। আগামী ২১ জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের মঞ্চে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে যখন তুমুল চর্চা চলছে, তখনই নিজস্ব কায়দায় ফের বোমা ফাটালেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি। ফের কাঠগড়ায় তুললেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের একটি অংশকে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এক্ষেত্রে দিলীপবাবুর অভিযোগের আঙুল দলবদলু নেতাদের দিকেই। তাঁদের বিরুদ্ধে আগেও সোচ্চার হয়েছেন তিনি। আর সাত-আট মাসের মাথায় রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর এহেন মন্তব্য নিঃসন্দেহে চরম বেকায়দায় ফেলবে বাংলার গেরুয়া শিবিরকে।
বুধবার সস্ত্রীক দিল্লিতে এসেছেন দিলীপবাবু। এদিন বিকেলেই নয়াদিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা শিবপ্রকাশের সঙ্গে দেখাও করেছেন তাঁরা। সাক্ষাতের পর দিলীপবাবু বলেন, শুধুমাত্র নতুন রাজ্য সভাপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডাক না পাওয়াই নয়। আরও অনেক বিষয় আছে। লোকসভা নির্বাচনের পর বিগত প্রায় এক বছর আমায় সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় কোনও দায়িত্বই দেয়নি বিজেপি। এমনকী পার্টির বিভিন্ন বৈঠকে আমাকে বসার জন্য চেয়ার পর্যন্ত দেওয়া হতো না। আমি বরাবরের মতোই পার্টির কাজ করে গিয়েছে। দীঘায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করা নিয়ে তাঁর মন্তব্য, আমি কারও প্রশংসা করিওনি। আমি বলেছিলাম যে, যারা এত বড় বড় কথা বলছে, তাদের বিরুদ্ধে এত কেস আছে। অথচ যার বিরুদ্ধে কেস নেই, চোর ডাকাত প্রমাণ করা যায়নি, তার সঙ্গে আমি বসতেই এত বড় চর্চা হয়ে গেল? দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছে যে, মান অভিমানের জেরে দিলীপবাবু হয় তৃণমূলে যোগ দেবেন, নাহলে নির্বাচনের আগে নতুন একটি হিন্দুত্ববাদী মঞ্চ খুলবেন। বুধবার এই সংক্রান্ত বিষয়ে ‘বর্তমান’-এর প্রশ্নের উত্তরে ইঙ্গিতপূর্ণভাবেই বললেন, দলে কোনও মান অভিমান চলে না। অন্য মঞ্চ খোলা নিয়েও জল্পনা চলবেই। ২১ জুলাইয়ের দিন তা আরও বাড়বে। যাদের যা করার, তাদের তা করতে দিন। দিলীপবাবু বলেন, গত লোকসভা ভোটে আমার আসন পাল্টে কী ক্ষতি হয়েছে, তা দল বুঝতে পেরেছে। বিধানসভা নির্বাচনে দল যে দায়িত্ব দেবে, আমি সেটি পালন করব। যদি দল ভোটে প্রার্থী হতে বলে, তাহলে নির্বাচনেও লড়াই করব।
এদিকে, আজ দিল্লিতে আসছেন রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বেলা ১টা নাগাদ দিল্লিতে পৌঁছবেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মিটিং হতে পারে। সেখানে দিলীপবাবুও থাকতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।