Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

সল্টলেকের হোমিওপ্যাথি হাসপাতালে এবার জাতীয় ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’

ডায়াবেটিস ও লিভারের অসুখের উত্তর খুঁজ঩তে এবার ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ বা উৎকর্ষকেন্দ্র হচ্ছে বাংলায়। হোমিওপ্যাথির জাতীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথি (এনআইএইচ) অর্থাৎ সল্টলেকের হোমিওপ্যাথি হাসপাতালে হবে এই উৎকর্ষকেন্দ্র।

সল্টলেকের হোমিওপ্যাথি হাসপাতালে এবার জাতীয় ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ডায়াবেটিস ও লিভারের অসুখের উত্তর খুঁজ঩তে এবার ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ বা উৎকর্ষকেন্দ্র হচ্ছে বাংলায়। হোমিওপ্যাথির জাতীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথি (এনআইএইচ) অর্থাৎ সল্টলেকের হোমিওপ্যাথি হাসপাতালে হবে এই উৎকর্ষকেন্দ্র। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক একথা জানিয়েছে এনআইএইচ-কে। তিন বছরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে হবে। এর জন্য কেন্দ্র প্রায় ১০ কোটি টাকা অর্থসাহায্য করবে এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে। এই কেন্দ্রের প্রধান উদ্দেশ্য হবে বিজ্ঞাননির্ভর উচ্চপর্যায়ের গবেষণার মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিতে সুগার ও লিভারের অসুখের উত্তর খোঁজা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের প্রজেক্ট ইভ্যালুয়েশন এবং প্রজেক্ট অ্যাপ্রুভাল কমিটি নয়া প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।

Advertisement

বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমের সমস্যার জন্য দেশের কোটি কোটি মানুষ যেসব রোগে ভুগছে, তার মধ্যে অন্যতম হল ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভার (মেটাবলিক ডিজফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ)। চিকিৎসকরা বলছেন, এখনকার জীবনশৈলী এমনই, যত দিন যাবে, এই দুই রোগের দাপটও তত বাড়বে। নয়া উৎকর্ষকেন্দ্র গড়ার উদ্দেশ্যই তাই হোমিওপ্যাথিতে প্রথম সারির গবেষণার মাধ্যমে দুই রোগের সমাধানসূত্র খুঁজে বের করা। প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারতের ১০ কোটির বেশি মানুষ ভুগছে ডায়াবেটিসে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত কমবেশি প্রতি ৫ জনে ১ জন (১৮.৪ শতাংশ)। শনিবার এনআইএইচ-এর অধিকর্তা ডাঃ প্রলয় শর্মা বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে গর্বের। প্রকল্পের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক সূত্রের খবর, চিন্তাভাবনার বিনিময়, গবেষণা, প্রযুক্তিগত সাহায্য, তথ্য বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজের ব্যাপারে প্রস্তাবিত এই উৎকর্ষকেন্দ্র বাংলার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবে। একটি হল আইআইটি খড়গপুর। অন্যটি ওষুধ গবেষণার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফার্মাসিউটিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (নাইপার)।

কেন উৎকর্ষকেন্দ্র গড়া হচ্ছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানিয়েছে আয়ুষ মন্ত্রক। প্রথমত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আয়োজন করা। দ্বিতীয়ত, আয়ুষ শাখার গবেষকদের মানোন্নয়নে জোর দেওয়া। তৃতীয়ত, গবেষণাগুলি প্রথম সারির জার্নালে প্রকাশ করা।

হোমিওপ্যাথি সহ আয়ুষ চিকিৎসাশাস্ত্র মানেই সিউডোসায়েন্স। বিজ্ঞান ও যুক্তির নামগন্ধ নেই—বছরের পর বছর ধরে এই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে মর্ডান মেডিসিনের একটি মহল। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, গবেষক এবং কেন্দ্র-রাজ্য সরকারও চাইছে, বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও প্রথম সারির গবেষণার মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হোক কোটি কোটি মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভরসার এই প্যাথি। এ উদ্যোগ তারই অংশ। এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ