সুইমিং পুলের জলে নানারকম রাসায়নিক মেশানো থাকে। ফলে নিয়মিত সাঁতার কাটলে চুল খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কীভাবে দেখভাল করবেন চুলের? জানালেন হেয়ার এক্সপার্ট জাভেদ হাবিব।
সুইমিং পুলের জলে নানারকম রাসায়নিক মেশানো থাকে। ফলে নিয়মিত সাঁতার কাটলে চুল খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কীভাবে দেখভাল করবেন চুলের? জানালেন হেয়ার এক্সপার্ট জাভেদ হাবিব।
সাঁতার— শরীরের জন্য এমন উপকারী ব্যায়াম আর বিশেষ নেই। যোগবিদ থেকে ফিজিক্যাল ট্রেনার সকলের মতেই সাঁতার ‘হোল বডি এক্সারসাইজ’। গোটা শরীর সচল রাখতে সাঁতারের তাই জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু সুইমিং পুলে সাঁতার কাটলে চুলের অনেক ক্ষতি হয়। হেয়ার এক্সপার্ট জাভেদ হাবিব বলেন, সুইমিং পুলের জলে ক্লোরিন মেশানো থাকে। ফলে চুলের উপর সেই কেমিক্যালের প্রভাব পড়ে এবং তা থেকে চুল রুক্ষ হয়ে যায়। চুলের স্বাভাবিক জেল্লা নষ্ট হয়। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটলে তার আগে ও পরে চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। জাভেদ বলেন, ‘সাঁতারের সময় আমরা সুইমিং ক্যাপে মাথা ঢেকে নিই। তবু তার ভিতর দিয়েও চুলে জল ঢোকে। ফলে চুলের যত্নের দিকে সজাগ নজর রাখা জরুরি।’ কীভাবে নেবেন চুলের যত্ন? হাবিব বললেন, যাঁরা নিয়মিত সুইমিং পুলে সাঁতার কাটেন তাঁদের চুলের বিশেষ কিছু যত্ন নিতে হবে। তবে তার আগে জানা দরকার সুইমিং পুলের জল থেকে চুলের কেমন ক্ষতি হতে পারে?
ক্ষতির ধরন
আগেই বলেছি পুলের জলে ক্লোরিন মেশানো থাকে। তাতে চুল রুক্ষ হয়ে যায়। চুলের রং লালচে হয়ে যেতে পারে। সাঁতার কেটে উঠে চুল মুছে নিই আমরা সকলেই। তাতে চুলে ঘষা লাগে এবং অনেক সময়ই চুলের ডগা ভেঙে যায়। ক্লোরিনের প্রভাবে অনেকের চুল পড়ে যেতে থাকে। চুলে জট পড়ার সম্ভাবনা বেশি মাত্রায় দেখা দেয়। এমন নানা ধরনের ক্ষতির হাত থেকে চুলকে বাঁচাতে হবে। তার জন্য কিছু নিয়ম মানা জরুরি।
আগে থেকেই সাবধান
সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে নামার আগে জলে চুল ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। তাতে পুলের জলে যে ক্লোরিন থাকে তা চুলে কম পরিমাণে মিশবে। এরপর একটা ভালো কোনও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ও স্ক্যাল্প মাসাজ করে নিন। এই কন্ডিশনার চুলের উপর একটা প্রোটেকটিভ লেয়ার তৈরি করবে। কন্ডিশনারের বদলে নারকেল তেল বা তিলের তেলও লাগাতে পারেন। এক্ষেত্রে একটু বেশি পরিমাণেই তা চুলে লাগিয়ে নেবেন। এরপর চুলে বিনুনি বেঁধে তারপর তা খোঁপা করে আটকে নিন। তাতে সাঁতার কাটার সময় চুল চার দিক দিয়ে খুলে আসতে চাইবে না। এবং সবশেষে চুল সুইমিং ক্যাপ দিয়ে ঢেকে নিন। তাতে সরাসরি সুইমিং পুলের জল চুলে লাগবে না। চুল বেঁধে নেওয়ার প্রসঙ্গ অবশ্য শুধুই বড় থেকে মাঝারি মাপের চুলের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। তবে যাঁদের চুল ছোট করে কাটা তাঁরা চুল বাঁধতে না পারলেও সুরক্ষার বাকি নিয়মগুলো মেনে চলবেন।
সাঁতারের পর
সাঁতার কেটে ওঠার পর স্বাভাবিক প্রবণতা চুল ভালো করে মুছে ফেলা। কিন্তু তা করবেন না। বরং চুল আবারও ভালো করে ধুয়ে নিন। আঙুলের সাহায্যে স্ক্যাল্প ও চুল মাসাজ করে নেবেন। তাতে ক্লোরিন ও জলে মেশানো অন্যান্য কেমিক্যাল, নুন ইত্যাদি ধুয়ে যাবে। এরপর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক্ষেত্রে খুব লাইট কোনও শ্যাম্পু ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেন হাবিব। তাঁর কথায়, সুইমিংয়ের সময় এমনিতেই চুলে কেমিক্যাল ঢোকে। ফলে শ্যাম্পু যেন খুবই মাইল্ড হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বেবি শ্যাম্পু ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়ার পর ঘন কোনও কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন চুলে। তাতে চুল পুষ্টি পাবে। অন্তত পনেরো মিনিট কন্ডিশনার লাগিয়ে রেখে দিন। তারপর চুল ধুয়ে ফেলুন। তারপর চুল হালকা হাতে মুছে নেবেন। খুব বেশি ঘষবেন না। এবার চুল স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে নিন। এই সময় ড্রায়ার কখনওই ব্যবহার করবেন না চুল শোকানোর জন্য।
সাপ্তাহিক যত্ন
যাঁরা নিয়মিত সুইমিং পুলে সাঁতার কাটেন, তাঁদের জন্য চুলের যত্নের একটা সাপ্তাহিক রুটিন দিলেন জাভেদ হাবিব। তাঁর কথায়, সুইমিং পুলের জলে চুল ড্রাই হয়ে যায়। ফলে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন যাতে ময়েশ্চারাইজারের পরিমাণ বেশি। এছাড়াও সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার হট অয়েল মাসাজ নিন। হট অয়েল মাসাজের ফলে চুলের ডগা ভেঙে যাওয়া বা চুল পড়ার সমস্যাও কমে যাবে। অয়েল মাসাজ চুলের ডগা থেকে পুষ্টি জোগাবে। ফলে চুলের জেল্লা বাড়বে। তা রুক্ষ ও প্রাণহীন লাগবে না।
অনেক সময় পুলের জলে মেশানো কেমিক্যালের ফলে স্ক্যাল্প রুক্ষ হয়ে যায়। ড্রাই স্ক্যাল্প থেকে ডেড সেল ওঠে, সেক্ষেত্রে স্ক্যাল্প আর্দ্র রাখতে হবে। নারকেল তেল, জোজোবা অয়েল, অলিভ অয়েল মাসাজ করুন নিয়মিত। কিন্তু যদি র্যাশ বেরয়, তাহলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে হাইড্রেটিং জেল, ময়েশ্চারাইজিং অয়েন্টমেন্ট ইত্যাদি লাগান। স্ক্যাল্প মাসাজ যখনই করবেন তখন চুল যেন ভিজে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সেনসিটিভ স্কিন হলে সুইমিং পুলে নামার আগে স্ক্যাল্পে ইউভি প্রোটেক্টিভ ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগান। তাতে চুল সুরক্ষিত থাকবে।
চুলের প্যাক
সুইমিং করলে একটা ভালো প্যাক চুলে দু’দিন লাগাতে পারেন— বানানা অ্যালোভেরা প্যাক। এটা বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন সহজেই। দুটো পাকা কলা, আর তিন টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল লাগবে এই প্যাক তৈরি করতে। চাইলে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল (ল্যাভেন্ডার, রোজমেরি) মেশাতে পারেন। প্রথমে পাকা কলা দুটো চটকে মেখে নিন। তার সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে একসঙ্গে ফেটিয়ে নিন। এবার একটু সুগন্ধ যোগ করতে চাইলে এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। তারপর তা স্ক্যাল্প থেকে শুরু করে চুলের নীচ পর্যন্ত লাগিয়ে নিন। মোটামুটি আধ ঘণ্টা রেখে দিন। তারপর জলে ধুয়ে নিয়ে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। হালকা হাতে মাথা মুছে চুল স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে নিন। এই প্যাক সপ্তাহে দু’দিন অন্তত ব্যবহার করুন। দেখবেন চুল সতেজ ও সুন্দর হবে।
কমলিনী চক্রবর্তী