ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: বৈসরণে জঙ্গিদের নারকীয় হামলা। এর প্রত্যাঘাত হিসেবে পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে ভারত। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি রীতিমতো অগ্নিগর্ভ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে বিমান পরিষেবা বাতিল হয়েছে। ফলে অনেক পর্যটক আটকে পড়েছেন। তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে এলেন স্থানীয়রা। ‘ইনসানিয়ত’ এবং ‘কাশ্মিরীয়তে’র ছোঁয়ায় সঙ্কটের সময়ও উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা।
স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল মালিক, টাঙ্গা চালক, শিকারা চালক থেকে সাধারণ কাশ্মীরি জনতা সকলেই পর্যটকদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিনামূল্যে আহার এবং থাকার জায়গা করে দিচ্ছেন।
শ্রীনগরের ট্রাভেল এজেন্ট ফৈয়জ আহমেদ বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের কষ্টের মধ্যে ফেলে রাখতে পারি না। এটা কোনও পেশাদারিত্ব নয়, এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ওঁরা কাশ্মীরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলেন। কিন্তু আতঙ্ক নিয়ে ফিরে যান, তা আমরা চাই না।’ ডাল লেক সংলগ্ন এলাকায় অনেকেই হোটেল পাননি। তাই শিকারা চালকরা তাঁদের শিকারাগুলিতেই পর্যটকদের থাকতে দিচ্ছেন।
অনেকেই আবার তাঁদের বিনামূল্যে খাবার দিচ্ছেন। মুস্তাক আহমেদের পুরো পরিবারটাই শিকারার উপর নির্ভরশীল। সেই মুস্তাক বলেন, ‘আমাদের যা আছে তাই মিলেমিশে খাচ্ছি। সবার উপরে মনুষ্যত্ব।’
পর্যটনের সঙ্গে যুক্তরাই শুধু নন, পর্যটকদের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছেন স্থানীয়রাও। মুম্বই থেকে বেড়াতে এসেছেন সুমন এবং রাজীব মেহরা। টানাপোড়েনের দিনে কাশ্মীরবাসীর আতিথেতায় মুগ্ধ মেহরা দম্পতি। সুমন বলেন, ‘বিমান বাতিল হওয়ার পর ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এখানকার মানুষজন আমাদের পরিবারের মতো ব্যবহার করছেন।’ বাসস্ট্যান্ডগুলিতেও অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানেও সাহায্যের ডালি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন অনেকে।