


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আর মাসের পর মাস অপেক্ষা নয়। কোনো দুর্ঘটনার পর বা অন্য কোনো কারণে রেলওয়ে ক্লেম ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের হলে তার নিষ্পত্তি হতে সময় লাগবে সর্বাধিক ছ’মাস। ফলে অযথা হয়রানির শিকার হতে হবে না ভুক্তভোগীকে। তবে শুধুমাত্র মামলার নিষ্পত্তি নয়। এতদিন অভিযোগ জানাতেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হত আমজনতাকে। এবার তারও স্থায়ী সুরাহা মিলতে চলেছে। বৃহস্পতিবার রেল জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে গোটা প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হচ্ছে। অর্থাৎ, দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে মুহূর্তের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এদিন এসংক্রান্ত ঘোষণা করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে এহেন বকেয়া মামলার সংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে কমে গিয়েছে। প্রায় ৩৪ হাজার থেকে কমে তা হয়েছে ৯ হাজার ৫০৮। প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসপ্রাপ্ত হয়েছে বকেয়া মামলার হার। ডিজিটাল প্রক্রিয়া পুরোদমে চালু হয়ে গেলে আর অপেক্ষার প্রয়োজন হবে না। এদিন রেলমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে সারা দেশে ই-রেলওয়ে ক্লেম ট্রাইবুনাল প্রক্রিয়া পুরোপুরি কার্যকর হবে। ধাপে ধাপে তা শুরু করা হচ্ছে।
রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা আহত হলে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে রেলওয়ে ক্লেম ট্রাইবুনালে মামলা করা যায়। তবে এর ক্যাটিগরি আরও বিস্তৃত। ট্রেন থেকে মালপত্র হারিয়ে গেলে বা ঠিকমতো ডেলিভারি না হলে, যাত্রীভাড়া বা পণ্য পরিবহণ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে রিফান্ড ইস্যুতে অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালে মামলা করতে পারেন ভুক্তভোগী। ১৯৮৭ সালের রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইবুনাল অ্যাক্ট অনুসারে মন্ত্রক এর সুরাহা করতে একপ্রকার বাধ্য।
এতদিন এক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যায় পড়তেন আমজনতা? রেল সূত্রে খবর, মামলার নিষ্পত্তিতে বছর পেরিয়ে যাওয়া ছাড়াও অন্যতম বড়ো সমস্যা ছিল অভিযোগ দায়ের করা নিয়েই। কারণ দেশের ২১টি শহরে রেলওয়ে ক্লেম ট্রাইবুনালের মোট ২৩টি বেঞ্চ রয়েছে। প্রতিটিতে রয়েছেন একজন করে জুডিশিয়াল মেম্বার এবং টেকনিক্যাল মেম্বার। যদি এক রাজ্য থেকে অন্যত্র ট্রেনে সফররত অবস্থায় কোনো যাত্রীর সঙ্গে অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটে, তাহলে ট্রাইবুনালের কোন বেঞ্চে সেই অভিযোগ দায়ের করা হবে, তা স্থির করতেই দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হত। ফলে বিচার পেতেও রীতিমতো হয়রানির শিকার হতেন ভুক্তভোগীদের একটি অংশ। নয়া ব্যবস্থায় এর সম্পূর্ণ সমাধান হবে বলেই দাবি করেছেন রেল আধিকারিকরা।
রেল জানিয়েছে, সপ্তাহে সাতদিন যে কোনো সময় অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করা যাবে। কেস ফাইলিং থেকে মামলার নিষ্পত্তি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং করতে পারবেন ভুক্তভোগী। প্রত্যেক পর্যায়ে মিলবে নোটিফিকেশন। এমনকি মামলার শুনানি হবে ‘হাইব্রিড’ মোডে। অর্থাৎ, দূরত্ব বা অন্য কোনো কারণে কারও সশরীরে হাজিরা দিতে অসুবিধা হলে অনলাইন হিয়ারিংয়ে তিনি হাজির হতে পারবেন। ফলে শুনানি মুলতুবি হওয়ার হারও কমবে।