পক্ষে
পক্ষে
বিশ্বজিৎ কর
উষ্ণায়ন কমানোর দায় অবশ্যই নাগরিকেরও রয়েছে! ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলছি, এ ব্যাপারে একশ্রেণির কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষের হঠকারিতা যথেষ্ট বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহুতলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ধূমপান করে অনেকে জ্বলন্ত বিড়ি/সিগারেট নীচে ছুড়ে ফেলেন এবং তা গিয়ে পড়ে গাছের পাতার উপর। এর ফলে গাছের বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। যে কোনও ধরনের উৎসবে লাগামছাড়া শব্দবাজির তাণ্ডব পরিবেশকে করে তুলছে বিষাক্ত ও অসহনীয়! যত্রতত্র আবর্জনা নিক্ষেপ এবং অবশ্যই প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার উষ্ণায়ন বৃদ্ধির সহায়ক হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় যথেষ্ট সচেতন হতে হবে নাগরিককে। এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব সকলের।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মী
সুদীপ্তা বেরা
পরিবেশ উষ্ণায়নের মূল কারণগুলির একটি হল মানুষের জীবনযাত্রার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। সরকারের তরফ থেকে এর প্রতিকারের উপায় বের করে সঠিকভাবে তা প্রয়োগ করা আবশ্যিক। কিন্তু সাধারণ নাগরিক যদি সেগুলো সঠিকভাবে মেনে না চলে তাহলে একা সরকারের পক্ষে উষ্ণায়ন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সরকারের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন সাধারণ মানুষেরও। মানুষের নিজের জীবন সঠিকভাবে পরিচালনার সঙ্গে গাছ লাগানো, প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের অপব্যবহার করা থেকে নিজেদের বিরত থাকা উচিত। পাশাপাশি সরকারের উচিত কঠোরভাবে আইন প্রণয়ন ও পর্যবেক্ষণের দ্বারা পরিবেশ উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ করা।
নার্স
দিলীপ কুমার পাত্র
বর্তমান পৃথিবীর জ্বলন্ত সমস্যা বিশ্ব উষ্ণায়ন। এই উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্রিন হাউস গ্যাস। উষ্ণায়ন বৃদ্ধির যেহেতু নানা কারণ, শুধু সরকারের পক্ষে উষ্ণায়ন কমানো সত্যিই সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সমাজের সর্বস্তরের নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্য সংস্থাকেও এগিয়ে আসতে হবে। উষ্ণায়ন বৃদ্ধির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে উষ্ণায়ন কমানো সম্ভব। এই কাজে নাগরিকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। সবুজায়ন, জলাভূমি খনন, রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ও জৈব প্রযুক্তিতে জোর, বনভূমি ও বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করা, পরিবহণে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে জৈব ডিজেল ও ব্যাটারিচালিত গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো, পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ, দাবানল রোধ, বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তাপমাত্রা কমানো সম্ভব। এ কাজ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেড়শো কোটি নাগরিক বছরে একটা করে গাছ লাগালেই যথেষ্ট।
বৃক্ষপ্রেমী
ঋষভ মণ্ডল
সরকার আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করলেও বাস্তব পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি নাগরিকরাই। বিদ্যুৎ ও জলের সাশ্রয়, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব যানবাহন গ্রহণ, বৃক্ষরোপণ— এসব আমাদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব। সচেতন নাগরিক ছাড়া কোনও সরকারি উদ্যোগই টেকসই হতে পারে না। উষ্ণায়ন বিশ্বজনীন সঙ্কট, যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকার ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। উষ্ণায়ন রোধে প্রত্যেক নাগরিকের সচেতন উদ্যোগই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে।
ছাত্র
বিপক্ষে
লাবণী বিশ্বাস
সভ্যতার অগ্রগতির ফলে মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদার জোগান দিতে উত্তরোত্তর বাড়ছে বৃক্ষচ্ছেদন, নগরায়ন, পরিবেশ দূষণ। যার অবশ্যম্ভাবী ফল এই উষ্ণায়ন। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ এবং আগামী দিনে এর ফলাফল যে কী মারাত্মক, সে সম্পর্কে মানুষকে অবগত করা সরকারের দায়িত্ব বইকি! শুধু তাই নয়, কী করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে উষ্ণায়নের প্রভাব হ্রাস করা যায়, বিভিন্ন আইন প্রণয়ন এবং আইন অমান্যকারীদের প্রতি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেও সদর্থক ভূমিকা পালন করে সরকার। যদিও সাধারণ নাগরিক, পরিবেশবিদ, সমাজবিদ, বিভিন্ন সংস্থা, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রচার চালায় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। তৎসত্ত্বেও, এ কথা মানতেই হবে সরকারি তরফে নেওয়া বিধি ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে অনেক বেশি।
সরকারি কর্মী
রাহুল চৌধুরী
সরকার নীতি প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। শিল্প নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি প্রচলন ও বন সংরক্ষণের মতো পদক্ষেপ সরকারের হাতে। ব্যক্তি বা সংগঠনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাদের প্রচেষ্টা ছড়িয়েছিটিয়ে থাকে এবং প্রায়ই অপর্যাপ্ত। জনসচেতনতা বাড়াতে এবং পরিবেশ শিক্ষার প্রসারে সরকারি নীতি অপরিবর্তনীয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগ যতই প্রশংসনীয় হোক, সরকারের নেতৃত্ব ও ক্ষমতা ছাড়া উষ্ণায়ন মোকাবিলা অসম্ভব।
সহকারী অধ্যাপক
দিব্যজ্যোতি চক্রবর্তী
এখন অনেকে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন। কেউ সাইকেল চালিয়ে জ্বালানির ব্যবহার কমাচ্ছে, বহু মানুষ গাছ লাগানোর জন্য প্রচার চালাচ্ছে, কেউ আবার প্লাস্টিক বিরোধী আন্দোলনে নেমেছে। এত কিছু করেও ছবিটা পাল্টাচ্ছে না। কারণ, সরকারের যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা, তা নিতে চায় না। এখনও অনেক জায়গায় কারখানা তৈরি হচ্ছে, বনের গাছ কাটা হচ্ছে উন্নয়নের নামে। নাগরিকরা নিজেদের দায়িত্ব যথাসাধ্য পালন করলেও যদি সরকার শক্ত হয়ে সব নিয়ন্ত্রণ না করে— তবে সাধারণ মানুষের এই চেষ্টাগুলোও একদিন হারিয়ে যাবে। উষ্ণায়ন রোধে নেতৃত্ব সরকারকেই নিতে হবে, না হলে নাগরিকদের সব চেষ্টা মরুভূমিতে একফোঁটা বৃষ্টির মতোই হবে। নাগরিকরা চেষ্টা করছেই কিন্তু উষ্ণায়ন কমানোর বড় দায়িত্ব আগে সরকারকে নিতে হবে।
লেখক
সঙ্গীতা ঘোষ
উষ্ণায়ন সমগ্র বিশ্বের সমস্যা। সংঘর্ষ, দুর্ভিক্ষ, বন্যা-খরা প্রভৃতি কারণে মানুষ নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়, এখন জলবায়ুও মানুষকে গৃহহীন করে। নাগরিকের সুস্থ জীবনের সুবিধার্থে পরিবেশে গ্রিন হাউস গ্যাস কমানোর জন্য সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে। প্রত্যেক রাষ্ট্রনায়ক তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ব্যস্ত, তাদের আলোচনায় উষ্ণায়ন সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান হয় না। অরণ্যনিধনের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে, কয়লার ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করতে হবে। বিপন্ন নাগরিক সরকারের সহমর্মিতা চায়। উষ্ণায়ন সম্পর্কিত নীতি ও তার বাস্তবায়নের ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণই সরকারের, নাগরিকের নয়।
শিক্ষিকা