Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কসবা গণধর্ষণ: ‘আইনজীবী’ মনোজিতের লাইসেন্স বাতিল, জরুরি বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত রাজ্য বার কাউন্সিলের

গণধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা মনোজিৎ মিশ্রের আইনজীবী লাইসেন্স বাতিল করল রাজ্য বার কাউন্সিল। বুধবার জরুরি এক বৈঠকে বার কাউন্সিল ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কসবা গণধর্ষণ: ‘আইনজীবী’ মনোজিতের লাইসেন্স বাতিল, জরুরি বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত রাজ্য বার কাউন্সিলের
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গণধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা মনোজিৎ মিশ্রের আইনজীবী লাইসেন্স বাতিল করল রাজ্য বার কাউন্সিল। বুধবার জরুরি এক বৈঠকে বার কাউন্সিল ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাউন্সিলের ওই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও বার কাউন্সিল সদস্য ইন্দ্রনীল বসু। এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বৈশ্বানরবাবু জানিয়েছেন, লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় মনোজিৎ মিশ্র আর কোথাও আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতে পারবে না। যদি মনোজিৎ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারে, সেক্ষেত্রে কী হবে? কাউন্সিলের কর্তারা বলেন, আইনানুযায়ী যা যা পদক্ষেপ করতে হয়, তাই করা হবে। 

Advertisement

অপরদিকে দক্ষিণ কলকাতা ল’কলেজের ওই ছাত্রীকে নিজের ‘লালসার শিকার’ বানাতে বেশ কিছুদিন ধরেই ‘টার্গেট’ করেছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা মনোজিৎ। নিজের সেই অভিপ্রায় ঘনিষ্ঠ শাগরেদদের অনেককেই মুখে তো বটেই মেসেজ করেও জানিয়েছিল সে। গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে নিয়োজিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) সূত্রের খবর, যে কোনওভাবে ওই ছাত্রীকে ‘চাই’, মনোজিতের পাঠানো এমন মেসেজও পেয়েছিল শাগরেদরা। গত ২৫ জুন সেই অভিপ্রায় পূরণ করার লক্ষ্য নিয়েই কলেজের ছাত্র সংসদের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদিকাকে (জিএস) ‘টার্গেট’এর উপর নজর রাখার দায়িত্ব দিয়েছিল এই তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা। বিদায়ী জিএসকে মনোজিৎ নির্দেশ দিয়েছিল, যে কোনওভাবেই হোক, ওই ছাত্রীকে কলেজে ‘আটকে’ রাখতে হবে। দাদার নির্দেশ মেনে ছাত্রীকে নানা অছিলায় কলেজে আটকে রাখার প্রক্রিয়া শুরু করে বিদায়ী জিএস। ওই ছাত্রীকে দীর্ঘসময় ধরে খোশগল্পে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই জানিয়েছে ওই বিদায়ী জিএস। তদন্তকারীদের সে জানিয়েছে, নির্যাতিতা কলেজে রয়েছে কি না, ওইদিন বারবার তা জানতে চেয়ে ফোন করেছিল মনোজিৎ। 
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে অশ্লীল মেসেজ এবং ভিডিও পাঠাচ্ছিল মনোজিৎ। নির্যাতিতার মোবাইল থেকে সে সব উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, জেরায় মনোজিৎ প্রথমে দাবি করেছিল, ওই দিন যা হয়েছিল, তার সবটাই সম্মতি ক্রমে। কিন্তু তার শরীরে আঁচড়ের দাগ কোথা থেকে এল? এ প্রশ্ন করা মাত্রই গুটিয়ে যায় মনোজিৎ। শেষপর্যন্ত জেরায় ভেঙে পড়ে মনোজিৎ জানায়, ওটা ওই ছাত্রীর নখের আঁচড়। নিজেকে রক্ষা করার মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল সে। অপরদিকে গণধর্ষণ কাণ্ডে সিবিআই তদন্তে তাঁদের কোনও আস্থা নেই বলে কলকাতা হাইকোর্টে জানাল কসবা কাণ্ডে নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবার। এই মামলায় সিবিআই তদন্ত দাবি করে তিনটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। ওই মামলাগুলিতে নির্যাতিতার পরিবার পক্ষভুক্ত ছিল না। এদিন আইনজীবী সঙ্গে নিয়ে ওই তিন মামলায় পক্ষভুক্ত হয় ছাত্রীর পরিবার। আদালতে তাঁরা জানান, সিবিআই নয়, বরং কলকাতা পুলিস যেভাবে এ মামলার তদন্ত করছে, তাতে পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ