


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট জংশন চত্বরে ‘নো-পার্কিং’ জোনেই চারচাকা গাড়ি পার্কিংয়ের অবৈধ কারবার চলছে। রেল পুলিসের নাকের ডগায় রীতিমতো কুপন ছাপিয়ে এই কারবার চলছে। কুপনে রেলের কোনও লোগো বা রেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই পার্কিং আদায় করা হচ্ছে কি না উল্লেখ নেই। রেলকে কার্যত অন্ধকারে রেখে এই ‘তোলা’ আদায় চলছে বলে অভিযোগ। হুঁশ নেই রেল পুলিসেরও।
বীরভূম জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রামপুরহাট। নিত্যদিন এই স্টেশনে নেমেই তারাপীঠ মন্দিরে যাওয়া আসা করেন হাজার হাজার পর্যটক। এছাড়া দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ থাকায় নলহাটি, মুরারই, মল্লারপুর, ময়ূরেশ্বর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই স্টেশনে আসেন। যাত্রীদের অনেকে চারচাকা গাড়ি চড়ে স্টেশনের সামনে নামেন। আবার কেউ আত্মীয়কে নিয়ে যেতে গাড়ি নিয়ে আসেন। এতদিন জংশনের বাইরে টিকিট কাউন্টারের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতেন তাঁরা। কিন্তু সম্প্রতি রেলকে অন্ধকারে রেখে সেই ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে চারচাকা গাড়ি পার্কিংয়ের অবৈধ কারবার চলছে। চারচাকা গাড়ি ঢুকলেই কুপন নিয়ে হাজির হচ্ছে কয়েকজন। সেই কুপনে গাড়ি পিছু ১৮শতাংশ জিএসটি সহ ৩৬টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ‘নো পার্কিং’ জোনে পার্কিংয়ের নামে অবৈধ কারবার চললেও চুপ রেল পুলিস।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলের মদত ছাড়া খোদ স্টেশন চত্বরে তাদেরই জায়গা ব্যবহার করে এই অবৈধ কারবার চলতে পারে না। এদিন কুপন সহ রেল মদত অ্যাপে এক গাড়ির মালিকও অভিযোগ জানিয়েছেন। ওই গাড়ির মালিক বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে।
কুপনে থাকা মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে নিজেকে রাজীব শেখ ও পার্কিংয়ের মালিক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের টু হুইলারের পার্কিং আছে। চারচাকার নয়।’ কিছুক্ষণ পরই বলেন, ‘হ্যাঁ, চারচাকার পার্কিং রয়েছে। রেলের টেন্ডার মেনেই করা হয়েছে।’ কত করে পার্কিং চার্জ নিচ্ছেন? উত্তরে বলেন, ‘জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখে বলতে হবে।’
আরপিএফ ইন্সপেক্টর হংসরাজ মীনা বলেন, ওখানে রেলের কোনও পার্কিং নেই। নো-পার্কিং বোর্ডও লাগানো রয়েছে। এজেন্সির নাম শুনে তিনি বলেন, হয়তো ‘হীরা’ টাকা তুলছে। আমি হাওড়ায় মিটিংয়ে রয়েছি। এর সঙ্গে আমাদের কোনও যোগ নেই। অফিসারদের ফোন করে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলছি। স্টেশন চত্বরে থাকা বৈধ টু হুইলার পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা হীরা শেখ বলেন, কুপনে থাকা নম্বরটি আমার ছেলের। ওখানে রেলের কোনও পার্কিংয়ের অনুমোদন নেই। কোনও গাড়ি দাঁড়ালে আর টাকা নেব না।