পক্ষে
পক্ষে
সমীর কুমার ঘোষ
এমন একটা সময় ছিল যখন আমাদের সমাজে মেয়েরা নানারকম লাঞ্ছনা, গঞ্জনা চুপচাপ মুখ বুজে সহ্য করতে বাধ্য হতো। যেহেতু তখন তাদের বেশিরভাগই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী ছিল না। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকার কারণে তাঁদের উপর ঘটতে থাকা অবিচারগুলি মেনে নেওয়া ছাড়া তাঁদের আর কোনও গতিও থাকত না। বাংলা সাহিত্যে ও চলচ্চিত্রে এর অসংখ্য উদাহরণ ছড়িয়ে রয়েছে। এখন দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। মেয়েরা শিক্ষিত হয়ে উপার্জন করে স্বাবলম্বী হতে শিখেছে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকায় তারা আর চুপচাপ তাদের প্রতি অন্যায়গুলি মেনে নিতে চাইছে না। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক ম্যানেজার
বিশ্বজিৎ কর
উপার্জনের ব্যাপারে মোটামুটি আশ্বস্ত হওয়ার পর একধরনের আত্মনির্ভরতার রেখাচিত্র তৈরি হয়। অন্যায়, অবিচার, বঞ্চনার প্রতিবাদের ভাষা আয়ত্তে আসে। পরনির্ভরশীল না হয়ে পড়ার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলার সৎ সাহস অর্জিত হয়। মুখ বুজে সব কিছু মেনে নেওয়ার পরিস্থিতি থেকে মেয়েদের মুক্তি পাওয়ার অন্যতম দাওয়াই হল আর্থিক দিক থেকে সক্ষম হয়ে ওঠা।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মী
সায়ন তালুকদার
উপার্জন প্রত্যেকটা মানুষকে স্বনির্ভর করে। আসল জোরের জায়গা সেখানেই। নিজের শর্তে বাঁচা যায়, পরমুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয় না। নিজের মতামত, ভালোলাগা, মন্দলাগা নির্দ্বিধায় সেখানে জাহির করা যায় অনায়াসে। উপার্জন যে নারীদের স্বাবলম্বী করেছে, আত্মসচেতন করে তুলেছে, তা বলাই বাহুল্য। যে কোনও অন্যায়, অবিচার, আপসের প্রশ্নে তাঁরা সটান প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, যা জরুরি। উপার্জন সেখানে অবশ্যই বড় ভূমিকা পালন করছে। হাতে টাকা থাকলে গলায় জোরও থাকবে।
গৃহশিক্ষক
পিন্টু দেওয়াশী
নারীদের ক্ষেত্রে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা তাদের নিজস্ব মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে নিজের পায়ে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আর্থিক দিক দিয়ে স্বনির্ভর হলে নিজস্ব মতামত জানানোর ভিত পোক্ত হয়। স্বনির্ভর না হলে প্রতিবাদ করার আগে ভাবতে হয়। যদিও এর সঙ্গে দৃঢ় মনোভাব ও সাহস প্রয়োজন। তাই মেয়েরা উপার্জন করতে পারলে প্রতিবাদ করতেও সুবিধা হয়।
সহকারী শিক্ষক
বিপক্ষে
তুষার বন্দ্যোপাধ্যায়
স্বভাবে মেয়েরা ধীর, স্থির, নম্র। বিয়ের পর তারা আরেক বাড়ি যায়। আলাদা অভ্যাস আচরণ সংস্কারে চলা মানুষের আশ্রয়ে থাকে। কিছু মেয়ে ভাবেন সারাজীবনে কোনও ঘর তাদের ঘর নয়। আপস তাদের রক্তে। সমঝোতার প্রতিশব্দই যেন নারী। আজকের কঠিন পৃথিবীতে পরিবারে দু’জনের রোজগার প্রয়োজন। সব কাজে মেয়েদের সমানাধিকার স্বীকৃত। কোথাও তারা আগের তুলনায় বেশিই প্রতিবাদী হচ্ছে। এর সঙ্গে উপার্জন অনেক কারণের একটি মাত্র। নিজস্ব উপার্জন না থাকলেও মেয়েরা প্রয়োজনে প্রতিবাদ করে।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংককর্মী
সঞ্জীব অধিকারী
যদিও আয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে মহিলারা বঞ্চনা, অবিচার এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হন, এমনকী যখন তাদের আয় কম থাকে বা থাকেই না। শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মূলত ন্যায়বিচার এবং মর্যাদার লড়াই। নারীরা প্রায়শই তাদের পরিবার ও সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার এবং অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একত্রিত হন, আয়ের জন্য নয়।
ল্যাবরেটরি কেমিস্ট
প্রভাস চন্দ্র সেবাই
অতীতে মেয়েদের জায়গা ছিল একান্নবর্তী হেঁশেলে। বড় থেকে ছোট, সকলের মন জুগিয়ে ভাতের হাঁড়ি ঠেলেছে। প্রতিবাদ করার জায়গা দেয়নি সমাজ। সাহিত্যেও সে উদাহরণ পাওয়া যায়। মেয়েদের অল্প শিক্ষা দিয়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোতেই পিতৃ-মাতৃকুল দায়মুক্ত হতো। মেয়েদের উপার্জনের স্বাধীনতা ছিল না। তাও প্রয়োজনে তারা প্রতিবাদ করত। আজ যৌথ পরিবার ভেঙে চৌচির। মেয়েরা সংসারের অনেক দায়ভার কাঁধে তুলে নিয়েছে। প্রয়োজনে প্রতিবাদ আজও করে মেয়েরা। উপার্জন নগণ্যমাত্র।
অবসরপ্রাপ্ত
দেবাশিস হাজরা
প্রতিবাদ উপার্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। উপার্জনশীল মাত্রই ন্যায়পরায়ণ নাও হতে পারেন। আবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ব্যক্তিটিকে উপার্জনশীল হতেই হবে, এমন কথা নেই। কারণ প্রতিবাদী মন তৈরি হয় পরিবারের শিক্ষা থেকে। সে ছাত্রী, বেকার, স্বনির্ভর কম বা বেশি উপার্জনশীল মেয়ে যেমনই হোন না কেন।
বাচিকশিল্পী