বিনতা রায়চৌধুরি: ছেলেটির নাম মিহির। বাসবীর কাছে কাজ করে। অনেকরকম কাজ। কখনো সে মালি, কখনো প্লাম্বার, কখনো পিওন আবার কখনো বা ইলেকট্রিশিয়ান।
মিহিরের জীবনে একটাই ইচ্ছে, মেয়ে কল্যাণীকে মানুষ করা। মেয়েকে অনেক পড়াতে চায় মিহির। কল্যাণী ভালো চাকরি করবে, সবাইকে দেখবে, বাড়ির মুখ উজ্জ্বল করবে। এটা মিহিরের ইচ্ছে না স্বপ্ন জানে না ও। তবে এই কথাগুলো শুনেই বাসবী মিহিরকে কাজে রেখেছেন।
সপ্তাহে তিনদিন আসে মিহির। বাজারে যেমন দশকর্মা ভাণ্ডার থাকে, মিহির বাসবীর চারপাশে তেমনই দশকর্মা কর্মী হয়ে ঘোরে। তার কাজে ফাঁকি নেই। মাইনে নিয়ে মুখ ব্যাজার নেই। শুধু বাসবীর হুকুমের অপেক্ষায় থাকে।
সপ্তাহে দু’দিন নিজের গাড়ি বের করেন বাসবী। ড্রাইভার নগেনকে বলা থাকে, সে হাজির হয়ে যায়। বাসবী সেদিন দেখলেন, গাড়িটা ঝকঝকে করে ধুচ্ছে-মুছছে মিহির। মনে মনে ভাবলেন, গাড়ি ধোয়ার জন্য নগেন ভালোই টাকা নেয়। মিহির যদি ধুয়ে দেয় খারাপ হয় না। তাছাড়া, নগেন দায়সারা কাজ করে। কিছু বললে একই উত্তর, ‘কী করব? আমার সময় কোথায়?’
বাসবী আজ গাড়িতে উঠলে নগেন বলল, ‘আপনি গাড়ি ধোয়ার জন্য আলাদা লোক রেখেছেন?’ বাসবী মাথা নাড়লেন, ‘না, ও তো মিহির। গাড়িটা নোংরা দেখেছে তাই ধুয়ে দিল। আমি কিছু বলিনি।’
মিহিরের একটা বিশেষত্ব লক্ষ করেছেন বাসবী। এক এক সপ্তাহে হঠাৎ চারদিন এসে যায়, আর চতুর্থ দিন বিনীতভাবে বলে, ‘আমাকে কিছু অ্যাডভান্স দেবেন ম্যাডাম?’ কখনো বলে মেয়ের মাইনে দেব, কখনো মেয়ের বই কেনা, কখনো তার স্কুল ইউনিফর্ম ইত্যাদি কারণ দেখায় মিহির। বাসবী অ্যাডভান্স দিয়ে দেন। মনে মনে ভাবেন সব মানুষই একটা স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। মিহিরেরও একটা স্বপ্ন আছে। সেটা সার্থক করতে বাসবী না হয় তাকে একটু সাহায্যই করল।
একজন মানুষের কথা জানে বাসবী, যে তার শেষ শক্তি বিন্দু দিয়ে স্বপ্ন সফল করতে চেয়েছিল। কত যে প্রতিকূল অবস্থার মোকাবিলা করেছে সে, কত যে অপমান সহ্য করেছে, তবু দমে যায়নি। অমন মনের জোর না থাকলে সাফল্য কি আসে? সেই অতুলনীয় মানুষটির কথা যখনই মনে পড়ে, বাসবীর অন্তরাত্মাটি কোমল হয়ে আসে। কর্মক্ষেত্রে বাসবীকে সবাই ভয় পেত, তাঁর প্রতাপে সবাই তটস্থ ছিল কিন্তু সেই মেজাজি মানুষটার যে একটা নরম অন্তর ছিল, সেটা কেউ দেখতে পেত না। সেই নম্রতার পেছনে একজনেরই অবদান ছিল। নাম তার বিদ্যুৎলতা।
দুই
একদিন নগেনের সামনেই মিহির এসে তাড়াহুড়ো করে ম্যাডামের কাছ থেকে অ্যাডভান্স নিয়ে গেল। নগেন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, গাড়ি ধোওয়ার জন্য অত টাকা দিলেন?’
‘না-না, এটা ওর মাইনের অ্যাডভান্স। মেয়ের বই কিনবে বা স্কুলের ফিজ দেবে। মেয়েকে মানুষ করাই মিহিরের স্বপ্ন।’
‘মেয়েকে মানুষ করবে ও? ওই টাকা নিয়ে রেল লাইনের ধারের ঝুপড়িতে যাবে, নেশা করে এসে হয়তো মেয়েকে মেরে তক্তা করবে।’
বাসবীর যেন ইলেকট্রিক শক লাগল, ‘মিহির? তুমি কী করে জানলে? ওকে চেনো তুমি?’
‘চিনব না কেন? ওই তো নতুন পাড়ায় থাকে। আমাদের পাশের পাড়া।’
সেইদিন বাড়ি ফিরে বাসবী গুম মেরে রইলেন। লোক চিনতে এমন ভুল করলেন তিনি! তিনি ভেবে এসেছেন একটা মানুষের স্বপ্নকে সার্থক করতে প্রতিনিয়ত পরোক্ষে সাহায্য করছেন! আর বাস্তবটা অন্য কিছু? কী শাস্তি দেওয়া যায় মিহিরকে? কাল কাজে এলে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবেন? নাকি সপাটে একটি চড় কষাবেন ওর গালে? কিন্তু সেটা কি বাসবীকে মানায়?
মিহির সকালে আসবে, প্রস্তুত হয়ে আছেন বাসবী। কিন্তু রান্নাঘরে যেই তিনি মাইক্রো ওভেনের প্লাগটা লাগিয়েছেন অমনি ফ্লাশ দিয়ে সারা বাড়ি অন্ধকার হয়ে গেল। দিনের বেলা তাই রক্ষা, রাত হলে তো ভীষণ অবস্থা হত!
ঠিক তখনই মিহির এসে হাজির। বাধ্য হয়েই বাসবী বললেন, ‘মনে হচ্ছে ফিউজ উড়ে গেছে। তুমি সারাতে পারবে?’
‘দেখছি ম্যাডাম।’ এই বলে কাজে হাত দিল মিহির আর দশ মিনিটের মধ্যে আলো জ্বলে উঠল। ইলেকট্রিকের জিনিসগুলো চলতে লাগল স্বাভাবিকভাবে। বাসবী কী বলবেন? ওকে দূর করে দেবেন আজ, এই কথা ভেবেই বসেছিলেন। কিন্তু পারলেন না। যে কাজটা মিহির দশ মিনিটে করল, সেই কাজটা করতে কোনো ইলেকট্রিক মিস্ত্রি বহুক্ষণ লাগাত। অনেক টাকা চার্জও করত নিশ্চয়ই।
মিহির গাছে জল দিতে যাচ্ছিল, বাসবী ডাকলেন, ‘মিহির শোনো। তুমি যে পরশু অ্যাডভান্স টাকা নিয়ে গেলে, সেটা দিয়ে কী করলে?’
‘কল্যাণীর স্কুলে একটা নৃত্যনাট্য হবে, সেখানে কল্যাণী সরস্বতী ঠাকুর হয়েছে। ওর পোশাক কিনেছি। ড্রেস সবাইকেই বাড়ি থেকে আনতে হবে বলে দিয়েছিল। তার জন্য আপনার থেকে...।’
‘চুপ, একদম চুপ। সরস্বতীর পোশাক? ডান্স ড্রামা? নাকি রেল লাইনের ধারের ঝুপড়িতে রাতে নেশা করে এসে বাড়িতে নিরীহ বউ-মেয়ের ওপর উৎপাত করেছ?’
‘এ আপনি কী বলছেন ম্যাডাম? কল্যাণী আমার চোখের মণি। ওর নামে মিথ্যা কথা বলে টাকা নিতে পারি আমি?’
মিহিরের অভিনয় দেখে তাজ্জব হয়ে গেলেন বাসবী। তিনি কি এতটাই ঢোঁড়া সাপ হয়ে গেছেন? বক্র হেসে বললেন, ‘আর কোনো দিন অ্যাডভান্স পাবে না। তবে তার আগে মেয়ের স্কুলের বই কেনার রিসিট, ইউনিফর্ম কেনার বিল, আর স্কুল ফিজের কাউন্টার কপি এনে দেখাবে।’
মিহির একটু চমকে উঠল যেন, বলল, ‘কেন ম্যাডাম, হঠাৎ এ কথা বললেন?’
‘সে উত্তর তোমাকে দেব না। যা বললাম, এনে দেখাবে। ব্যস, আর কিছু না।’
‘কী করে দেখাব ম্যাডাম? মেয়ের বই আমি কলেজ স্ট্রিটের পুরানো বইয়ের দোকান থেকে কিনি, ওরা তো বিল দেয় না। আর ইউনিফর্ম নিই কল্যাণীর উঁচু ক্লাসের মেয়েদের থেকে। যেগুলো ওদের ছোটো হয়ে গেছে। আর বললেন স্কুল ফিজের কাউন্টার কপি আনতে, সে তো দেয় না স্কুল। বিল্ডিং ফিজ, স্পোর্টস ফিজ আর মিসলেনিয়াস বলে একটা যোগ করে টাকাটা লিখে দেয় স্লিপে, সেটাই দিয়ে দিতে হয়।’ বাসবী তাকিয়ে রইলেন মিহিরের দিকে, এগুলো যে সত্যি কথা তার তো প্রমাণ নেই। হয়তো পুরোটাই বানিয়ে বলছে।
মিহির যাওয়ার সময় এসে দাঁড়াল, ‘ম্যাডাম কাল তো রথ, কল্যাণীর জন্য একটা ছোটো রথ কিনব আর রথ সাজানোর জিনিস। যদি কিছু টাকা অ্যাডভান্স দেন, বড়ো ভালো হয়।’
‘অ্যাডভান্স তোমাকে? একেবারেই না। খুব চালাক হয়েছ, মেয়ের রথ কেনার নাম করে এবার টাকা চাইছ? যাও মিহির, কোনো টাকা পাবে না।’
মাথা নীচু করে মিহির চলে গেল। বাসবী ভাবলেন, যেহেতু কাল রথযাত্রা সেই সুযোগটা নিচ্ছিল মিহির। কিন্তু রিটায়ার্ড জজ বাসবী দে-র প্রতাপ কমে গেলেও বুদ্ধি কমেনি।
তিন
বাসবী সকাল থেকে একটু অন্যমনস্ক হয়ে আছেন। মনের মধ্যে নানা ওঠা পড়া চলছে। সেটাও ছিল একটা রথের দিন। ছোটো মেয়েটির বায়নায় তার মা একটা রথ কিনে এনেছে, কিন্তু সেটা সাজানোর জন্য যা লাগবে সেটা জোগাড় করতে পারেনি। অপেক্ষা করছে মেয়ের বাবা এলে তার কাছে টাকা চাইবে। মেয়ের বাবা বাড়ি ঢুকে সব শুনে রেগে উঠল, ‘তোমার সব ব্যাপারে বাড়াবাড়ি।’ মেয়েকে আহ্লাদ দেওয়া একটু কমাও লতা।’ মেয়ের মা রেগে গেল, ‘আহ্লাদের কী হয়েছে? পাশেই ওর খুড়তুতো ভাইয়েরা রথ টানছে। তাই দেখে ওর একটু শখ...।’ লতার কথা শেষ করতে দিল না মেয়ের ঠাকুরমা, বলে উঠল, ‘ছেলেরা রথ টানে, মেয়েরা আবার রথ টানে নাকি?’ মেয়ের মায়ের রাগ হয়ে গেল খুব, সে তেতে উঠল, ‘আপনি সবসময় অত ছেলে-মেয়ের ভাগ করেন কেন?’ মেয়ের বাবা করল কী রেগে উঠে বারান্দা থেকে ছোট্ট রথখানা ধাক্কা দিয়ে উঠোনে ফেলে দিল। মা রাগে দুঃখে চেঁচিয়ে উঠল, ‘ও কী! ওটা খুকির রথ, তুমি ফেলে দিলে?’ মেয়ের মা গিয়ে শুয়ে পড়ল, সারাদিন কিছু খেল না, উঠল না, কথাও বলল না কারও সঙ্গে। রাতে মায়ের মেয়ে মাকে ধরে টানাটানি করতে লাগল, কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘তুমি ওঠো মা, আমার রথ চাই না। কিছু চাই না।’ মেয়ের বাবাও বোধহয় বুঝেছিল, কাজটা ঠিক হয়নি, সে বলল, ‘বেশ, সামনের বার রথ কিনে আনব। তুমি ওঠো লতা।’
ছিটকে উঠল লতা, বলল, ‘আমি শুধু লতা নই, লতিয়ে বাঁচি না, আমি বিদ্যুৎলতা। বলে রাখলাম, সামনের বার কেন, আর কোনো বছরই খুকি রথ টানবে না। খুকি রথে চড়বে। এই সব ঠুনকো খেলার রথ নয়। অনেক বড়ো আর দামি রথে চড়ে ঘুরবে আমার খুকি। সেইভাবেই তৈরি হবে ও।’
একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল বাসবীর। হ্যাঁ, বিদ্যুৎলতা দেখে গিয়েছিলেন তাঁর খুকি জজ সাহেবা হয়েছে। অনেক দামি আর সম্মানের রথে চড়ে ঘুরে বেড়ায় সে।
বাসবী উঠে পড়লেন, নগেনকে ফোন করে ডাকলেন। তিনি বেরবেন। নগেন জিজ্ঞাসা করল, ‘সকালেই বেরবেন?’
‘হ্যাঁ।’ ছোটো কথায় উত্তর দিলেন বাসবী।
বাসবী বেরিয়ে বাজারে গেলেন। একখানা ছোটো রথ কিনলেন। রথ সাজানোর জন্য রঙিন কাগজ, ফুল, বাহারি পাতা, ছোটো জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা— সব কিনে গাড়িতে রাখলেন। তারপর নগেনকে বললেন,
‘চল এবার।’
‘কোথায় যাব ম্যাডাম?’
‘ওই যে তোমাদের বাড়ির পাশে নতুন পাড়ায়।’ নতুন পাড়ায় ঢোকার পর বাসবী বললেন, ‘এবার মিহিরের বাড়ি নিয়ে চল।’ নগেন আমতা আমতা করতে লাগল। বাসবী হাসলেন, ‘তার মানে তুমি চেনো না।’ কয়েকটা ছেলে বল খেলছিল, তাদের ডেকে নিজের মোবাইল ফোনে তুলে রাখা মিহিরের ফোটোটা দেখিয়ে বললেন, ‘এর বাড়ি চেনো?’ ছোটো ছেলেটা বলল, ‘হ্যাঁ, সোজা গিয়ে বাঁদিকে ঘুরলেই মিহিরদার বাড়ি।’ নির্দিষ্ট বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থেকে নামলেন বাসবী। বাড়িটার মধ্যে ঢুকে ডাকলেন, ‘কল্যাণী-কল্যাণী।’ ভেতর থেকে হুড়মুড় করে বেরিয়ে এল মিহির, ‘ম্যাডাম আপনি! এখানে?’
‘তোমার কাছে আসিনি, কল্যাণীর কাছে এসেছি। সে কোথায়?’
‘আসুন ম্যাডাম, আসুন-আসুন ভেতরে আসুন। কী কাণ্ড!’
ঘরের ভেতর ঢুকে বাসবী দেখলেন একটি ছোটো মিষ্টি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কল্যাণী? কোন ক্লাসে পড়?’
কল্যাণী ঘাড় নাড়িয়ে বলল, ‘ক্লাস থ্রি-তে পড়ি।’ চারপাশটা তাকিয়ে দেখছিলেন বাসবী। একটা ছোটো টেবিলে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা কল্যাণীর বই-খাতা, পেন্সিল বক্স। সেটা একটু নেড়েচেড়ে দেখলেন, বললেন, ‘এগুলো কে কিনে দিয়েছে কল্যাণী?’
‘বাবা কিনে দিয়েছেন।’ ঘরের মধ্যে কল্যাণীর মা দাঁড়িয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসা করলেন বাসবী, ‘ওদের স্কুলে তো এখন ফিজ লাগে না, তাই না?’ মহিলাটি জবাব দিল, ‘টিউশন ফি বলে নেয় না। কিন্তু বিল্ডিং ফি, রিনোভেশন ফি বলে টাকা নিয়ে নেয়।’ মিহির একটা চেয়ার এনে বাসবীর সামনে রাখল। কল্যাণীর মা নিজের শাড়ির আঁচল দিয়েই মুছে দিল সেটা, ‘দয়া করে বসুন।’ বাসবী বসলেন, চারপাশটা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলেন। দেওয়ালের পেরেকের একটা হ্যাঙারে ঝুলছে জরি-টরি দেওয়া সাদা ধপধপে ছোটোদের রেডিমেড শাড়ি একটা। বাসবী কল্যাণীকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কার?’ কল্যাণী লাজুক হেসে বলল, ‘স্কুলের ফাংশনে আমি সরস্বতী ঠাকুর সেজেছিলাম। বাবা ওই পোশাকটা কিনে এনেছিল আমার জন্য।’
‘তুমি নাকি রথ টানবে বলে বাবার কাছে রথ চেয়েছিলে? এনে দেয়নি?’
‘বাবার ম্যাডাম বাবাকে টাকা দেয়নি তো, তাই বাবা...।’ মেয়েকে চুপ করতে বলল মিহির, ‘চুপ কর কুনু, চুপ।’ বাসবী নিজের হাসিটা গোপন করে বললেন, ‘মিহির, বাইরে আমার গাড়িতে কল্যাণীর রথ আর রথ সাজানোর জিনিস আছে, নিয়ে এসো দেখি চট করে। আরে, দাঁড়িয়ে রইলে কেন?’
...
বাড়ির সবাই মিলে রথ সাজাচ্ছে, বাসবীও। বাসবী বললেন, ‘তোমার নাম কী কুনু না কল্যাণী?’ ফিক করে হেসে কল্যাণী বলল, ‘দুটোই। আর মা আমাকে খুকি বলে ডাকে।’ বাসবী গলা নামিয়ে কল্যাণীর প্রায় কানে কানে বললেন, ‘আমার মা-ও আমাকে খুকি বলে ডাকতেন।’
রথ সাজিয়ে বাসবী উঠে পড়লেন। কল্যাণীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সন্ধেবেলা আসব। আর দুই খুকিতে মিলে খুব রথ টানব, কেমন?’ বাসবী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছিলেন, মিহির ম্যাডামকে এগিয়ে দিচ্ছিল, তাকে ম্যাডাম বললেন, ‘গাড়ি চালানোটা শিখে নেবে তুমি। টাকা যা লাগবে,
আমি দেব।’