Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

‘সাপে কামড়ালে বাঁধন’, বাতিল নিদানই সরকারি বইয়ের পাতায়

সাপে কামড়ালে রোগীর ক্ষতস্থানের কাছে বাঁধন দিতে হবে। সাধারণভাবে এই পদ্ধতিটিকে সঠিক বলে জানে অনেকে। তবে সর্পদংশন বিষয়ক জাতীয় টাস্ক ফোর্স বহু বছর আগেই এই পদ্ধতি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

‘সাপে কামড়ালে বাঁধন’, বাতিল নিদানই সরকারি বইয়ের পাতায়
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাপে কামড়ালে রোগীর ক্ষতস্থানের কাছে বাঁধন দিতে হবে। সাধারণভাবে এই পদ্ধতিটিকে সঠিক বলে জানে অনেকে। তবে সর্পদংশন বিষয়ক জাতীয় টাস্ক ফোর্স বহু বছর আগেই এই পদ্ধতি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। উদ্বেগের বিষয়, যে জায়গা থেকে সঠিক নিয়ম সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীরা জানতে পারবে, সেখানেই রয়েছে ভুল তথ্য। চতুর্থ শ্রেণির আমার পরিবেশ বইয়ে শুধু বাঁধনের কথাই বলা নেই। মাঝেমধ্যে সেই বাঁধন খুলে আবার বাঁধার কথাও বলা হয়েছে। ক্ষতস্থানে বিষদাঁত লেগে থাকলে তা আলগাভাবে ধুয়ে ফেলার মতো পরামর্শও দেওয়া রয়েছে। সর্প বিশেষজ্ঞরা এগুলি বিপজ্জনক বলে মনে করছেন।

Advertisement

শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিলেবাস যুগোপযোগী করার প্রয়োজন। তা না হলে সমস্যা। এক্ষেত্রে তো জীবন নিয়ে টানাটানি হবে।’ সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। রাজ্য সরকারের সর্পদংশন বিষয়ক রিসোর্স পার্সন ডাঃ শুভেন্দু বাগ বলেন, ‘আমি বইটি দেখেছি। তাতে বেশ কিছু বিপজ্জনক পরামর্শ রয়েছে। আমার ধারণা, বাঁধনের বিষয়টি ১০-১৫ বছর আগেই সর্পদংশন বিষয়ক জাতীয় টাস্ক ফোর্স বাতিল করে দিয়েছে। আর সাপের দাঁত সরাতে যাওয়া বা বাঁধন বারবার খুলে দেখা এসব কখনওই নির্দেশিকায় ছিল না।’ কেন বাঁধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে? ডাঃ বাগ বলেন, ‘বাঙালি ধরে আনতে বললে বেঁধে আনে। আর বেঁধে আনতে বললে যে কী করবে, তা বলাই বাহুল্য।’ তিনি জানান, শক্ত করে বাঁধন দিলে সেই অংশের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে গ্যাংগ্রিন পর্যন্ত হতে পারে। অনেক সময় ক্ষতস্থান ফুলে যায়। সেটি সাপের কামড়ের কারণে ফুলেছে নাকি বাঁধনের জন্য, তা বুঝতে বুঝতে বড় ক্ষতি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। আর সাপের দাঁত ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে আবার তা হাতে ঢুকে গিয়ে নয়া বিপত্তি ঘটাতে পারে। কামড়ানো অঙ্গটি নিশ্চল রাখাই হল আধুনিক পদ্ধতি। সেক্ষেত্রে বাঁধন নয়, ব্যবহার করতে হবে স্প্লিন্ট। হাত ভাঙলে যেভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়, সেরকম।
প্রসঙ্গত প্রাথমিকের সিলেবাস বহুদিন পরিবর্তন হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল ভুলের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। বুধবার সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটির নয়া চেয়ারপার্সন অদিতি নাগ চৌধুরী বৈঠক করবেন। সেখানে সিলেবাসে থাকা ভুলগুলি সংশোধন করা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ