Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু: দোষী সাব্যস্ত স্বামী‑শাশুড়ির দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

মানিকতলা থানা এলাকায় গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত স্বামী ও শাশুড়িকে দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ শোনাল আদালত।

বধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু: দোষী সাব্যস্ত স্বামী‑শাশুড়ির দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মানিকতলা থানা এলাকায় গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত স্বামী ও শাশুড়িকে দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ শোনাল আদালত। তাদের নাম বিশ্বজিৎ রায় ও শ্যামলী রায়। শুক্রবার শিয়ালদহের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক পর্ণা ভট্টাচার্য এই আদেশ দিয়েছেন। বিচারক সাজার সঙ্গে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে দু’মাস হাজতবাসের নির্দেশ দেন। অন্য ধারাতেও দু’জনের পৃথক সাজা হয়। তবে আদালতের মন্তব্য, সমস্ত সাজা একসঙ্গে চলবে। মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি তপন রায় জানান, ‘২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মানিকতলা মুরারিপুকুর রোডে শ্বশুর বাড়িতে অসীমা রায় নামে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, পণের জন্য বধূর উপর চলত সীমাহীন অত্যাচার। তা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁকে নানাভাবে নিগ্রহেরও শিকার হতে হয়।’  ঘটনার পর গৃহবধূর বাবা গৌতম প্রামাণিক মানিকতলা থানা এলাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগ, ঘটনার তিন বছর আগে মেয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে পণের জন্য মেয়ের উপর ক্রমাগত অত্যাচার চালাতে থাকে জামাই ও তাঁর মা। বার কয়েক মেয়ে বাড়িতেও চলে আসে। তাঁকে বুঝিয়ে ফের শ্বশুর বাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু পরিস্থিতির বদলায়নি। মৃতার বাবার বক্তব্য, মেয়ের ছোট্ট সন্তান আছে। তার ভবিষ্যৎ কী হবে কে জানে? এই ঘটনায় পুলিশ দু’জনকেই গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত শাশুড়ি জামিন পেলেও জেল হেপাজতে রেখে চলে অভিযুক্ত স্বামীর বিচার। পুলিশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট পেশ করে। মূল মামলার বিচার চলাকালে সাক্ষ্য দেন ১৮ জন। দীর্ঘ শুনানির শেষে সাতবছর পর দোষী সাব্যস্ত দু’জন সাজাপ্রাপ্ত হল। এদিন রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে শাশুড়ি শ্যামলী রায়। তাদের আইনজীবীদের বক্তব্য, নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে দরবার করবেন।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ