Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

অনলাইনে কেনাকাটা আদতে খরচ বাড়াচ্ছে

কথাটা ঠিক যে অনলাইনে কেনাকাটা আসলে আমাদের খরচ বাড়াচ্ছে। এখন আমরা বাড়ির অধিকাংশ সামগ্রী কেনার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির উপর ভরসা করে থাকি। কিন্তু আমরা এটা বুঝি না যে তারা কীভাবে আমাদের থেকে ফায়দা লুটছে।

অনলাইনে কেনাকাটা আদতে খরচ বাড়াচ্ছে
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

পক্ষে

Advertisement

 সৌমোদিত্ত মাজি 
কথাটা ঠিক যে অনলাইনে কেনাকাটা আসলে আমাদের খরচ বাড়াচ্ছে। এখন আমরা বাড়ির অধিকাংশ সামগ্রী কেনার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির উপর ভরসা করে থাকি। কিন্তু আমরা এটা বুঝি না যে তারা কীভাবে আমাদের থেকে ফায়দা লুটছে। তারা জিনিসের দাম বাড়িয়ে রেখে তার উপর নানা অফার দিয়ে লোভ দেখিয়ে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর আমরা সেই লোভে পা দিয়ে অনেক জিনিস কিনে ফেলি। আমরা জানতেও পারি না যে আসলে আমরা জিনিসটা বেশি দামেই কিনছি। তাই আমার মনে হয় অনলাইনে কেনাকাটার উপর আমাদের নির্ভরতা কমা উচিত।
কলেজ ছাত্র

 শোভন সেন
অলস সময়ে মোবাইলে কেনাকাটার অ্যাপে স্ক্রল করতে করতে আমাদের আত্মস্থ করার প্রবণতা যুক্তির থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এমন বহু জিনিসে আঙুল চলে যায়, যা না কিনলেও চলে। আঙুল ছুঁয়েই দাম দেওয়া হয়ে যায়, হালকা মিউজিক জানান দেয় ‘পেমেন্ট সাকসেসফুল।’ একটা কাজ সফল করার আনন্দও মনে ধরা দেয়। কিন্তু দোকানে গিয়ে টাকা গুনে কোনও জিনিস কেনার সময় জিনিসটির প্রয়োজন ও আবশ্যিকতাই কেনার শর্ত হয়ে ওঠে। ‘বিগ বিলিয়ন ডে’-র অফারে সাড়া দিয়ে আমরা পাড়ার দোকানি, 
বিভিন্ন বিপদেআপদে, শ্মশানে, পুজোতে, যাঁদের সাহচর্য 
পাই তাঁদেরও বঞ্চিত করছি।
শিক্ষক

 কৌশিক কর্মকার
প্রকৃতপক্ষে অনেকটাই খরচ বাড়াচ্ছে অনলাইন কেনাকাটা। হয়তো মনস্থির করলাম কোনও একটা নির্দিষ্ট জিনিস কিনব, কিন্তু মুঠোফোনের স্ক্রিনে অন্য জিনিস ভেসে উঠল, সেটাও দিলাম অর্ডার করে। এখন তো বাড়ির গিন্নিদের চাহিদার শেষ নেই। প্রায়শই দিনের শেষে বাড়ি এসে গিন্নির সঙ্গে দু’-একটা কথা বলার পর গিন্নি সুযোগ বুঝে মোবাইল দেখিয়ে আবদার করে বলে, ‘দেখো শাড়িটা কী সুন্দর!’ বা ‘কানের দুলটা দারুণ না!’ অর্থাৎ কিনে দিতে হবে উক্ত জিনিসটা। ফলে মাইনে ঢুকতে না ঢুকতেই পকেট গড়ের মাঠ হয় অনলাইন কেনাকাটার ঠেলায়। 
চাকুরিজীবী 

 কমলিনা মুখার্জি 
মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে গুরুজনদের ফরমাশমতো ছোট্ট একটা ফর্দ নিয়ে জিনিস কিনতে যাওয়ার দিন এখন অতীত। মুঠোফোনে যে কোনও সময় যে কোনও জায়গায় ইচ্ছামতো কেনাকাটা করে থাকি আমরা কমবেশি সকলেই। অনলাইনে সর্বক্ষণ উপলব্ধ এই জিনিসগুলি মানুষের জরুরি প্রয়োজন মিটিয়েছে ঠিকই তবে একইসঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে তুলে ধরেছে বিরাট এক পসরার সম্ভার। তাও একেবারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে ব্যক্তিবিশেষে কাস্টমাইজ করে। অর্থাৎ আপনার পছন্দের জিনিসটিই টুক করে ভেসে উঠছে আপনার চোখের সামনে। সে লোভ কি সামলানো যায়? অফারের কৌশলও একইভাবে জুগিয়েছে ইন্ধন। তাই অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজনীয় জিনিসটিও শপিং কার্টে চলে যাচ্ছেএবং তার ফল অযথা ব্যয়বৃদ্ধি।
ছাত্রী

বিপক্ষে

 

 কঙ্কনা বোস 
অনলাইনে কেনাকাটা খরচা বাড়ায় এই ধারণা পুরোপুরি যথার্থ নয়। বরং, এটি একজন সচেতন ও দূরদর্শী ক্রেতার জন্য সাশ্রয়ী, সুবিধাজনক এবং উপকারী বিকল্প। বিভিন্ন অফার, ডিসকাউন্ট ও কুপনের সুবাদে অনেক সময় পছন্দের পণ্য খুব সহজেই কম দামে পাওয়া যায়। ঘরে বসে বাজার করার সুবিধা যে কোনও ব্যস্ত মানুষকে মূল্যবান সময়, শারীরিক পরিশ্রম ও যাতায়াত খরচ থেকে মুক্তি দেয়। নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিতভাবে অনলাইন শপিং করলে খরচ না বাড়িয়ে বরং তা অনেকটা কমানো সম্ভব।
পড়ুয়া

 কৌস্তভ ভট্টাচার্য
অনলাইন কেনাকাটা খরচ বাড়ায়—এই কথা শুনে সত্যি বলতে একটু অবাকই হলাম। আমার নিজের অভিজ্ঞতায় বরং উলটোটা হয়েছে। আগে বাজারে গেলে অনেক সময় এমন জিনিস কিনে ফেলতাম, যা আদৌ দরকার ছিল না। এখন অনলাইনে পছন্দের জিনিসটা খুঁজে, দাম মিলিয়ে, রিভিউ দেখে তবেই কিনি। অনেক সময় অফার বা কুপন ব্যবহার করে দারুণ সাশ্রয়ও হয়। পাশাপাশি, বাইরে যাওয়ার ভাড়া, সময়, ঝক্কি—এসবও তো একরকম খরচই। সবচেয়ে বড় কথা, বর্তমান বাজারে প্রচুর অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এরা একে অপরকে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদেরই লাভ করিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়, অনলাইনে খরচ বাড়ে না— বরং বুদ্ধি করে খরচ করার অভ্যাস তৈরি হয়। সুতরাং, খরচ নয়— অনলাইন কেনাকাটা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়।
স্কুলছাত্র 
 বিশ্বজিৎ কর
অনলাইনে বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীর কেনাকাটায় কতকগুলি সুবিধা পাওয়া যায়। প্রথমত, দ্রব্যপিছু অতিরিক্ত ছাড়। দ্বিতীয়ত, অল্প সময়ের মধ্যেই ডেলিভারি বয় একেবারে দুয়ারে উপস্থিত। তৃতীয়ত, দোকানে আসাযাওয়ার খরচ ও অবশ্যই সময় বেঁচে যায়। শেষে বলি দোকানে ভিড় লেগেই থাকে, যথেষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। সুতরাং নানা কারণে অনলাইনে কেনাকাটায় শুধুমাত্র টাকাপয়সার সাশ্রয় নয়, সময়ও অনেকটাই বেঁচে যায়!
অবসরপ্রাপ্ত কর্মী

 শিল্পা মাইতি
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক জীবনযাত্রায় বিশ্বের যাবতীয় খুঁটিনাটি স্মার্টফোনের দৌলতে হাতের মুঠোয়। নিত্যদিনের কর্মব্যস্ততায় মানুষের চটজলদি কেনাকাটা  যদি ভিড় এড়িয়ে, দরদাম না করে, নিজেদের সময়মতো অবসরে বিশেষত উপলক্ষ অনুযায়ী, রং, সাইজ, সাধ্যমতো আয় অনুযায়ী করা যায় তবে যাতায়াতের সময়, খরচ দুটোই বাঁচে। এমনকী অনলাইন কেনাকাটার জিনিসপত্র ফেরতের ঝামেলাও অনেকটা কম। অপ্রয়োজনীয়  জিনিসপত্র না কিনলে, আয় বুঝে ব্যয় করলে অনলাইন কেনাকাটা আদতে সুবিধাজনক ও অপব্যয় কম করবে।
চাকুরিজীবী

সম্পর্কিত সংবাদ