নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক জয়ে ক্ষমতায় এলেও সরকারের ১১ বছর পূর্তির সময়কালে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মন জয়ে ব্যর্থ মোদি। পেনশন সংক্রান্ত নতুন প্রকল্প নিয়ে এলেও তাতে তেমন সাড়া মিলছে না। এখনও পর্যন্ত মাত্র ১.৮৫ শতাংশ কর্মী ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম (ইউপিএস) গ্রহণ করেছে। ২০০৪ সালের পর চাকরিতে যোগ দেওয়া ২৭ লক্ষ কেন্দ্রীয় কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ৫০ হাজার মতো ইউপিএস গ্রহণ করেছে। মোদি সরকারের লক্ষ্য খরচের বহর কমানো। সেই কারণেই নতুন এই প্রকল্পতেই সিংহভাগ কর্মীদের আনতে চাইছে।
তবে সাড়া না মেলায় এক প্রকল্প থেকে অন্যতে যাওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হল। গোড়ায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার হাল দেখে সেই সময় বাড়িয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, একবার এনপিএস থেকে ইউপিএসে চলে গেলে আর ব্যবস্থা বদল করা যাবে না। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারির পর যারা কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাদের জন্য রয়েছে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (এনপিএস)। তাদেরই বলা হচ্ছে ইউপিএসে যেতে।
এনপিএসে কর্মীর বেতন-বেসিক, প্লাস ডিএ’র ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়। সরকার যোগ করে ১৪ শতাংশ টাকা। তৈরি হয় ২৪ শতাংশের তহবিল। অবসরের পর জমা তহবিলের ৬০ শতাংশ কর্মীকে একেবারে দেওয়া হয়। বাকি ৪০ শতাংশ তাঁকে বাজার থেকে পেনশন অ্যানিউয়িটি কিনতে হয়। কর্মী প্রয়াত হলে নমিনি (স্ত্রী বা স্বামী অথবা ২৫ বছরের কম পুত্র বা অবিবাহিত/ডিভোর্সি কন্যা) পান ৪০ শতাংশ টাকা।
এখন সাধারণ মানুষের আয়ু বাড়ছে। ফলে পেনশন গ্রহীতার সংখ্যাও বাড়ছে। যার ফলে সরকারি কোষাগারে খরচ বাড়ছে। তাই ইউপিএস এনে তাদের পেনশন অন্যভাবে দিতে চাইছে সরকার। কিন্তু সেখানে তহবিল জমবে বেসিক প্লাস ডিএ’র ২০ শতাংশ। তাছাড়া ৬০ বছর বয়সের আগে চাকরি ছাড়লে অথবা বরখাস্ত হলে পেনশনে কী প্রভাব পড়বে, তা স্পষ্ট করেনি কেন্দ্র। তাই বেড়েছে ধোঁয়াশা। কর্মীদের ‘বোঝাতে’ মন্ত্রকে মন্ত্রকে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। উচ্চ পদাধিকারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইনস্টিটিউট অব সেক্রেটারিয়েট ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট। বিভিন্ন মন্ত্রক সূত্রে খবর, উচ্চ পদাধিকারীদের সিংহভাগই এনপিএস ছাড়ছেন না। ফলে তাঁরা অধস্তনকে বোঝাবেন কোন মুখে! সরকার পড়েছে ফাঁপড়ে।