দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: বাংলায় সরকার গঠনের কাজ শেষ। এবার সাংগঠনিক রদবদলের তোড়জোড় শুরু করল বিজেপি। সেইমতো সোমবার দিল্লিতে দলের শীর্ষ কার্যালয়ে পদাধিকারীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। প্রত্যাশিতভাবেই এদিনের বৈঠকে অন্যতম ‘ফোকাস’ করা হয়েছে বাংলাকেই। এমনই খবর বিজেপির শীর্ষ সূত্রে। সোমবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির ডাকা বৈঠকে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও হাজির ছিলেন। পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সতীশ ধোন্দ, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল, অমিত মালব্যরাও হাজির হয়েছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দিল্লিতে নীতিন নবীনের ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়াও।
সাংগঠনিক বৈঠকের ব্যাপারে অবশ্য অশোকবাবু কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, রাজ্যের মন্ত্রী হিসাবে এদিন বিজেপির এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁকে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, জেপি নাড্ডার হাত থেকে বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এখনও পর্যন্ত নিজের কেন্দ্রীয় ‘টিম’ গঠন করেননি নীতিন নবীন। এদিন দিল্লিতে দলীয় কার্যালয় পদাধিকারী এবং বিভিন্ন রাজ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যে বৈঠক করেছেন নবীন, তা মূলত ওই কেন্দ্রীয় ‘টিম’ গঠনের একটি প্রাথমিক প্রস্তুতির অঙ্গ। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে নীতিন নবীন নয়া ‘টিম’ ঘোষণা করতে পারেন বলে খবর। আর সেই নতুন টিমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকবে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডের। জানা যাচ্ছে, দলের অন্যতম সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বভারতীয় সম্পাদক হিসাবে বিজেপির বঙ্গ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি হতে পারে। এমনকি দলের অন্যতম সর্বভারতীয় মুখপাত্রের তালিকাতেও একজন বঙ্গ নেতার নাম থাকতে পারে। এর আগে অবশ্য বিজেপির সর্বভারতীয় টিমের প্রত্যেক ক্যাটিগরিতে দলের বঙ্গ নেতৃত্ব স্থান পাননি। কখনও অন্যতম সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে, কখনও অন্যতম কেন্দ্রীয় সম্পাদক। সর্বভারতীয় মুখপাত্র হিসাবেও বাংলার নেতারা স্থান পেয়েছেন। কিন্তু একসঙ্গে প্রায় সবক’টি ক্যাটিগরিতেই বঙ্গ ব্রিগেডের স্থান পাওয়ার ঘটনা সেভাবে ঘটেনি। এমন সম্ভাবনাকে তাই বিশেষ উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করা হচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র বলেন, ‘সাংগঠনিক বৈঠক হয়েছে। দলের সম্প্রসারণ জরুরি। সেইমতো কী পদক্ষেপ করা যায়, সেই ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার ১২ বছর পূর্ণ করছে। রাজ্যে রাজ্যে তা উদযাপন করবে বিজেপি। সেই ব্যাপারেও কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এনিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠানো হবে রাজ্য কমিটিগুলিকে।’