সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের একরোখা অবস্থানে বুধবার সামান্য হলেও নরম হল মোদি সরকার। ক্রীড়া সংক্রান্ত দুটি বিল পাশ করানোর জন্য তালিকাবদ্ধ করেও এগলো না। হই হট্টগোলের মধ্যে পাশ না করে বিল দুটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর দাবিতে এদিন সকালে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, কে সি বেণুগোপাল, কানিমোঝির মতো বিরোধী দলের নেতানেত্রীরা। স্পিকারকে চিঠিও দেন। সঙ্গে সঙ্গে সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে ডেকে পাঠান স্পিকার। সেখানে বিরোধীদের কথা মেনে নেন তিনি। যদিও তারই মধ্যে এসআইআর ইস্যুর বিক্ষোভে প্রবল হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় পাশ হল দ্য মার্চেন্ট শিপিং নামে বিল।
এরই মধ্যে লোকসভায় ডেপুটি স্পিকার পদ নির্বাচন নিয়েও বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় আপত্তি নেই বলেই বার্তা দিয়েছে বিজেপি। বিরোধীরা চায়, কংগ্রেসকে দেওয়া হোক ডেপুটি স্পিকারের পদ। তাদের প্রার্থী কর্ণাটকের দলিত নেতা আটবারের সাংসদ কে সুরেশ। গত ছ’ বছর লোকসভায় কোনও ডেপুটি স্পিকার পদে কেউ নেই।
এদিন রাজ্যসভাতেও একই অবস্থা। কোনও মতে ‘দ্য কারেজ অব গুডস বাই সি বিল’ পাশ করিয়েই সারাদিনের জন্য মুলতুবি। তবে সরকারকে বিরোধীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর ইস্যুতে আলোচনা না হলে তারা থামবে না। সরকারও পাল্টা বলে দিয়েছে, সংসদে এসআইআর আলোচনা হবে না। ঘটনাচক্রে, কংগ্রেসের অন্দরে লাগাতার একই ইস্যুতে বিক্ষোভ নিয়ে দ্বন্দ্ব বেঁধেছে। এমনকী মোদি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটেও। কংগ্রেসের একটি অংশ এবং সিপিএম চাইছে, ভারতের ওপর আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া শুল্ক ইস্যুতে সংসদে আলোচনা চাওয়া হোক। তা নাহলে লাগাতার এসআইআর ইস্যুতে সংসদ অচল হওয়ায় জনমানসে বিরোধীদের সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। যদিও সেই যুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব, তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। সূত্রে খবর, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও দলের বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত অন্য কোনও ইস্যু নয়। এসআইআর ইস্যুই সবচেয়ে বড়। তারই প্রতিবাদ স্ট্র্যাটেজি তীব্র করতে আজ রাহুল গান্ধীর বাংলোয় ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের নৈশভোজ বৈঠক। যোগ দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি।