Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দু’দিনে তিন জেলায় স্থানীয় ‘টর্নেডো’র তাণ্ডব তছনছ বাড়িঘর, চাষের ক্ষতি, জখম একাধিক

বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। শুক্রবার ভোরে হুগলির চন্দননগর ও বিকেলে নদীয়ার হরিণঘাটা। পরপর দু’দিনে রাজ্যের তিন ব্লকের সীমিত এলাকা ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ল।

দু’দিনে তিন জেলায় স্থানীয় ‘টর্নেডো’র তাণ্ডব  তছনছ বাড়িঘর, চাষের ক্ষতি, জখম একাধিক
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। শুক্রবার ভোরে হুগলির চন্দননগর ও বিকেলে নদীয়ার হরিণঘাটা। পরপর দু’দিনে রাজ্যের তিন ব্লকের সীমিত এলাকা ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ল। এই ধরনের ঝড়কে অনেক সময় স্থানীয়ভাবে টর্নেডো বলে চিহ্নিত করেন অনেকে। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে ছোট কোনও এলাকা একেবারে তছনছ হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। 

Advertisement

শুক্রবার ভোরে মাত্র পাঁচ মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় হুগলির চন্দননগরের নারুয়া এলাকা। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঝড়ের দাপটে দুর্গাপুজোর আস্ত মণ্ডপ একটি তিনতলা বাড়ির উপরে গিয়ে পড়ে। নারুয়া শান্তির মাঠ এলাকায় ঝড়ে ভেঙে যায় বহু গাছ। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। কয়েকটি বাড়ির প্রাচীর ও চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি টোটোর উপরের অংশ উড়ে যায়। তবে কারও হতাহত হওয়ার খবর নেই। সকালেই এলাকা পরিদর্শনে আসেন চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী। 
এর কয়েক ঘণ্টা পর একই ধরনের ঝড়ের তাণ্ডবের সাক্ষী হয় নদীয়ার হরিণঘাটা ব্লকের বিরহী-২ পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর দাসপাড়া এলাকা। একাধিক বাড়ি ও জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র ১ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল ঝড়। তাতেই ক্ষয়ক্ষতির বহর দেখে ঘাবড়ে গিয়েছেন বাসিন্দারা। প্রশাসন সূত্রে খবর, ১৭টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গিয়েছে প্রায় ১২ একর জমির ফসল। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। তাঁরা জানিয়েছেন, বাতাসের গতি ও শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে মানুষ রীতিমতো ভয় পেয়ে যায়। বহু বাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে গিয়ে পড়ে বেশ কিছুটা দূরে। কয়েকটি বাড়ির মাটির দেওয়াল ধসে গিয়েছে। দুর্গাপুজোর মণ্ডপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কলা ও পটল চাষের। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে একটি দল গঠিত হয়। হরিণঘাটা ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য ও ত্রিপল দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। বিডিও মহাশ্বেতা বিশ্বাস বলেন, ‘প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে।’ 
বৃহস্পতিবার বিকেলে একইভাবে স্থানীয় ‘টর্নেডো’র কবলে পড়ে সন্দেশখালি ১ নং ব্লকের আগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাথরঘাটা ও হুলোপাড়া। ঝড়ের দাপটে শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু গাছ। একাধিক বাসিন্দা জখম হয়েছেন। মাত্র এক মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দু’টি গ্রাম। ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে। ভেঙে পড়েছে প্রায় ২০০ গাছ। গুরুতর জখম চারজন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এক গৃহবধূ বাড়িতে রান্না করার সময় ঝোড়ো বাতাসের কারণেই কোনওভাবে তাঁর শাড়িতে আগুন লেগে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তিনজন ঘরের চালের অ্যাসবেসটস চাপা পড়ে আহত হয়েছেন। এদিনই এলাকায় আসেন সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাত ও সন্দেশখালি ১ নম্বর বিডিও সায়ন্তন সেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সাহায্যের আশ্বাস দেন তাঁরা। এসেছিলেন সন্দেশখালির প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দারও। 
বিধায়ক সুকুমার মাহাত বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।’ আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঝোড়ো হাওয়া যে থাকবে, তার পূর্বাভাস দেওয়াই ছিল। তবে এই জায়গাগুলিতে টর্নেডোই হয়েছে কি না, তা বলা যাচ্ছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ