Bartaman Logo
১৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

খেলার মাঠে শান্তির বাণী

খেলার মাঠ থেকে শান্তির বার্তা তুলে ধরলেন সাগর দাস। ফুটবল ও রাগবির ইতিহাসে সংঘাত ও ঐক্যের নজির। বিস্তারিত পড়ুন।

খেলার মাঠে শান্তির বাণী
  • ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কখনো কখনো খেলার মাঠ থেকে বিশ্বজুড়ে চলা হিংসা-হানাহানির বিরুদ্ধে শান্তির বাণী উচ্চারিত হয়। অতীতে এমন নজির রয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে রাগবির মঞ্চে। তেমনই ঘটনা তুলে ধরলেন সাগর দাস।

Advertisement

বিশ্বজুড়ে থেমে নেই কামানের গোলা। চারদিকে বারুদের গন্ধ। তার মধ্যেও পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ ফুটবলের আবেগে ভাসছেন! ইতিহাস বলছে, খেলাধুলো এবং রাজনীতির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৩৬ সালে অনুষ্ঠিত হয় বার্লিন ওলিম্পিক গেমস। অ্যাডলফ হিটলারের হাতে প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, নাৎসি জার্মানির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা। যদিও হিটলারের অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিলেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন অ্যাথলেটিক জেসি ওয়েন্স। সেইবার চারটি স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালে এল সালভাদর ও হন্ডুরাসের মধ্যে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ ঘিরে শুরু হয়েছিল যুদ্ধ। যা ইতিহাসে ‘ফুটবল যুদ্ধ’ নামে কুখ্যাত। ওই বছর ১৪ জুলাই সালভাদরের সেনারা হন্ডুরাসে সামরিক অভিযান চালায়। চারদিনের মধ্যে অবশ্য থেমে যায় সেই সংঘর্ষ। যুদ্ধটি ক্ষণস্থায়ী হলেও প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।
সাল ১৯৯৫। রাগবি বিশ্বকাপ। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রতীক নেলসন ম্যান্ডেলার দক্ষিণ আফ্রিকার জয় জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ১৯৯৫ সালের ২৪  জুন। জোহানেসবার্গের এলিস পার্ক স্টেডিয়ামে বসেছিল আসর।  দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিদ্বন্দ্বী নিউজিল্যান্ডকে ১৫-১২ ব্যবধানে হারিয়ে রাগবি বিশ্বকাপ জয় করে। ১৯৯১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যমূলক শাসনের অবসানের পর এটিই ছিল প্রথম কোনো বড়ো প্রতিযোগিতার আসর। সেসময় নোবেল  শান্তি পুরস্কার জয়ী প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা  ‘এক দল, এক দেশ’ স্লোগান নিয়ে দেশে ঐক্য ও শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে আমেরিকা ও ইরানের ম্যাচে খেলোয়াড়রা মাঠে নামার আগে শান্তির বার্তা দিতে একে অপরকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়েছিলেন। 
ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড়ো শক্তি হল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে কাছে টেনে নিতে পারে। ৪৮টি দেশ, শতাধিক ভাষা, হাজারো সংস্কৃতি— একটি মাঠে, একটি বলের পিছনে এগিয়ে চলেছে। ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায়— খেলাধুলোর আসরকে কেন্দ্র করে সংঘাতকবলিত অঞ্চলে সাময়িক শান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৪ সালের ক্রিসমাসে ব্রিটেন ও জার্মান সেনারা নো ম্যানস ল্যান্ডে ফুটবল খেলেছিলেন। প্রবল শীত উপেক্ষা করে বেলজিয়ামের সীমান্তে সেই ফুটবল ম্যাচ হয়। খেলার আগে অস্ত্র নামিয়ে রেখে একে অপরকে ফুল ও উপহার দিয়ে সৌজন্য বিনিময় করেছিল দুই দেশের বাহিনী। তাই ফিফা বিশ্বকাপ শুধুমাত্র খেলাধুলোর আসর নয়, মানবতার মঞ্চও বটে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ