নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘসময় ধরে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই রেট ৬.৫ শতাংশ ঘোষণা করে তারা। তার দু’বছর পর, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ০.২৫ শতাংশ কমিয়ে রেপো রেট নামিয়ে আনা হয় ৬.২৫ শতাংশে। এদিকে এই রেটের উপর নির্ভর করে ব্যাঙ্কগুলি আমানত ও ঋণের উপর সুদের হার নির্ধারণ করে। এর অর্থ, রেপো রেট কমলে আমানত ও ঋণের সুদের হার কম হওয়ার কথা। সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, গত অর্থবর্ষের শেষ তিনমাস, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে রেপো রেট একধাপ কমলেও তার প্রভাব ঋণের বাজারে তেমন একটা পড়েনি। যে পরিমাণ ঋণ দেওয়ায় আশাবাদী ছিল ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি, সেই আশা পূরণ হয়নি। প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারির পর এপ্রিল এবং চলতি মাসে ফের দু’দফায় রেপো রেট কমেছে। বর্তমানে সেই হার ৫.৫ শতাংশ। তিন দফায় মোট ১ শতাংশ রেপো রেট কমার প্রভাব ঋণ বাজারে কতটা পড়েছে, সেই রিপোর্ট অবশ্য এখনও সামনে আসেনি। সাধারণ মানুষ, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ক্ষেত্রের ঋণ নেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করে যে সংস্থাগুলি, তার মধ্যে অন্যতম ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল। তারা জানাচ্ছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিনমাসে ঋণ প্রদান বৃদ্ধির হার ছিল তার আগের বছরের ওই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে সেই বৃদ্ধির হার মাত্র ৫ শতাংশ। দেশের ঋণ প্রদানের বাজার কেমন যাচ্ছে, তা যাচাই করতে একটি সূচক ব্যবহার করে সিবিল। সেখানে ওই তিনমাসের সূচক দাঁড়িয়েছে ৯৭। গত দু’বছরে সূচক এতটা নামেনি, দাবি করেছে সংস্থাটি। প্রসঙ্গত, এই সূচক যত কম, ঋণ প্রদানের হারও ততটাই কম। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এক কোটি টাকা তার বেশি অঙ্কের গৃহঋণ নেওয়ার হার গত অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে বেড়েছে ৯ শতাংশ। অথচ সার্বিকভাবে গৃহঋণ গ্রহণের হার কমেছে ৭ শতাংশ। একইভাবে দেড় লক্ষ টাকার বেশি দামের দু’চাকা গাড়িক্রয়ের জন্য ঋণ নেওয়ার হার ৭ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে দু’চাকার ঋণের হার কমেছে ১ শতাংশ। ৩৫ বছর বা তার কম বয়সিদের ঋণ নেওয়ার হার সবচেয়ে কম, বলছে রিপোর্ট। তাঁরাই সাধারণত জীবনে প্রথমবার ঋণ নিয়ে থাকেন।



