নয়াদিল্লি: ইরানের সাধারণ মানুষ আমাদের শত্রু নয়। বরং ইরানের মানুষের কাছে আমাদের আর্জি, দেশের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নামুন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে এভাবেই সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে। এক ধাপ এগিয়ে খামেনেইকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, আপনি কোথায় লুকিয়ে আছেন আমাদের তা ভালোই জানা আছে। আপনার প্রাণহানি আপাতত আমাদের লক্ষ্য নয়। আপনি বরং বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ করুন। অর্থাৎ, ইজারায়েল ও আমেরিকা যে খমেনেই শাসনের অবসান চাইছে, তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ মনে করছে, খামেনেইকে উৎখাত করে তেহরানের মসনদে পছন্দের সরকার গড়তে চাইছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। পরিস্থিতি সেদিকেই গড়ালে কে হবেন ইরানের নতুন শাসক? জল্পনার মধ্যেই এবার ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলাভির নাম ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। তেহরানে পালা বদলের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতেও দেখা গেল তাঁকে। দেশজুড়ে গণ অভ্যুত্থানের ডাক দিয়ে খামেনেইকে ‘ভীরু ইঁদুর’ বলেও কটাক্ষ করেছেন রেজা।
কিন্তু কে এই নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলাভি? তিনি ইরানের শেষ ‘শাহ’ মহম্মদ রেজা শাহ পাহলভির পুত্র। ১৯৪১ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ইরানের সিংহাসন ছিল তাঁর দখলে। ইরানীয় বিপ্লবে রাজতন্ত্রের অবসান হয়। ১৯৮০ সালে মিশরে মৃত্যু হয় তাঁর। ‘শাহি’ শাসনের পরিবর্তে বর্তমান ইসলামিক রিপাবলিক শাসন ব্যবস্থার সূত্রপাত হয়। ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের আবহেই এবার খামেনেইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সরকারি কর্মী, সেনা, পুলিস ও সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামার ডাক দিলেন যুবরাজ রেজা পাহলাভি। তাঁর দাবি, খামেনেই শাসনের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে।
দেশের বাইরে থেকে ইরানের নির্বাচিত যুবরাজ রেজা পাহলাভি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক শাসন অবসানের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। তার পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পতন আর ঠেকানো যাবে না। খামেনেই ভীরু ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়েছেন। পরিস্থিতি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। খামেনেইয়ের অপশাসনের শিকার প্রত্যেকের পাশে রয়েছি আমি।’