Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রেনে মাদক পাচার বন্ধে যোগীরাজ্য ও ওড়িশার ডিজিদের রেল পুলিশের চিঠি, নেশার নিষিদ্ধ বস্তু বাংলায় অনুপ্রবেশের উৎস

রেলপথে রাজ্যে ঢুকছে হেরোইন, ব্রাউন সুগার, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ মাদক। ভিন রাজ্য থেকে আসা এই মাদক ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়।

ট্রেনে মাদক পাচার বন্ধে যোগীরাজ্য ও  ওড়িশার ডিজিদের রেল পুলিশের চিঠি, নেশার নিষিদ্ধ বস্তু বাংলায় অনুপ্রবেশের উৎস
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: রেলপথে রাজ্যে ঢুকছে হেরোইন, ব্রাউন সুগার, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ মাদক। ভিন রাজ্য থেকে আসা এই মাদক ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। এমনকি, এখান থেকে আবার অন্য রাজ্যেও চলে যাচ্ছে সেসব। ‘নিষিদ্ধ মাদক কারবারের স্বর্গরাজ্য বাংলা’—এমন অবান্তর অপবাদও শুনতে হচ্ছে এখানকার প্রশাসনকে। এবার মাদক কারবারকে শিকড় থেকে বন্ধ করতে উদ্যোগী হলো রেল পুলিশ। যেসব রাজ্য থেকে এগুলি তোলা হচ্ছে সেখানকার ডিজিদের চিঠি দিয়ে গোড়াতেই বাজেয়াপ্ত করার উপর জোর দিতে বলা হয়েছে। 

Advertisement

রেল পুলিশ সূত্রের খবর, রাজ্যে নিষিদ্ধ মাদক কারবারের রমরমা বেড়েছে।  এক্ষেত্রে মাদক কারবারিদের সবচেয়ে ‘সেফ রুট’ হল ট্রেন। জেনারেল কামরায় যাত্রী সেজে মাদক নিয়ে উঠে বসছে দুর্বৃত্তরা। এরাজ্যে ট্রেন ঢোকার পর কোনও একটি স্টেশনে নেমে যাচ্ছে মাদক কারবারিরা। বেশ কয়েক হাত ঘুরে ক্যারিয়ার মারফত তা চলে যাচ্ছে মাদক কারবারের কিংপিনদের কাছে। রেল পুলিশের অফিসাররা জেনেছেন, গাঁজা ও হেরোইনই বেশি আসছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ জুন থেকে ২০২৫ জুন পর্যন্ত চারটি জিআরপি ডিস্ট্রিক্ট মিলিয়ে উদ্ধার হয়েছে ২৫১৮.৬৫ কেজি গাঁজা। মোট ৭৮টি কেস রুজু হয়েছে। হেরোইন উদ্ধার হয়েছে ৩.৫৪ কেজি। বিভিন্ন জিআরপি মিলে কেসের সংখ্যা ২৩। এছাড়া ইয়াবা ট্যাবলেট, মরফিন পপি সিড ধরা পড়েছে বিভিন্ন সময়ে। মাদক পাচারের অপরাধে ধরা পড়েছে সব মিলিয়ে ১৯৬ জন। 
ধৃতদের জেরা করে রেল পুলিশ জানতে পারছে, এই নিষিদ্ধ মাদকের সমস্তটাই আসছে ওড়িশা ও যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশ থেকে। বিজেপি-শাসিত ওড়িশার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে মূলত গাঁজা। আর হেরোইন আর ব্রাউন সুগারের জোগান দিচ্ছে যোগীরাজ্য। তদন্তে প্রকাশ, দুই রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশন থেকে এই নিষিদ্ধ মাদক তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলিতে কোনও নজরদারি না-থাকায় অনায়াসে মাদক কারবারিরা এগুলি নিয়ে চলে আসছে বাংলায়। মূলত ক্যারিয়ারদের ব্যবহার করেই চলছে মাদক পাচার। 
রেল পুলিশের অফিসারদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, এখানকার বিভিন্ন বড়ো স্টেশনে নজরদারি ও চেকিং বেশি থাকায় মাদক কারবারিরা বিভিন্ন ছোটো স্টেশনে নেমে যাচ্ছে। সেখান থেকে বাস বা অন্য কোনওভাবে এসে মাদক তুলে দিচ্ছে কারবারের কিংপিনদের হাতে। এই কারণে ছোটো স্টেশনগুলিতেও বাড়তি নজর পড়েছে রাজ্যের রেল পুলিশের। তবে কর্তারা বুঝতে পারছেন, শুধু নিজের রাজ্যে নজরদারি বা চেকিং বাড়ালেই হবে না। মূল রুট, অর্থাৎ যেখান থেকে এই নিষিদ্ধ মাদক আসছে সেই জায়গায় ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি ভিন রাজ্যে ট্রেনে মাদক উঠতে না পারে তাহলে এখানে গাঁজা বা হেরোইন এসে পৌঁছোবে না। শিকড় উপড়ে দিলে তবেই এই পাপ ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব। সেই কারণে, উত্তরপ্রদেশ ও ওড়িশার কোন কোন স্টেশন থেকে মাদক উঠছে ওই দুই রাজ্যের ডিজিকে চিঠি দিয়ে রেল পুলিশ তা জানিয়েছে। ওই রুটে বাড়তি নজরদারি ও তল্লাশির উপর গুরুত্ব চাইছেন রেল পুলিশ কর্তারা। পাশাপাশি এই দুই রাজ্যে কারা মাদক কারবার চালাচ্ছে, সেই সংক্রান্ত একাধিক তথ্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের তরফে ভিন রাজ্যের ডিজি দুজনকে জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ