• আজ থেকে বেশ কিছুটা সময় পিছনে তাকালে আলাদা করে চপিং অথবা কাটিং বোর্ডের ব্যবহার ছিল না। কাঠের টেবিল, পাথরের সমতল বা অন্যান্য শক্ত বস্তুর ওপর প্রয়োজনীয় সবজি, মাছ, মাংস কেটে নেওয়া যেত। পরের দিকে শুরু হয় কাঠের মোটা টুকরোর ব্যবহার। বিশেষ করে বড়ো কাঠের টেবিলের ওপর মাংস কাটার প্রচলন আগে থেকেই ছিল। সেটা অবশ্য এখনও বাজারে গেলে দেখতে পাওয়া যায়। ঠাকুমা, দিদিমা, মা বঁটিতে কাটতেও স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তবে আধুনিক রান্নাঘরে চপিং বোর্ডের সমাদর অনেক বেশি। তাই কাঠের চপিং বা কাটিং বোর্ড এখন সোজা ঢুকে পড়েছে রান্নাঘরের অন্দরে। এর ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। হেঁশেলে কীভাবে বঁটির পাশাপাশি একে অপরের পরিপূরক হয়ে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিল ছুরি ও কাটিং বোর্ড?
মডিউলার কিচেন-এর হাত ধরে প্রায় একবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ‘কাটিং বোর্ড’-এর আগমন। তাই বঁটির জায়গায় নিমেষে সহজ ও আধুনিকতায় মোড়ানো ছুরি-কাটিং বোর্ড-এর কম্বিনেশন জনপ্রিয়তা লাভ করে। যদিও এর আগে দ্রুত কাটাকুটির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে কাটিং বোর্ডের ব্যবহার পশ্চিমের দেশগুলোতে শুরু হয়। এর সুবিধা কী কী?
• বাজারে কাঠ, স্টিল কিংবা প্লাস্টিক, এসব কিছুর কাটিং বোর্ড থাকলেও, কোনটা ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত? বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠের চপিং বোর্ড ব্যবহার করাই শ্রেষ্ঠ। এতে ছুরি দীর্ঘদিন ভালো থাকে। এছাড়াও ফল, মাছ বা মাংস কাটার সময় যে রস বেরিয়ে আসে, তা রুখতে ভালো মানের কাঠের চপিং বোর্ডের চারপাশে সরু খাঁজ থাকে, যা এই রস আটকে রাখে।
• কাঠের বা বাঁশের তৈরি কাটিং বোর্ড পরিবেশবান্ধব। এছাড়া রান্নাঘরের স্ল্যাব নোংরা হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করে এই বোর্ড।
• মাছ, মাংস কাটার চপিং বোর্ড এবং সবজি কাটার চপিং বোর্ড আলাদা রাখাই ভালো। এতে খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর আশঙ্কা কমে যায়।
যত্ন: কাঠের চপিংবোর্ড ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত যত্নেরও প্রয়োজন, মাঝেমধ্যে তাতে তেল মাখানো দরকার। এতে বোর্ড আরও টেকসই হবে। এক্ষেত্রে যেকোনো রান্নার তেল ব্যবহার করা যায়। প্রত্যেকবার ব্যবহারের পর যেকোনো গন্ধ দূর করতে নুন ও লেবু দিয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে জলে ধুয়ে নিন। বাসন ধোওয়ার তরল সাবান ঈষদুষ্ণ জলে গুলে তা দিয়ে ধুয়ে, পরিষ্কার জলে আরও একবার ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে নিন।
মূল্য: বাজারে বিভিন্ন উপাদান ও আকারের কাটিং বা চপিং বোর্ড পাওয়া যায়। ছোটো ও সাধারণ মানের বোর্ডের দাম ৬০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ভারী বা ভালো মানের প্লাস্টিক বোর্ড ২৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, সাধারণ কাঠের বা এমডিএফ বোর্ড ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। একটু বড়ো বা ভালো মানের কাঠের বোর্ড ২৫০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি। এছাড়াও গ্রানাইট বা পাথর কাটার কাটিং বোর্ড প্রায় ২৬০০ টাকা ও মাঝারি আকারের স্টিল চপিং বোর্ড প্রায় ২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
আরাত্রিকা চক্রবর্তী