Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের খড়্গপুরের ‘আস্তানা’ ফাঁকা করার নির্দেশ দিল রেল

খড়্গপুর শহরে যে বাংলোকে ‘আস্তানা’ বানিয়ে  গেরুয়া শিবিরের যাবতীয় রাজনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ, সেটি অবিলম্বে খালি করার জন্য নির্দেশ জারি করল দক্ষিণ-পূর্ব রেল।

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের খড়্গপুরের ‘আস্তানা’ ফাঁকা করার নির্দেশ দিল রেল
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: খড়্গপুর শহরে যে বাংলোকে ‘আস্তানা’ বানিয়ে  গেরুয়া শিবিরের যাবতীয় রাজনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ, সেটি অবিলম্বে খালি করার জন্য নির্দেশ জারি করল দক্ষিণ-পূর্ব রেল। রেলের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস কমিটির সদস্য’র জন্য বরাদ্দকৃত ওই বাংলো গত ২০১৭ সাল থেকে ‘নিজের নিয়ন্ত্রণে’রেখেছেন দিলীপবাবু। তখন থেকেই খড়্গপুরের সাউথ সাইড এলাকায় ২৩০ বর্গ মিটারের ৬৭৭ নম্বর বাংলোর ‘বরাদ্দ’ যাঁর নামেই হোক না কেন, থাকছেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি।  এখন যিনি বিধায়ক নন, নন সাংসদও। ২০১৭ সালে দিলীপবাবু যখন রেলের বাংলোয় ওঠেন, তখন সেটি মণীষা চট্টোপাধ্যায় নামে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য কমিটির এক সদস্যের নামে বরাদ্দ ছিল। এরপর ২০১৯ সালের গোড়ায় বাংলোটি বরাদ্দ হয় তুষারকান্তি ঘোষ নামে  প্যাসেঞ্জার সার্ভিস কমিটির এক সদস্যের নামে। বাংলো দ্রুত খালি করতে এবার তাঁকেই নোটিস পাঠিয়েছে রেল। খড়্গপুরের রেলের বাংলোকে ‘আস্তানা’ বানানোর অভিযোগ নিয়ে গত ৬ এপ্রিল একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল ‘বর্তমান’ পত্রিকায়। সেই সময় দিলীপবাবুর প্রতিক্রিয়া ছিল—‘২০১৭ সাল থেকে রয়েছি। চারবার বরাদ্দ হয়েছে। পাঁচবার করিয়ে নেব।’ বাংলো কি তবে খালি করবেন না? বৃহস্পতিবার এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সবাইকেই রেল এরকম নোটিস দেয়। সেরকম ফর্মালি একটা নোটিস দিয়েছে। রেলকে আমি বুঝে নেব। খড়্গপুরে রেলের জায়গায় তৃণমূল এসি বসিয়ে পার্টি অফিস চালাচ্ছে। ওদের সমস্ত জখবরদখল আগে ভাঙা হোক।’ 

Advertisement

প্রসঙ্গত, খড়্গপুর শহরে বরাদ্দ ৬৭৭ নম্বর এই বাংলোটিতে তুষারকান্তিবাবুর থাকার মেয়াদ ২০২০ সালের ৩১ মার্চ শেষ হয়ে যায়। রেলের ওই কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়। তারপর একাধিকবার রেলের তরফে নোটিস দেওয়া হলেও, বাংলোর দখল ছাড়া হয়নি। তুষারবাবুর বাড়ি কলকাতার কালীঘাট রোডে। তাঁকেই এবার চূড়ান্ত নোটিস দিয়ে বাংলো খালি করতে বলা হয়েছে। নোটিস পাঠিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুরের এস্টেট অফিসার এম টি জোসেফ। 
রেলের পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বার বার বলা সত্ত্বেও বাংলোটি খালি করা হয়নি। বাংলোর সমস্ত রকম চার্জ বকেয়া রয়েছে। বলা হয়েছে, কেন বাংলো খালি করার নির্দেশ কার্যকর হবে না, তা ১৭ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে হবে। আগামী ২১ এপ্রিল বাংলোটি যাঁর নামে বরাদ্দ, তাঁকে সশরীরে বা তাঁর কোনও প্রতিনিধিকে শুনানিতে হাজির হতে হবে। খড়্গপুরের সিনিয়র ডিসিএম নিশান্ত কুমার বলেন, দিলীপবাবু থাকেন, কী অন্য কেউ থাকেন, তা আমরা জানি না। ওখানে তুষারকান্তি ঘোষের নামে বাংলো বরাদ্দ ছিল। মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই তাঁকে বাংলো খালি করে দিতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত শনিবার জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি দেবাশিস চৌধুরী দাবি করেন, দিলীপবাবু অবৈধভাবে বাংলো দখল করে আছেন। দেবাশিস তাঁর দাবির সমর্থনে ‘তথ্য জানার অধিকার’ আইনে রেলের কাছ থেকে পাওয়া নথিপত্র-তথ্য সামনে এনেছিলেন।  

সম্পর্কিত সংবাদ