দেখতে খুবই সুন্দর। কিন্তু কাঁটায় তীব্র বিষ। উষ্ণ জলের প্রবাল প্রাচীরে দেখা মেলে লায়ন ফিশের। এই মাছের সঙ্গে পরিচয় করালেন কালীপদ চক্রবর্তী।
দেখতে খুবই সুন্দর। কিন্তু কাঁটায় তীব্র বিষ। উষ্ণ জলের প্রবাল প্রাচীরে দেখা মেলে লায়ন ফিশের। এই মাছের সঙ্গে পরিচয় করালেন কালীপদ চক্রবর্তী।
দেখলে হয়তো ভাববে রঙিন সুন্দর একটি মাছ। পাখনায় অসাধারণ কারুকার্য করা। সাগরের নীল জলে যখন এই মাছটি তার সুদৃশ্য রঙিন ডানা মেলে দুলকি চালে আপনমনে ঘুরে বেড়ায়, তখন দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। মনে হয় কেউ যেন ঝালর নেড়ে মজা করছে। তবে সাবধান! মাছটিকে কিন্তু স্পর্শ করা নিষেধ। ওর সুন্দর ঝালরের মতো পাখনায় লুকানো আছে ছুঁচের মতো বিষাক্ত কাঁটা। সেগুলো সংখ্যায় খুব একটা কম নয়। প্রায় ১৮টি বিষাক্ত কাঁটা রয়েছে। এই ছোট ছোট মাছগুলো আত্মরক্ষা এবং শিকার ধরার জন্য জন্মসূত্রেই প্রকৃতির কাছ থেকে এগুলি পেয়ে থাকে। ছোট্ট ছোট্ট কুচো চিংড়ি এই কাঁটার এক খোঁচাতেই ঘায়েল হয়ে যায়। আর মানুষের গায়ে যদি এই কাঁটা কখনও ফোটে, তাহলে ব্যথায় লাফালাফি শুরু হয়ে দেবে। এই কাঁটা এতই বিষাক্ত, যে স্থানে ফুটবে সেই স্থানটি তৎক্ষণাৎ অবশ হয়ে যাবে। এমনকী শ্বাসকষ্ট ও বমি বমি ভাবও দেখা যেতে পারে। তবে ওদের কাঁটার খোঁচা খেয়ে মানুষের মৃত্যুর কোনও খবর আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এই মাছগুলোর ঠিকানা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা। তবে বিশ্বের বিভিন্ন সাগরের উষ্ণ জলের প্রবাল প্রাচীরে এদের দেখা যায়। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া, জাপানের উত্তর থেকে দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণ কোরিয়ার সাগর জলে এই মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। প্রশান্ত মহাসাগর ছাড়া ভূমধ্যসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর ও লোহিত সাগরে রয়েছে এই মাছ। সুন্দর রূপের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এই ভয়ঙ্কর মাছটির নাম লায়ন ফিশ। এর বাংলা করলে দাঁড়ায় সিংহ মাছ। এছাড়াও এর বহু নাম আছে। কেউ বলেন টার্কি ফিশ, কেউ বলেন ড্রাগন ফিশ, কারও কাছে স্করপিয়ন ফিশ। আবার কেউ কেউ বলেন ফায়ার ফিশ। লায়ন ফিশগুলো লম্বায় সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার হয়। আবার টেনিস বলের মতো ছোট আকারের লায়ন ফিশও আছে। ক্যারিবিয়ান লায়ন ফিশ বেশ বড় হয়ে থাকে। দৈর্ঘ্যে এরা ৫৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বিষাক্ত কাঁটা ওরা শিকার ধরার থেকে আত্মরক্ষার কাজেই বেশি ব্যবহার করে। সাধারণত দল বেঁধে বাস করে ওরা। মাছ হিসেবে আয়ু কিন্তু এদের মোটেই কম নয়। এক একটি লায়ন ফিশ ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।