নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এনডিএ ঝড়ে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট কার্যত সাফ হয়ে গিয়েছে। সেই জোটের মধ্যেই থাকা বাম ব্লক এবারের বিধানসভা নির্বাচনে একপ্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। ২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএমএল (লিবারেশন) ১৯টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১২টিতে জয়লাভ করেছিল। এবার তারা মোট ২০টি আসনে লড়েছে। এবার বিহারে মাত্র দু’টি আসনে জয় পেয়েছেন লিবারেশন প্রার্থী। পালিগঞ্জ এবং কারাকাট আসনে জিতেছেন যথাক্রমে সন্দীপ সৌরভ ও অরুণ সিং।
২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা ভোটে ‘ইন্ডিয়া ব্লকে’ বাম জোটের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল মোট ৩০টি আসন। এর মধ্যে লিবারেশন একাই লড়েছে ২০টিতে। বাকি সিপিএম এবং সিপিআই লড়েছে যথাক্রমে চারটি এবং ছ’টি আসনে। যদিও পরবর্তী ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে আরও তিনটি আসনে প্রার্থী দেয় সিপিআই। সেই তিনটি আসনে কংগ্রেসও প্রার্থী দিয়েছিল। সিপিআই ন’টি আসনের একটিতেও জিততে পারেনি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, চারটির মধ্যে সিপিএম শুধুমাত্র বিভূতিপুর বিধানসভা আসনে জিতেছে। এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী অজয় কুমার ১০ হাজারের কিছু বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন।
ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই সিপিএম পলিটব্যুরো ফের আত্মসমীক্ষার পন্থায় ফিরে গিয়েছে। বিবৃতিতে দল জানিয়েছে, বিহার বিধানসভা ভোট বুঝিয়ে দিয়েছে, বিজেপিকে হারাতে হলে বিরোধীদের আরও বেশি এককাট্টা হয়ে লড়াই করতে হবে। পরাজয়ের পিছনে আর কী কারণ রয়েছে, তাও দল পর্যালোচনা করে দেখবে। তবে একইসঙ্গে সিপিএম পলিটব্যুরো অভিযোগ করেছে, এনডিএ শিবির ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তা করেছেন। অর্থবলের দেদার ব্যবহার হয়েছে। আমজনতার ইস্যু সেভাবে প্রাধান্যই পায়নি। সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজাও বলেন, নির্বাচনী প্রচারে অন্য ছবি দেখা গিয়েছিল। ভোটের ফল কেন এমন হল, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। শুক্রবার রাতেই সিপিআইয়ের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর ভার্চুয়াল বৈঠক হয়।