দুবাই ও ওয়াশিংটন: ‘সুপ্রিম লিডারের গোপন ঘাঁটির লোকেশন আমরা জানি। বিনা শর্তে সারেন্ডার করুন।’ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েকঘণ্টার মধ্যে তার ‘জবাব’ দিলেন স্বয়ং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সাফ বললেন, আত্মসমর্পণ ইরানীয়দের ধাতে নেই। সঙ্গে সোজাসাপ্টা হুমকি, আমেরিকা এই সংঘাতে নাক গলানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করলে নিজের সর্বনাশ নিজেই ডেকে আনবে। অপূরণীয় ক্ষতি হবে তাদের। এতেই ক্ষান্ত হয়নি ইরান। বরং যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে এসে তেহরান প্রথমবার হাইপারসনিক মিসাইল ‘ফাহতা-১’ ব্যবহার করেছে। নিমেষে তা আছড়ে পড়েছে তেল আভিভের প্রাণকেন্দ্রে। ইজরায়েলি রাজধানীতে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশচুম্বী বহুতল ছারখার হয়ে গিয়েছে তার অভিঘাতে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বারবার এয়ার রেইড সাইরেনের শব্দ শোনা গিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে দেখা গিয়েছে সাধারণ ইজরায়েলি নাগরিকদের।
ইজরায়েল-ইরান সংঘাতে আমেরিকা যে এবার সরাসরি যুক্ত হতে পারে, ইতিমধ্যেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করছেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিচুয়েশন রুমে এবিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে এব্যাপারে দূরত্ব বজায় রাখার আভাস দিয়েছিল আমেরিকা। হঠাৎ ওয়াশিংটনের এই ভোলবদল কেন? মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একটি রিপোর্ট বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে দ্রুত রসদ শেষ হচ্ছে ইজরায়েলের। এই অবস্থায় নেতানিয়াহুর দেশের পক্ষে আমেরিকার সহযোগিতা ছাড়া ১০-১২ দিনের বেশি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি অন্য একটি কারণ নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। ইরানের ফারদোয় পাহাড়ের গর্ভে আন্ডারগ্রাউড ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে। সেটিকে ধ্বংস করার মতো শক্তিশালী বোমা ইজরায়েলের হাতে নেই। অত গভীরে আঘাত হানার জন্য প্রয়োজনীয় ‘বাঙ্কার-ব্লাস্টার’ বোমা রয়েছে ওয়াশিংটনের কাছে। আমেরিকার ৩০ হাজার পাউন্ডের এই দানব বোমাই এবার ইরানের ‘দুর্ভেদ্য’ পরমাণু কেন্দ্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে খবর। ফলে ইজরায়েলকে রক্ষার অছিলায় আমেরিকার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে আত্মরক্ষার যুক্তি দেখিয়ে ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ফাইটার জেট ও যুদ্ধের রসদ বাড়াতে শুরু করেছে আমেরিকা। ফলে ‘মেঘনাদে’র ভূমিকা ছেড়ে ট্রাম্প সরকার শীঘ্রই চলতি সংঘাতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে খবর। সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই পাল্টা হুমকি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই— ‘যেসব বিচক্ষণ মানুষ ইরানকে চেনেন ও তার ইতিহাস জানেন, তাঁরা কখনও হুমকির সুরে কথা বলবেন না। কারণ, ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না। মার্কিন বাহিনী যদি কোনওভাবে যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে তাহলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী।’ এই আবহে আমেরিকাকে সাবধান করেছে রাশিয়াও। মস্কোর তরফে ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী সের্গেই র্যাবকভ বলেছেন, আমেরিকা যুদ্ধে অংশ নিলে গোটা পশ্চিম এশিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হবে। পাশাপাশি, ইজরায়েলকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে র্যাবকভ জানিয়েছেন, ইরানের উপর এই হামলা পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
যদিও ইরানের হাইপারসনিক মিসাইলের জবাবে হামলা অব্যাহতই রেখেছে ইজরায়েল। ইজরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ টার্গেটের তালিকায় ছিল ইরানের একটি ইউরেনিয়াম সেন্টার এবং মিসাইলের কম্পোনেন্ট তৈরির কেন্দ্র। ওয়াশিংটনের একটি ইরানীয় মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, ইজরায়েলি হামলায় এখনও পর্যন্ত ৫৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ইজরায়েলে।