চেন্নাই: তামিলনাড়ুতে ভোটের পর কংগ্রেস, বামদলের সমর্থনে সরকার গঠন করেছে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে। ভোটে কংগ্রেস ও বামেদের মতো দলগুলি ডিএমকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে লড়াই করেছিল। এই জোট শরিকদের বিজয় সরকারকে সমর্থনের বিষয়ে মুখ খুললেন ডিএমকে নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। এব্যাপারে শনিবার তাঁর বক্তব্য, ভোট পরবর্তী পর্বে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন ঠেকানোই ছিল উদ্দেশ্য। সেজন্যই জোটসঙ্গীদের বিজয়ের দলকে সমর্থনের ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, কংগ্রেস বিজয়ের সরকারেও যোগ দিয়েছে। এই ইস্যুতে হাত শিবিরের সঙ্গে স্ট্যালিনের দূরত্ব বেড়েছে। সেই সূত্রেই ডিএমকে-কে কাছে টানতে মরিয়া বিজেপি। তারই মধ্যে স্ট্যালিনের এদিনের মন্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এআইএডিএমকে থেকে আসা একঝাঁক কর্মীকে দলে স্বাগত জানাতে গিয়ে এদিন স্ট্যালিন ওই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ভোটের পর জোট শরিকরা টিভিকে-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছিল। তখন তিনি এব্যাপারে আপত্তি করেননি। শরিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা যেতে পারেন। এটা আপনাদের সিদ্ধান্ত ও গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি আপনাদের আটকাব না। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই আমি সম্মতি দিয়েছিলাম। কারণ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে তা তামিলনাড়ুতে বিজেপির শাসনের পথ প্রশস্ত করে দিতে পারত।’ ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১০৮টি জিতেছিল টিভিকে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তাদের আরও ১০ বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। কংগ্রেস ডিএমকে জোট ছেড়ে বেরিয়ে বিজয়কে সমর্থনের কথা জানায়। এরপর ডিএমকের শরিক সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে ও আইইউএমএলও বিজয়ের দলকে সরকার গঠনে সমর্থন দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্যালিন বলেন, ‘আমাদের জোটসঙ্গীদের সমর্থনের ফলেই আজ এই সরকার (বিজয়ের নেতৃত্বাধীন) টিকে আছে।
ওই দলগুলি ভোটের আগে আমাদের সঙ্গে জোট করেছিল। কারণ তারা বিশ্বাস করত, ডিএমকে-র ক্ষমতায় আসা উচিত। শরিক দলগুলির নেতারাও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, টিভিকে-কে সমর্থন জানানোর আগে তাঁরা আমাকে অবহিত করেছিলেন।’ আর এর পরই তামিলনাড়ুর সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আজকের অনুষ্ঠান থেকেই আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমাদের জোটসঙ্গীদের সমর্থনে টিকে থাকা এই বিজয় সরকারের অবসান ঘটাব।’