


সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: পূর্বতন আইপিসি, সিআরপিসিতে বেশ কিছু বদল এনে গত বছর থেকে দেশজুড়ে লাগু হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) ও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)। পুরনো আইনে ছিল না, এমন একাধিক বিষয় যুক্ত করা হয়েছে নয়া ব্যবস্থায়। কসবা ল’ কলেজে গণধর্ষণের ঘটনার তদন্তে লালবাজারের হাতিয়ার হয়ে উঠল এমনই একটি আইনি সংস্থান। নতুন করে যুক্ত হওয়া ওই আইনের বলে গণধর্ষণের মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রকে সম্প্রতি ফের চারদিনের জন্য পুলিস হেফাজতে নিয়েছে লালবাজার। বিএনএস এবং বিএনএসএস চালুর পর এই প্রথম কোনও মামলায় কলকাতা পুলিস একজন অভিযুক্তকে জেল হেফাজত থেকে দ্বিতীয় বারের জন্য পুলিস হেফাজতে নিল।
লালবাজারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, আইপিসি, সিআরপিসি’র সময় একজন তদন্তকারী অফিসার চাইলেও অভিযুক্তকে দ্বিতীয় বারের জন্য পুলিস হেফাজতে নিতে পারতেন না। কারণ, আইনে তেমন কোনও সংস্থান ছিল না। তদন্তের প্রয়োজনে অভিযুক্তকে জেরার দরকার হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সারতে হতো। নতুন আইন চালুর সময় আগের ব্যবস্থার এই খামতিগুলি দূর করা হয়। তারপর এই প্রথম কলকাতা পুলিস কোনও অভিযুক্তকে দ্বিতীয় বারের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিল।
জানা গিয়েছে, সাধারণত কোনও মামলায় তদন্তকারী অফিসার একজন অভিযুক্তকে সর্বাধিক ১৪ দিন পুলিস হেফাজত নিতে পারেন। গত বছর চালু হওয়া বিএনএসএসে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে একজন তদন্তকারী অফিসার যদি অভিযুক্তকে ১০দিনের জন্য পুলিস হেফাজতে পান, তাহলে তদন্তের স্বার্থে তিনি চাইলে ওই অভিযুক্তকে পরে আরও চারদিন পুলিস হেফাজতে নিতে পারবেন। কসবার গণধর্ষণ কাণ্ডে সেটাই করেছে লালবাজার।
তবে বিএনএসএসে এক্ষেত্রে কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, ধর্ষণ বা পকসো মামলার ক্ষেত্রে তদন্তকারী অফিসারকে ৬০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিতে হয়। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় বারের জন্য অভিযুক্তকে পুলিস হেফাজতে নিতে গেলে ৪০ দিনের মধ্যেই তা করতে হবে। খুন, ডাকাতির মতো মামলায় ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার কথা। সেখানে ৬০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বারের জন্য অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার সুযোগ পাবে পুলিস। লালবাজারের এক কর্তা জানান, কসবা আইন কলেজের গণধর্ষণ কাণ্ডে ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে আসার পর মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রকে আরও চারদিনের জন্য পুলিস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হল, ওই রিপোর্ট সামনে রেখে অভিযুক্তকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার আগের বয়ানের সত্যতা যাচাই। ফাইল চিত্র