কোন কোন জিনিস দেখে তবে লিপস্টিক কিনবেন? রইল পরামর্শ।
কোন কোন জিনিস দেখে তবে লিপস্টিক কিনবেন? রইল পরামর্শ।
লিপস্টিক পরতে ভালোবাসেন না, এমন নারীর সংখ্যা নেহাতই কম। প্রসাধনের তালিকায় অন্যতম হল লিপস্টিক। নানা ফর্মে তার ব্যবহার। কখনো ম্যাট, কখনো বা লিকুইড। পছন্দের শেড সর্বক্ষণ মহিলাদের ব্যাগে থাকেই। সকালে অফিস থেকে বিকেলে পার্টির লুক— ঠোঁটে হালকা করে বুলিয়ে নিলেই সাজ যেন সম্পূর্ণ হয়। আবার বিয়েবাড়ি থাকলে রঙের শেড একটু অন্যরকম হবে। কখনো ডার্ক শেড ফ্যাশনে ইন। কখনো বা হালকা রঙেই মন ভরে সকলের। কোন অনুষ্ঠান, কেমন পোশাক পরেছেন, আপনার ব্যক্তিত্ব কেমন, তার উপরও লিপস্টিকের শেড নির্ভর করে। এসব তখনই ভালো লাগবে, যখন সঠিক লিপস্টিক থাকবে আপনার সংগ্রহে। সে কারণেই লিপস্টিক কেনার আগে আপনাকে সাবধান হতে হবে। কোন কোন জিনিস দিয়ে তৈরি হয় লিপস্টিক, তা জেনে তবেই কিনুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আপনার ত্বকে সব ধরনের লিপস্টিক কার্যকরী নাও হতে পারে। এর ভুল ব্যবহারে নানা ধরনের র্যাশ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ত্বকের কোনো সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লিপস্টিক কিনুন। নাহলে অচিরেই ভোগান্তি অপেক্ষা করছে। এই প্রসঙ্গে ত্বকবিশেষজ্ঞ ডাঃ কিংশুক চট্টোপাধ্যায় জানালেন, ‘লিপস্টিক বেশি ব্যবহার না করলেই ভালো। তবু সাজের একটি অঙ্গ এই প্রসাধনী। তাই ব্যবহার করার আগে আপনার ঠোঁটের ত্বক কেমন তা জানতে হবে। ভালো হয় কোনো ত্বকবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে যদি লিপস্টিক কিনতে পারেন। নানা মেডিকেটেড লিপস্টিক আজকাল বাজারে মেলে। সাধারণত, লিপস্টিক কেনার আগে প্যারাবেন ও সিলিকন ফ্রি পণ্য দেখে কিনুন। উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার হয়, এমন অর্গানিক লিপস্টিকই ভালো। তবে বাজারে অর্গানিক বলে অনেক ভুয়ো পণ্য বিক্রি হয়, তাই উপাদান ভালো করে পড়ে সালফার, প্যারাবেন ও সিলিকন মুক্ত ব্র্যান্ড ব্যবহার করুন।’
কথায় আছে, কোনো জিনিসের বাইরেটা দেখে তার সম্পর্কে ধারণা করে নেওয়া মস্ত ভুল। লিপস্টিকের মন ভোলানো রঙে আকৃষ্ট হবেন না। বরং কোন উপাদানে তৈরি তা খুঁটিয়ে পড়ুন। প্রসাধনীর প্যাকেটে বিস্তারিত তথ্য পাবেন। অনলাইনে শপিং করলেও উপাদানের বিষয়ে জেনে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী কোন কোন উপাদানে তৈরি লিপস্টিক আপনার জন্য আদর্শ তা একজন বিশেষজ্ঞ বলতে পারবেন। কারণ লিপস্টিক সরাসরি ত্বকে অ্যাপ্লাই করছেন। যা স্পর্শকাতর হতেই পারে।
বহু গবেষণায় দেখা গিয়েছে কিছু লিপস্টিকের মধ্যে ক্ষতিকারক কেমিকেল থাকে। দীর্ঘদিন ধরে সেই কেমিকেলযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে। অনেক সময় লিপস্টিকের রং যাতে দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়, তা নিশ্চিত করতে সিসা, ক্রোমিয়ামের মতো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যা বিভিন্ন চর্মরোগের কারণ হতে পারে। সিসার ব্যবহার রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট করে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
লিপস্টিকের রঙে উজ্জ্বলতা আনতে মাছের আঁশ, শার্ক লিভার অয়েল ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় এই দুই উপাদান লিপস্টিকের ময়েশ্চার ধরে রাখতেও সাহায্য করে। কিন্তু সব ধরনের ত্বকে এই উপাদান কার্যকরী নাও হতে পারে।
আসলে লিপস্টিক এমন এক প্রসাধনী যা খাওয়ার সময় জিভের ছোঁয়ায় পেটে চলে যায়। তাই বিশেষ সাবধানতা জরুরি। বহু লিপস্টিকে ‘বিসফেনল এ’ তথা ‘বিপিএ’ নামক এক উপাদান ব্যবহার করা হয়। এর অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। বরং কেনার সময় প্যারাবেন ফ্রি লিপস্টিক বেছে নিন। লাল, গোলাপি, ব্রাউনের মতো তথাকথিত চেনা রঙের বাইরে ইদানীং নীল, হলুদ, সবুজের মতো কিছু ট্রেন্ডি রঙের লিপস্টিকের দিকেও আগ্রহী হন নানা বয়সের মহিলা। কিন্তু এগুলো কোন উপাদানে তৈরি তা জেনে তবেই ব্যবহার করুন।
অর্গানিকের জয় সর্বত্র। লিপস্টিকই বা তার ব্যতিক্রম হবে কেন? বিভিন্ন ধরনের ফল, নানা সবজি, পেট্রোলিয়াম জেলি, মিনারেল অয়েলের মতো ইকো ফ্রেন্ডলি উপাদানে তৈরি লিপস্টিক বেছে নিন। বাজারচলতি বিভিন্ন ব্র্যান্ড রয়েছে। আবার অনেকে বিভিন্ন জৈব উপাদান দিয়ে ঘরেই তৈরি করেন। বিস্তারিত জেনে তবেই কিনুন।