নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষা বিষয়টি মাধ্যমিক স্তরে আবশ্যিক করার দাবি উঠেছে। জাতীয় স্কুল গেমসের জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতার সূচনায় এনিয়েই সরব হলেন ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বুধবার এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সল্টলেকে। ছিলেন শিক্ষাদপ্তরের কর্তারা। আর ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিরা।
দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষিকারা বলেন, পড়ুয়াদের কাছে এখনও সবচেয়ে প্রিয় ক্লাস এটাই। হোলিস্টিক প্রগ্রেসের সঙ্গে পড়ুয়াদের শরীর-স্বাস্থ্যের উন্নতির দিকটি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। এমনিতে ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয়টি আবশ্যিক। এতদিন বিষয়টির সরকারি বই ছিল না। কয়েকবছরে এই সরকার তাও তৈরি করেছে। তবে, বিষয়টি নবম-দশমে ফেরেনি। একাদশ-দ্বাদশে, এমনকি, স্নাতকেও এটি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে নেওয়া যায়। বাদ রয়ে গিয়েছে মাঝে শুধু মাধ্যমিক স্তরটিই।
মিটে অংশ নেওয়া নাজনিন, অশ্মি, ঐন্দ্রিলা, সৌমিলিরা বলে, তাদের কেউ হয়তো ইংরেজিতে কাঁচা কেউ আবার অঙ্কে। কিন্তু জিমন্যাস্টিকসে স্কুলের টপার তাদের ধারেকাছে নেই। তা সত্ত্বেও তারা সেই সুবিধা পাচ্ছে না। শারীরশিক্ষা আবশ্যিক বিষয় হিসেবে থাকলে অথবা আগের নিয়মে অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে সেটির নম্বর যোগ হলে তারা সুবিধা পেত। যে জিমন্যাস্টিকসের প্রস্তুতির জন্য তাদের দিনের ছ’ঘণ্টা ব্যয় হয়, তার সুফল পরীক্ষার নম্বরে তারা পাচ্ছে না বলে আক্ষেপ শোনা যায়। একজন শিক্ষক বলেন, রাজ্য সরকারও বিষয়টি মাধ্যমিক স্তরে চায়। আমরা যতদূর জানি, এনিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে কয়েকবছর আগে নির্দেশও দিয়েছিল শিক্ষাদপ্তর।
পর্ষদের এক কর্তার বক্তব্য, মাধ্যমিকে নতুন একটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা নীতিগত সিদ্ধান্ত। পর্ষদ এককভাবে তা করতে পারে না। তবে, এখন ৪৬টি বিষয় অপশনাল হিসেবে পড়া যায়। তার মধ্যে স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষাও রয়েছে। নম্বর যোগ হয় না বলে অধিকাংশ পড়ুয়াই সেগুলি নেয় না। বরং, আগের নিয়মে অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে এগুলি চালু হলে তারা আগ্রহী হবে। এমন কোনো প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।



