নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সেপ্টেম্বরেই ইতি! বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ডাকঘরের রেজিস্ট্রি পোস্ট পরিষেবা। ডাকবিভাগ একটি নির্দেশিকায় জানিয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই পরিষেবা মিলবে না। বর্তমানে স্পিড পোস্ট এবং রেজিস্ট্রি পোস্ট নামে দু’টি পৃথক পরিষেবা মেলে। তার বদলে অক্টোবর থেকে ডাকঘরে শুধুমাত্র ‘স্পিড পোস্ট’ করা যাবে। এই দুই ধরনের পরিষেবার মধ্যে কী পার্থক্য? ডাকবিভাগের কর্তারা বলছেন, রেজিস্ট্রি পোস্টের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঠিকানায় নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে পণ্য বা বস্তুটি পৌঁছে দেওয়া নিয়ম। স্পিড পোস্টের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পার্সেল বা চিঠি পৌঁছে দিলেই হবে। তাহলে ডাকবিভাগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে কিছু পৌঁছে দেওয়া কি আর সম্ভব হবে না? কর্তারা জানাচ্ছেন, প্রেরক যদি নির্দিষ্ট গ্রাহকের হাতেই চিঠি বা পার্সেল পৌঁছে দিতে চান, সেক্ষেত্রে তিনি স্পিড পোস্টের সঙ্গে রেজিস্ট্রি পোস্টের পরিষেবা যোগ করে নিতে পারেন। অর্থাৎ, গ্রাহক চাইলে শুধুমাত্র ‘রেজিস্ট্রি পোস্ট’ করতে পারবেন না, তাঁকে স্পিড পোস্টের সঙ্গে অতিরিক্ত পরিষেবা হিসেবে ওই সুবিধা নিতে হবে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি, যেমন ব্যাংকের পাসবই, বিভিন্ন পরিচয়পত্র বা চাকরির চিঠি বা গুরুত্বপূর্ণ নথি রেজিস্ট্রি পোস্টের মাধ্যমে পাঠানোর রীতি দীর্ঘদিনের। সেই সামগ্রী পোস্ট অফিসের কর্মীরা একমাত্র গ্রাহকের হাতেই তুলে দিতেন। তুলে দেওয়ার সময় নেওয়া হতো গ্রাহকের স্বাক্ষর। স্পিড পোস্টে নথি বা পণ্য বা পার্সেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে নির্দিষ্ট ঠিকানায় তাঁর পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গ্রাহকদের দাবি, এখন এই পরিষেবা নিতে গেলে অনেক বেশি খরচ করতে হবে। কারণ, রেজিস্ট্রি পোস্টের থেকে স্পিড পোস্টের খরচ তুলনামূলক বেশি। রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে ২০ গ্রাম সামগ্রীর জন্য খরচ হয় ২৪ টাকা। আর স্পিড পোস্টের ক্ষেত্রে একই ওজনের জন্য খরচ হবে ৪০ টাকা। দু’টি পরিষেবা এক সঙ্গে নিলে খরচ আরও বাড়ার কথা। গ্রাহকদের একাংশের বক্তব্য, প্রতিযোগিতার বাজারে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এগিয়ে দিতেই ডাকবিভাগ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, তুলনামূলক কম খরচে যে পরিষেবা পেত সাধারণ মানুষ, ডাকবিভাগ তাকেই মহার্ঘ করে তুলল। তবে, এই পরিষেবা চালু হলে নতুন কিছু সুবিধাও পাবেন গ্রাহকরা। যেমন অনলাইন ট্র্যাকিং, ওটিপি ভিত্তিক ‘ডেলিভারি’ সহ একাধিক সুবিধা মিলবে।